পটলা আমরা বাড়ির মাচা থেকে ঝিঙে চুরি করতে এসেছিলো। মালবিকা তা দেখতে পেয়ে ঝাঁটা নিয়ে ওকে মারতে গেলো। আমি চীৎকার করে উঠলাম- "আহাঃ বেচারাকে ঝাঁটা মারবে কেন? বেচারাকে বরং চা খেতে ডাকো।"
পটলা কাঁচুমাচু হয়ে আমার সঙ্গে চা খেতে বসলে, আমি তাকে বললাম- "পটলা, তোর বড় দয়ার শরীর। লোকে হীরে চুরি করে, জহরত চুরি করে, বা ব্যাঙ্কের ১১ হাজার কোটি টাকা সিঁধ কাটে। আর তুই কিনা কেবল ঝিঙেতেই খুশি! তুই তো বুদ্ধের মতো অহিংস হয়ে গেলি রে! "
পটলা ঘাবড়ে গেলো। চুরি করতে এসে ধরা পড়ার পরেও, তার ভাগ্যে এতো গুণগান জুটবে, পটলা তা আশা করে নি। ও তাই ক্যাবলার মতো আমার দিকে চেয়ে রইলো। আমি বললাম- "শোন, আমার মাচার সব ঝিঙে তুই নিয়ে যা। কিন্তু বিনিময়ে দেশের একটা কাজ তুই করে দে। নীরব মোদী ১১ হাজার কোটি নিয়ে ভেগেছে। বিক্রম কোঠারি ৫ হাজার কোটি নিয়ে ভেগেছে। তুইও স্টেট ব্যাঙ্ক বা অন্য কোন ব্যাঙ্ক থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা নিয়ে ভেগে যা।"
পটলার চোখদুটো এবার জ্বল জ্বল করে জ্বলে উঠলো! সে বললো- ইচ্ছে কি আর হয় না গুরু? কিন্তু তা সম্ভব কি করে?
আমি বললাম- ব্যাপারটা খুবই সোজা। বড় বড় ন্যাতা বা সুন্দরী কিছু অভিনেত্রীর বুক ঘেঁসে কিছু ফটো তুলে নে। তারপর সেই ফটোগুলোকে বৈঠক খানায় টাঙিয়ে দে। বড় বড় লোকেদের সাথে ফটো তুলতে যদি নাও পারিস, তাতেও ক্ষতি নেই। আমাদের পাড়ার মিন্টুকে বলিস- সে ফটোশপ করে সব কিছু বানিয়ে দেবে। তুই-ই বল, "প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে গাঢ় করে জড়িয়ে ধরে, আমাদের চা-ওয়ালা জগাই চুমু খাচ্ছে"। সেই ফটোটা বানিয়েছে কে? আমাদের পাড়ার মিন্টু!
নরেন্দ্র মোদি বা অমিত শাহের সাথে বসে তুই হুঁকো টানছিস, বা মমতাদির সাথে বসে, চপ দিয়ে মুড়ি খাচ্ছিস আর লুডোর চাল চালছিস- সে সবও অনায়াসে বানিয়ে দেওয়া যায়। সেই সব ছবিগুলোকে বৈঠকখানায় টাঙিয়ে রেখে, স্টেট ব্যাংকের ম্যানেজারকে তোর বাড়িতে কয়েকদিন হুইস্কি খেতে ডাক।
পটলা সন্দিগ্ধ হয়ে উঠলো। সে জিজ্ঞেস করলো- ব্যাঙ্কের ম্যানেজাররা কি ক্যাবলা নাকি? আমি বললাম- ব্যাঙ্কের ম্যানেজাররা তার থেকেও আরো বেশি জঘন্য। যারা ক্যাবলা- তারা কিছু না জানলে, লোককে জিজ্ঞেস করে জেনে নেয়। কিন্তু ব্যাংকের সব চেয়ে উঁচু অফিসাররা ঘুষখোর আর চরিত্রহীন। হুইস্কি খাওয়ালে, বা মুখে ওদের একটু করে মুতে দিলে, ওরা তোর ঘরের সিন্দুকে, ১১ হাজার কোটি টাকা ঢুকিয়ে দিয়ে যাবে। পটলা ঠিক সাহস পেলো না। ও আমাকে বললো- দুদিন আমাকে ভাবতে সময় দাও গুরু।
দেখলে? উপযাচক হয়ে ভালো উপদেশ দিলে, চোরও তা গ্রহণ করে না!
যাক গে, তোমরা বলো তো- দেশের সব চেয়ে বড় ইয়ার্কি কি?
১. পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক ২০১৭ র মার্চ মাসে "Vigilance Excellence Award" পেয়েছে। কোন ব্যাঙ্ক যদি কোন আর্থিক ঘোটালার বিরুদ্ধে ভালো কাজ করে, তাহলে তাকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। "নীরব মোদির ১১ হাজার কোটি টাকা চুরি" সেই ভালো কাজের উদাহরণ।
২. যারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে তারা কেউই কিন্তু মুখ ঢেকে পালায় নি। তারা হয়তো এয়ারপোর্টে জামাই আদর পেয়েই পালিয়েছে।
৩. এর শেষ কোথায়? মালিয়া, সাহারা সুব্রত, নীরব মোদী, বিক্রম কোঠারি ইত্যাদি তো মিডিয়াতে আসা নমুনা। সত্যিকারের খুঁড়লে দেখা যাবে-কত হাজার মানুষ, ১৩০ কোটি ভারতীয়কে প্রতিদিন নিঃস্ব সর্ব্বশান্ত করছে। এর হিসেব কে রাখে?
৪. এদের পিছনে যে বড় বড় নেতাদের সৌজন্য আছে, তা অনুমান করতে তোমাকে আইনস্টাইন হওয়ার দরকার নেই।
৫. কমনওয়েলথ গেমস, ৩ জি, ৪ জি, সারদা, নারদা, আদর্শ ইত্যাদি হাজার হাজার কেলেঙ্কারী হচ্ছে। প্রতি রাজ্যেই তা হচ্ছে। অথচ কারও শাস্তি হচ্ছে না।
৬. দেশের আইন ব্যবস্থা প্রশাসন ইত্যাদি কি কাজ করছে? দেশের সিবিআই ইত্যাদি কি কাজ করছে?
৭. দেশের জনগণ- কেউ হিন্দু-মুসলমান লড়াইয়ে বুঁদ। কেউ সিপিএম-তৃণমূল লড়াইয়ে বুঁদ। জনগণ নিজেদের মধ্যে লড়াই করে খুনোখুনি করছে। পরস্পরের ঘরে আগুন লাগিয়ে দিচ্ছে। কাদের কথায় তা করছে? রাজনীতিক আর ধর্মগুরুদের কথায়। আর তাদের নেতারা বা ধর্মগুরুরা কি করছে? বাইরে তারা গান্ধীর চটি পরে আছে। আর ভেতরে ভেতরে বিদেশী ব্যাঙ্কে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করছে।
এই গোঁয়ার মূর্খ জনগণকে ভোঁদড় বললে কম বলা হয়, হুক্কাহুয়া ডাকা শেয়াল বললেও কম বলা হয়। তবুও এই জনগণ নিজেদের মধ্যে আবার লড়াই করবে। আবার এরা পরস্পরের ঘরে আগুন লাগাবে। আবার এরা চায়ের আড্ডায় তর্ক করবে, মারামারি করবে।
মূর্খ গোঁয়ার নেতাগুলো যদি এইভাবে তোমাদেরকে বুদ্ধু বানাতে পারে, তাহলে বুদ্ধিমান ইংরেজরা তোমাদেরকে দুশো বছর পা চাঁটাবে না?
চাঁটতে থাকো হে আমার প্রিয় ভারতবাসী চাঁটতে থাকো। তোমরা জন্ম জন্মান্তর ধরে কেবল চাঁটতেই জন্মেছো।
© অরুণ মাজী
Painting: Antono Vega
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem