বুড়ো হচ্ছি আমি। চুল পাকছে আমার। শুরু দাড়ি দিয়ে। কিন্তু তারপর গোঁফ পাকলো। তারপর চুল। মানে, নীচ থেকে উপর দিকে উঠছে সেই পরিপক্কতা। মানে উত্তরণ ঘটছে আমার।
সেই পরিপক্কতার সাথে সাথে; বুঝতে পারছি এমন অনেক রহস্য, যা আগে কখনো বুঝি নি আমি। যেমন ধরো, ছন্দ।
ছন্দ কেবল গান বা নাচে নেই। ছন্দ রয়েছে এই মহাবিশ্বের প্রতিটা জিনিসের মধ্যে। কেবল স্পর্শ যোগ্য বস্তু বা কণার মধ্যে নয়। স্পর্শ অযোগ্য মানুষের মনের মধ্যেও।
সমুদ্রের দিকে চেয়ে দেখো, তরঙ্গ উঠানামা করছে। ছন্দের মত। আলোর দিকে চেয়ে দেখো। আলোর মধ্যেও বিভিন্ন তরঙ্গের খেলা। আর তরঙ্গ মানেই উঠানামা। ছন্দ।
আলো আঁধার। সুখ দুঃখ। দিন রাত্রি। রোদ বৃষ্টি। জোয়ার ভাঁটা- এ সবই এক ছন্দ।
কিন্তু মানুষের মন? সেখানে? কখনো তুমি বেশ খুশি খুশি। আবার কখনো তুমি বেশ অবসাদগ্রস্ত মনমরা। এর অর্থ কি? এর অর্থ- এও এক উঠানামা। অর্থাৎ তরঙ্গ। অর্থাৎ ছন্দ। কখনো লিখতে ভালো লাগে আমার। কখনো লিখতে ভালো লাগে না আমার। এও এক উঠানামা। অর্থাৎ তরঙ্গ তথা ছন্দ। কখনো ইচ্ছে হয়, মালবিকার ঠাম্মার পান খাওয়া গালটা আদর করে টিপে দিই আমি। আবার কখনো কখনো ইচ্ছে হয়, মালবিকার ঠাম্মার পাকা ধানে মই দিয়ে দিই আমি। এও এক উঠানামা। অর্থাৎ তরঙ্গ তথা ছন্দ।
এর অর্থ কি? অর্থ আর কিছু নয়- চুলে পাক ধরেছে আমার।
© অরুণ মাজী
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem