গল্পটা আগেও আপনাদেরকে একবার বলেছি। আমার এক জেঠু, হেমন্ত মুখার্জীর সাথে তার বাড়িতে দেখা করতে গেছিলেন। হেমন্তবাবু তখন রেওয়াজ করছিলেন। তাই ড্রয়িং রুমে অপেক্ষা করতে থাকলেন উনি।
কিছুক্ষণ পর হেমন্তবাবু এলেন। কিন্তু জেঠুর সঙ্গে কথা চলাকালীন, উনি গানের সুরে কথা বলতে থাকলেন। গানের সুরে কথা বলছেন, অথচ হেমন্তবাবুর তা খেয়াল হয় নি।
একেই বলে সাধনা। সাধনার জগতে তন্ময় হয়ে হারিয়ে যাওয়া। যে কোন সাধনা আপনি যদি পবিত্রভাবে করেন, তো তার ফল আপনি ১০০% নিশ্চয়তার সাথে পাবেন। পবিত্র শব্দ ব্যবহার করলাম কেন? তার কারণ, এই সাধনার মধ্যে কোন ফাঁকি নেই। জোচ্চোরি নেই। এমনকি নিজেকেও ঠকাচ্ছে না সে। এমন সৎ একনিষ্ঠ বিশুদ্ধ পবিত্র সাধনা।
মানুষ যদি তেমন করে শান্তির সাধনা করে, তো জীবনে শান্তি সে পাবে না? নিশ্চয় পাবে। ১০০% নিশ্চয়তার সাথে পাবে। অন্যের প্রতি ঈর্ষায় ভুগবো, অথচ নিজ মনে শান্তি চাইবো; তা ঘটবে কি? অন্য জাতি ধর্ম সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি ঘৃণা বিদ্বেষ পোষণ করবো, অথচ নিজ জীবনে শান্তি চাইবো; তা ঘটবে কি? প্রতিবেশীর ছেলেকে ঘৃণা করবো, অথচ নিজের ছেলের প্রতি ভালোবাসা দেখাবো; তো নিজের ছেলের প্রতি সত্যিকারের ভালোবাসা দেখাতে পারবো কি? না, তা পারবো না।
যে ভালোবাসে, সে সবাইকে ভালোবাসে। নিজের লোক না হলেও, সে ভালোবাসে। কারণ, ভালোবাসাই তার হৃদয়ের গুণ। গোলাপ কি পারবে, তোমাকে সুগন্ধ দিতে; কিন্তু আমাকে সুগন্ধ না দিতে? না, সে পারবে না। কারণ, সুগন্ধ দিয়ে তার হৃদয় তৈরী। সে তাই, সবাইকেই সুগন্ধ দেবে।
তেমনি, যে ঘৃণা করে, সে সবাইকে ঘৃণা করবে। কখনো কখনো সে ভালোবাসার আড়ালে ঘৃণা করবে। ভালোবাসা তার অভিনয়। ভালোবাসা তার আত্মার পরিচয় নয়। আপনার যে বন্ধু, অন্য বন্ধুর বিরুদ্ধে খারাপ কথা বলে; সে আড়ালে, আপনার বিরুদ্ধেও খারাপ কথা বলবে। কারণ, এই কাপুরুষত্ব আর চৌর্যবৃত্তিই তার আসল পরিচয়।
শান্তির সাধনা করুন। সত্যিকারের শান্তির সাধনা। সাধু বা মৌলবী সেজে নয়। মন থেকে ঈর্ষা হিংসা বিদ্বেষ মুছে ফেলে।
আপনারা ভালো থাকুন। ডাঃ অরুন মাজী /সিডনি
© অরুণ মাজী
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem