পথের ক্লান্তি ভুলে
চোখ মেলে শুয়ে আছি আমি
একাকী,
স্বপ্নের আঙিনায়।
নাম আমার
উলঙ্গ উন্মাদ কবি।
সবুজ যৌবন আমার
সাত রঙা রঙধনু আঁকে
আগামীর অনন্ত নীলাকাশ বুকে।
পতিতার পরিত্যক্ত নদীতে
প্রত্যক্ষ করেছি আমি
পূতঃসলিলা প্রিয় প্রবাহমানা গঙ্গা।
অনার্যের আঙিনায়
আর্য শিশুর উচ্চ কলধ্বনি।
মুচি মেথর ধীবরের চোখে
মঙ্গল বৃহস্পতির বর্ণালী বলয়।
মুমূর্ষু বৃদ্ধের ওষ্ঠে
অস্তমিত যৌবনের অকাল সূর্যোদয়।
ক্লান্ত ক্লিষ্ট শিশুর আর্তনাদে
অনাস্বাদিত শৈশবের
সোনালী সুগন্ধ।
নাম আমার
উলঙ্গ উন্মাদ কবি।
ধুয়েছি দেহ মন আত্মা আমার
বিশুদ্ধ নিষ্ঠা ভরে
বর্ণময় বিশুদ্ধ পাপে।
কোন অভিলাষে হে অদৃশ্য ঈশ্বর
কোন অভিলাষে?
সত্য পুণ্যবাণ হওয়ার
অনন্ত অভিলাষ
আমার অন্তহীন ইচ্ছায়।
মরণশীল ভঙ্গুর আমি তুচ্ছ নই
শূদ্র চণ্ডাল আমি অস্পৃশ্য নই
মূর্খ দরিদ্র্য আমি অপাঙতেয় নই।
অমৃত অভিলাষ আমার
ক্ষুদ্র নগ্ন বুকে।
গোপনে গোপনে
বেসেছি ভালো আমি-
সবুজ বাংলার
গোধূলি রাঙা রোদ
পৌষ বেলার মাঠ
ফাগুন বেলার রঙ
ঘাসের সবুজ আঁচল
আম্র কাননের মম সুগন্ধ।
পথের ক্লান্তি ভুলে
চোখ মেলে শুয়ে আছি আমি
একাকী,
স্বপ্নের আঙিনায়।
কার চুলের সুবাস
আজ
স্বপ্নে ফিরে আসে?
কার নিতম্বে দেখেছি আমি
জীবনের আলো?
চোখে, আমার অকাল মৃত্যু?
সে কুঁড়ি আজ
সদ্য প্রস্ফুটিত যৌবন স্নাত গোলাপ।
লজ্জা পায় আমাকে।
তবুও লজ্জা দিয়ে লজ্জা ঢেকে
আড়াল থেকে দেখে আমাকে।
নাম আমার উলঙ্গ
উন্মাদ কবি।
কিন্তু কুহেলিকা আচ্ছন্ন সেই নারী
কি নামে সে
ডাকে আমাকে?
নাহঃ বলবো না।
কাউকে কখনো বলবো না।
সে নামে কেবল
তার অধিকার।
তার।
কেবলই তার।
© অরুণ মাজী
Painting: JWG
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem