এতো ডাকি, তবু সাড়া নেই।
এতো কোলাহল মাঝে, সবই নিঃস্তব্ধ
এতো জনারণ্য মাঝে, সবই জনশূণ্য
এতো লম্ফঝম্ফ মাঝে, সবই অসাড়।
অগণিত উৎসুক চোখে
হা হা করে হাসছে অনন্ত এক নির্লিপ্ততা।
প্রস্ফুটিত হাস্যময় ঠোঁটে
হাসছে ক্ষুধার্ত সাহারার এক মরু হিংস্রতা।
সবাই সর্ব্বদা হাত বাড়িয়ে
অথচ আলিঙ্গন যে কি, কেউ জানে না তা।
হটাৎ হটাৎ করে
জীবাশ্ম খুঁড়ে জেগে উঠে ইতিহাস।
বিদ্রূপের ভঙ্গিতে, নাকে সুড়সুড়ি দিয়ে
মানুষের হুঁশ পরীক্ষা করে সে।
অথচ জীবন্মৃত মানুষ?
ঘুণাক্ষরেও তা টের পায় না।
উত্তরসূরীকে
নপুংসকের জীবন যাপন করতে দেখে-
দেওয়ালে টাঙানো পিতা প্রপিতামহ
লজ্জায় খসে পড়ে
বাঁধানো শোভিত দেওয়াল থেকে।
আভরণ ভরা মানুষকে
এমন উলঙ্গ নিরাভরণ দেখে
জুঁই জবা রজনীগন্ধা
রোজই অনশন সহ আত্মহত্যা করে।
অথচ অর্ধমৃত মানুষ?
স্বপ্নেও তা টের পায় না।
রোজই চোখের সামনে
মুষ্টিবদ্ধ হাত উঁচিয়ে মিছিল করে হাঁটে
মানুষের মতো দেখতে
এক পৃথিবী উলঙ্গ জানোয়ার।
মানুষ ভেবে কত ডাকি তাদের!
কিন্তু সাড়া নেই।
আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে কেবল প্রতিধ্বনিত হয়
সহস্র জানোয়ার কণ্ঠে
সহস্র হিংস্র চীৎকার।
অপেক্ষায় অপেক্ষায়
আজও সন্ধ্যে পেরিয়ে রাত হয়ে গেলো।
আজও ডাকলাম-
"মানুষ বাড়ি আছো? "
সাড়া নেই
আজও সাড়া নেই।
পৃথিবীময় কি কেবল জানোয়ার?
কোন মানুষ নেই?
© অরুণ মাজী
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem