কে ও?
জানি না।
নিবাস কোথায়?
পিতৃ পরিচয় কি?
জানি না। জানি না।
আমি জানি না।
এ পৃথিবীর উলঙ্গ উন্মাদ অপাঙতেয় অনাসৃষ্টি যে
তার খবর রাখে কে?
শান্ত বটবৃক্ষ
মৃদুমন্দ সমীরণ
গোধূলির স্বর্ণচ্ছটা
আর বটবৃক্ষতলে উপবিষ্ট
উলঙ্গ অনাসৃষ্টি এক পুরুষ।
কোথা থেকে
এক পাখি উড়ে আসে কাছে।
উন্মাদের চোখে ঝিলিক।
শতচ্ছিন্ন কাপড়ের পুঁটলি থেকে
বের এক করে সে
এক পিস্ ঝলসানো রুটি।
তার আহারের অবশিষ্টাংশ হবে।
হাতে রুটি নিয়ে
কোমল সুরে ডাকে সে-
"আয় আয় কাছে আয়
দূরে কেন?
তোর জন্যই তো বাঁচিয়ে রেখেছি এটা।"
মনে হলো
হাতের মধ্যে হৃদয়ের টুকরো রেখে
অভুক্তকে আহ্বান করছে সে।
মৃদু বাতাস নেচে উঠে হটাৎ
বটবৃক্ষ স্বস্তির শ্বাস ফেলে এক
গোধূলির আলো তারস্বরে চীৎকার করে উঠে-
"শূন্য হয় নি গো শূন্য হয় নি
এ পৃথিবী এখনো প্রেম শূন্য হয় নি।"
অদূরে বোমার শব্দ
কালো ধোঁয়া
মুণ্ডহীন শিশুর নিথর দেহ
নারী যোনির আর্তনাদ
আর স্বর্গ থেকে নরক পর্যন্ত বিস্তৃত
এক মানব মিছিল।
তাদের মুখে স্লোগান
"ভোট দিন। ভোট দিন।
ঈশ্বর চিহ্নে ভোট দিন।"
ওদের আমি চিনি
ওরা এ পৃথিবীর
শ্রদ্ধেয় শিক্ষিত ভদ্রলোক।
আমার সহোদর।
চোখে জল আসে আমার।
দগ্ধ হৃদয়ে
ঈশ্বরের কাছে আকুতি করি-
"হে ঈশ্বর
আমাকে উলঙ্গ উন্মাদ করলে না কেন? "
© অরুণ মাজী
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem