গামছার খুঁটে মুড়ি চানাচুর বেঁধে
ক্যাওড়াতলার শ্মশান ডিঙিয়ে
শিস দিয়ে গাইতে গাইতে
হেঁটে যায়
শান্তি।
পথের ঐ কুকুরটা
নর্দমা ঢাকা বেওয়ারিশ বিধবা লাশকে
ছুঁয়েও ছুঁলো না;
শুঁকে গেলো শুধু।
কইরে জগাই
সর্বত্র এতো উন্নয়ন
তুই একটু "উন্নয়ন" গাইতে পারিস না?
সাধে কি আর
কুকুরের বাচ্চা মানুষ
বলি তোকে?
ভুরভুরে আতর গন্ধ মেখে
হোটেলের দরজায়
ছিটকিনি দেয় দাপুটে এক নেতা।
কিছুক্ষণ পর
সদ্য কৈশোর পেরোনো উঠতি নায়িকা
গর্ভে, ধ্বংসের বীজ নিয়ে
হেসে হেসে বেরোলো।
আহাঃ লিপিস্টিক মাখা
সুন্দরী ঐ সাংবাদিকের
হাসি আর ধরে না!
যেন ক্ষুধার্ত চিতা পেয়েছে
সুস্বাদু কচি মাংসের ঘ্রাণ।
পরদিন
কাগজে, মুখরোচক গল্পের
উলঙ্গ উদ্দাম চড়ুইভাতি।
গিলে খাচ্ছে পুরুষ।
উঁকি মেরে দেখছে শিশু।
কাঁথার নীচে লুকিয়ে রাখছে নারী-
বাচ্চাটা ঘুমিয়ে গেলেই
তিনবার পড়বে সে।
কইরে হারামি জগাই,
দেখলি?
আজ কোন লাশ পড়েছে কি না?
কি দিনকাল পড়লো মাইরি!
শালারা কেউ মরতে চায় না।
ভোট এসে গেলো
অথচ একটাও লাশ পড়লো না?
লাশবাজি না করলে
আমাদেরকে নেতা বলে কেউ মানবে?
পড়েছে?
তো হারামজাদা বলিস নি কেন আগে?
চল চল। পল্টু মন্টুকেও সঙ্গে নে।
একটু স্লোগান দিয়ে আসি।
দেখো তো পেন্তীর মা
মানুষের চরিত্রের ঘড়িতে
কটা বাজে এখন?
বারোটা?
ঠিক বলছো?
অবশ্য পোড়া পোড়া গন্ধ শুঁকে
আমারও তাই মনে হচ্ছিলো?
এদিকে,
সিন্দুক থেকে ফুঁ দিয়ে ঝেড়ে
নতুন নতুন হুঁকোতে
আগুন দিচ্ছে মৃত্যু।
© অরুণ মাজী
Painting: Atroshenko
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem