দুরন্ত গতিতে ছুটছি।
সুখের আকাশে চোখ রেখে আমি
হন হন করে ছুটছি।
অথচ, যে মাটিতে
পা রেখে ছুটছি আমি
তাকে পূজার সময় নেই আমার।
যে মাতৃগর্ভের অকুন্ঠ দানে
আমার জন্ম প্রতিপালন
তাকে ভক্তির সময় নেই আমার।
যে বান্ধবের সাহসে ভর করে
আমার অরণ্য যাত্রা
তাকে শ্রদ্ধার সময় নেই আমার।
মাটি বলে কি, ক্ষোভ নেই তার?
মাতৃগর্ভ বলে কি, অভিমান নেই তার?
বান্ধব বলে কি, ক্রোধ নেই তার?
মাটি, সেও সরে যায়
অপমানে।
মা, সেও সরে যায়
অভিমানে।
বান্ধব, সেও সরে যায়
অসম্মানে।
তারপর
আমার জীবন-আকাশ একদিন
মেঘে ঢেকে যায়।
আসে প্রবল ঝড়, মুষলধারে বৃষ্টি,
বজ্রের হাড়কাঁপানো হুঙ্কার।
ভীত সন্ত্রস্ত আমি
কম্পিত কণ্ঠে আর্তনাদ করে উঠি-
কেউ কি আছো? কেউ কি আছো তোমরা?
সাহায্য করবে?
একটুসাহায্য করবে আমাকে?
নাহঃ নেই। কেউ কথাও নেই।
দুঃখে ক্ষোভে যন্ত্রণায়
ঈশ্বরের কাছে নালিশ করি আমি-
"হে একচোখা ঈশ্বর,
তুমি এতো নিষ্ঠুর কেন?
জীবন এতো যন্ত্রণা কেন?
আমি এতো
নিঃসঙ্গ নিপীড়িত অসহায় কেন? "
অথচ,
কখনো কি ভাবি আমি-
একাকী হতে চেয়েই
নিঃসঙ্গ একাকী হয়েছি আমি?
কবে বুঝবো আমি
এ মহাবিশ্বের
সবার সাথে, সবকিছুর সাথে
নাড়ির যোগ আমার?
কবে বুঝবো আমি
নাড়ির যোগ ছিন্ন করার অর্থ
আত্মহত্যা?
গর্ভস্থ শিশু কি পারে
নাড়ির যোগ ছিন্ন করে বেঁচে থাকতে?
মহাবিশ্ব মাতার গর্ভে
এখন গর্ভস্থ আমি।
আমি কি পারি
আমার নাড়ির যোগ ছিন্ন করতে?
© অরুণ মাজী
Painting: John William Godward
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem