শোনা যায়- মধ্যযুগে অসংখ্য ক্রীতদাস / কয়েদী দীর্ঘ সময় ধরে কারার ঘন অন্ধকারে বন্দী থাকতো। দীর্ঘ বন্দী জীবন শেষে তারা যখন মুক্তি পেতো, তারা নাকি আর কোন কিছু দেখতে পেতো না। অরুণ মাজীর ব্যাখ্যা হলো- দীর্ঘ সময় অন্ধকারে কাটানোর ফলে, তাদের চোখ আর মস্তিষ্কের স্নায়ু নষ্ট হয়ে যেতো। ফলে চির দিনের জন্য তারা অন্ধ হয়ে যেতো। (Reference- লামার্কের USE and DISUSE Theory)
মানুষ যখন শিক্ষা সভ্যতা সংস্কৃতি আর চেতনার ঘন অন্ধকারে দীর্ঘ জীবন অতিবাহিত করে, মানুষ তখন মানসিক ও চেতনাগত ভাবে অন্ধ কাঙাল হয়ে যায়। দীর্ঘ যুগ ধরে উঁচু চিন্তা না করার ফলে, মানুষের উঁচু চিন্তা করার ক্ষমতা হারিয়ে যায়। (Reference- লামার্কের USE and DISUSE Theory)
কোন মানুষকে যদি দীর্ঘ জীবন ধরে বলা হয়, তুই একটা ভোঁদড়; তাহলে বেশ কয়েক বছর পর সেই মানুষটি নিজেকে ভোঁদড় বলে ভাবতে শুরু করবে। অন্যদিকে কোন মানুষকে যদি দীর্ঘ জীবন ধরে বলা হয়, তুই এক মহান; তাহলে বেশ কয়েক বছর পর সেই মানুষটি নিজেকে মহান বলে ভাবতে শুরু করবে। এ হলো অরুণ মাজীর নিজস্ব Exposure and Impression Theory.
এই Theory-র প্রয়োগ হলো আজকের যুগের মার্কেটিং ক্যাম্পেন। মমতা ব্যানার্জী দুশো তলা উঁচু ফটো রাস্তার কোনে কোনে টাঙিয়ে রেখেছেন কেন? কারন- তুমি যদি কোন এক Idea বারবার মানুষের অন্তরে ঠুকতে থাকো (Exposure)তাহলে মানুষ একদিন সেই Idea বিশ্বাস করতে শুরু করবে (Impression) ।
বিধান রায়ের পর, বাঙালীর কোন শিল্প গঠন নেই। হেমন্ত মান্না দে যুগের পর বাঙালীর আর কোন গায়ক নেই। উত্তম সুচিত্রা যুগের পর বাঙালীর কোন নায়ক/নায়িকা নেই। রবি নজরুল যুগের পর বাঙালীর কোন লেখক নেই। সত্যেন বোস জগদীশ বসুর পর বাঙালীর কোন বিজ্ঞান চেতনা নেই। কেন?
বিধান রায়ের পর থেকে বাংলাতে যে অন্ধকার যুগের সূচনা হয়েছে, তা ধীরে ধীরে গাঢ় হচ্ছিলো। আর মমতা ব্যানার্জীর ৮ বছরে, সেই অন্ধকার এক লাফে আট কোটি গুণ বেশি গাঢ় হলো। বাংলার এই দীর্ঘ অন্ধকারের ফল?
শিক্ষিত, এমনকি হার্ভার্ড পাশ করা বাঙ্গালীরাও, কাদা ছোঁড়াছুঁড়িকে তাদের উঁচু রাজনৈতিক চর্চা মনে করে। তাই আজকের বাংলায়- শকুন যাচ্ছে, তো নেকড়ে ক্ষমতায় আসছে। নেকড়ে যাচ্ছে, তো রাক্ষস ক্ষমতায় আসছে। এরা সকলেই বাংলাকে ক্রমশঃ আরও ঘন অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। কেউ ভালো নয়। এক জন ন্যাংটো অন্যজনের নংকুর দৈর্ঘ্য প্রস্থ উচ্চতা মাপছে।
আজ আমি তোমাদেরকে জিজ্ঞেস করলাম- বাংলায় আগামী নতুন সরকারের কাছ থেকে তোমরা কি চাও? তোমরা সকলেই তোমাদের অন্ধকার আর যন্ত্রণার কথা শোনালে। কিন্তু কেউই তোমরা উৎসাহের সংগে বললে না- "আমরা বিশ্ব শ্রেষ্ঠ বাংলা চাই।" কেন বললে না?
মানুষ যখন শিক্ষা সভ্যতা সংস্কৃতি আর চেতনার ঘন অন্ধকারে দীর্ঘ জীবন অতিবাহিত করে, মানুষ তখন মানসিক ও চেতনাগত ভাবে অন্ধ কাঙাল হয়ে যায়। দীর্ঘ যুগ ধরে উঁচু চিন্তা না করার ফলে, বাঙালীর উঁচু চিন্তা করার ক্ষমতা হারিয়ে গেছে। এখন তারা নিকৃষ্ট চিন্তাকেই তাদের সন্মান মনে করে। (Reference- লামার্কের USE and DISUSE Theory)।
অরুণ মাজীকে তোমরা ঘৃণা করো। সাধারণ মানুষ বলে, তাকে তোমরা খাটো চোখে দেখো। তা দেখো। কিন্তু একটা কথা শুনে রাখো- ৯ কোটি বাঙালীর মধ্যে, কেবল অরুণ মাজীই পারে, নরকগ্রস্ত এই বাংলাকে বিশ্বশ্রেষ্ঠ করতে। ১০০% নিশ্চিৎ। অরুণ মাজীর জন্য তোমরা লড়বে না তো, তোমাদের ৯ কোটি মানুষের ক্ষয় আর লোপ অনিবার্য।
© অরুণ মাজী
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem
চিরকালীন সত্য