মাঝে মাঝে জাগরণ হয় আমার।
জেগে উঠি আমি
কুহেলিকা ঢাকা
অন্তরের গাঢ় অন্ধকার থেকে।
ওহে ঈশ্বর
তুমিই বলো না
কাঁহাতক আর আঁধারে অন্ধ থাকা?
ইচ্ছে কি আমার হয় না
মানুষ হয়ে একটু মানুষের মতো জাগতে?
এইমাত্র বস্তির অনাহার ক্লিষ্ট এক শিশু
আমাকে ধার দিয়ে গেলো
তার কাজল চোখের আলো।
দেখিয়ে গেলো পথ-
আহাঃ এমনও সুখ আছে এ পৃথিবীতে?
নিঃস্ব হয়েও এতো হাসি হাসা যায়?
ক্ষুধার্ত হয়েও এতো আলো ধার দেওয়া যায়?
ময়লা গায়েও এতো উজ্জ্বল হওয়া যায়?
ছোট্ট শিশুর একমুঠো হাসি
তাও কিনা পারে এক পৃথিবী মানুষের ঘুম ভাঙাতে?
বেশ কয়েক বছর আগে
কৃষ্ণকায়া সাঁওতালী এক তরুণী
প্রথম ভাঙিয়েছিলো ঘুম।
আমি তখন নিমজ্জিত
"আত্মমগ্ন" গুহার গাঢ় অন্ধকারে।
তখন কিছুই দেখতে পাই না
নিজেকেও না। পৃথিবীকেও না।
কেবল হাসি দিয়ে
হৃৎপিণ্ডে সুড়সুড়ি কেটে গেলো সে।
বুকের সদ্য প্রস্ফুটিত গোলাপ দিয়ে
আমার হৃদয় বাগান ভরে গেলো সে।
উন্মুক্ত নাভির আলো দিয়ে
এ পৃথিবীর সাতরঙা রঙ দেখিয়ে গেলো সে।
কালো চোখের আলো দিয়ে
দুঃখের মাঝে সুখের পথ এঁকে গেলো সে।
আহাঃ এমনও সুখ আছে এ জীবনে?
দুঃখী হয়েও এতো সুখী হওয়া যায়?
দরিদ্র্য কৃষ্ণকায়া হয়েও
ঊর্বশী সম সুন্দরী হওয়া যায়?
আগন্তুক হয়েও
অপরিচিত এক পুরুষকে এতো ভালোবাসা যায়?
শিক্ষাহীন হয়েও
কলেজে পড়া এক যুবককে
জীবনের পথ দেখানো যায়?
এতো আলো চারিদিকে
অথচ আমি এতো
অন্ধকারে কেন?
মাঝে মাঝে জাগরণ হয় আমার।
জেগে উঠি আমি
কুহেলিকা ঢাকা
অন্তরের গাঢ় অন্ধকার থেকে।
© অরুণ মাজী
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem