ভালোবাসা কখনো মরে না
ভালোবাসাকে মেরে ফেলা হয়।
রগড়ে রগড়ে কষ্ট দিয়ে
অনাহার অর্দ্ধাহারে
বিষ খাইয়ে
গলা টিপে
আঘাতে আঘাতে জর্জরিত করে
গোপনে ষড়যন্ত্র করে
অবিশ্বাস অবজ্ঞায় অনাদরে।
বৈশালী সেদিন
বিষের কৌটো নিয়ে
দরজায় খিল লাগিয়েছিলো।
বিষটা মুখে দেবে দেবে
অমনি দরজায় আঘাত-
"কে, কে এমন সময়? "
"আমি বিবেক, বৈশালী।
খোলো, দরজাটা খোলো প্লিজ! "
"কেন, এতো তাড়াহুড়ো কেন? "
"জানো বৈশালী
তোমাকে আগে বলিনি!
আসলে তোমাকে
কখনো তো কিছু দিতে পারি নি।
তাই ভাবছিলাম
তোমাকে একটা সারপ্রাইজ দেবো।
সন্ধ্যেবেলা অফিসের ছুটি হলে
হাড়াভাঙ্গা খেটেছি হোটেলে।
দেখো দেখো
আজ তোমার জন্য
সুন্দর একটা নেকলেস কিনেছি।
দরজাটা খোলো
তোমাকে এখুনি দেখাচ্ছি।"
বিষের কৌটো লুকিয়ে
দরজা খুলে বৈশালী।
নেকলেসের বাক্স খুলে
হাসি মুখে বিবেক দাঁড়িয়ে।
হটাৎই মনে পড়ে বৈশালীর-
এক বছর আগে
গড়িয়াহাটে গহনার দোকানে
এমনই একটা নেকলেস
তন্ময় হয়ে দেখেছিলো সে।
বিবেক তাকে তাড়া লাগিয়ে
সেখান থেকে সরিয়ে দিয়েছিলো তখন।
বৈশালী তা কবেই ভুলেই গেছে।
কিন্তু বিবেক তা ভুলে নি।
চোখে জল আসে বৈশালীর।
"নাহঃ ভালোবাসা তাহলে মরে নি।
মরেছিলো আমার
ধৈর্য্য আর বিশ্বাস।"
© অরুণ মাজী
Painting: John Willian Godward
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem