অরুণ মাজীর শিশু গল্পরোঁদা ভূঁত সোঁদা ভূঁত
- - - - - - - - - - - - - -
রোঁদা ভূত আর সোঁদা ভূত- দুই ভাই। এদের দুই ভাইয়ে মিলও খুব। আবার ঝগড়াও খুব। এরা মারামারিও করে। আবার চাটাচাটিও করে।
সোঁদা একদিন বললো- জানিস রোঁদা, তোঁকে আঁমি বেঁশি ভাঁলোবাসি।
তো রোঁদা বললো ধ্যাৎ, তুঁই আঁমার ভাঁই, তুঁই ছোঁট, তোঁকে আঁমি বেঁশি ভাঁলোবাসি।
সোঁদা বললো মিথ্যে কঁথা। তুঁই বঁড়ো, তোঁকে আঁমি বেঁশি ভাঁলোবাসি।
রোঁদা বড়। সে হার মানবে কেন? সে তখন বললো-
ধ্যাৎ, তুঁই ছোঁট্ট, তুঁই কিঁছু জাঁনিস না। তোঁকে আঁমি বেঁশি ভাঁলোবাসি।
ব্যাস। এই নিয়ে দুই ভাইয়ে তুমুল তর্ক ঝগড়া হাতাহাতি চুলোচুলি আর মারামারি।
তো এই ঝগড়া মিটবে কি করে? দুই ভাইয়ে স্থির করলো, তারা নঁগেন ভূতের কাছে যাবে। নঁগেন ভূত, ভূত পাড়ার মোড়ল। খুব বুদ্ধি। সব সমস্যার সমাধান করে দেয়।
রোঁদা আর সোঁদা তখন নঁগেন ভূতকে গিয়ে বললো-
নঁগেন কাঁকা, নঁগেন কাঁকা; তুঁমি আঁমাদের ঝঁগড়া মিঁটিয়ে দেঁবে?
নঁগেন ভূঁত বললো- কেঁন মিঁটাবো না? তোঁমাদের সঁমস্যাটা বঁলো, এঁখুনি মিঁটিয়ে দিঁচ্ছি।
দুই ভাইয়ের সমস্যা শুনে নঁগেন ভূত বললো-
এঁ আঁর এঁমন কিঁ সঁমস্যা? যঁখন আঁমি মাঁনুষ ছিঁলাম, কঁলকাঁতা হাঁইকোর্টে এঁমন সঁমস্যা আঁমি অঁনেক মিঁটিয়েছি। তোঁমরা এঁক কাঁজ কঁরো। এঁকে অঁন্যের গাঁলে জোঁরে জোঁরে থাঁপ্পড় মাঁরো। যেঁ যঁত বেঁশি থাঁপ্পড় সঁইতে পাঁরবে, সেঁ তঁত বেঁশি ভাঁলোবাঁসে।
রোঁদা বঁললো-
সোঁদা, তুঁই জোঁরে জোঁরে থাঁপ্পড় মাঁর আঁমাঁকে।
থাপ্পড় খেতে খেতে রোঁদা বললো- হঁচ্ছে নাঁ। আঁরো জোঁরে মাঁর আঁমাঁকে। আঁরো জোঁরে।
সোঁদা বঁললো-
তুঁইও, আঁরো জোঁরে জোঁরে থাঁপ্পড় মাঁর আঁমাঁকে।
থাপ্পড় খেতে খেতে সোঁদা বললো- হঁচ্ছে নাঁ। মাঁর আঁমাঁকে। আঁরো জোঁরে।
থাপ্পড় খেতে খেতে দুই ভাই কাঁদতে শুরু করলো। তবুও তারা থামলো না। একে অপরকে বলতে লাগলো-
হঁচ্ছে নাঁ রেঁ। আঁরো জোঁরে মাঁর আঁমাঁকে। আঁরো জোঁরে।
এই দুই মূর্খ অথচ সুন্দর ভাইয়ের, পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা দেখে, নঁগেন ভূতের চোখে জল এলো। নঁগেন ভূত বললো-
থাঁমো, তোঁমরা। তোঁমরা দুঁজনেই জঁয়ী। তোঁমরা দুঁজন পঁরস্পরকে সঁত্যিই দাঁরুন ভাঁলোবাঁসো।
© অরুণ মাজী
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem