মানুষ যখন নিজে থামতে জানে না, তখন মহাকাল আসে তাকে থামিয়ে দিতে। মানুষ যখন নিজে দেখতে চায় না, তখন মহাকাল আসে মানুষকে দেখতে বাধ্য করতে। মানুষ যখন নিজে ভাবতে চায় না, তখন মহাকাল আসে মানুষকে ভাবতে বাধ্য করতে।
আমি বিজ্ঞানের ছাত্র। আমি প্রথা শাস্ত্র পড়ি কিন্তু পরখ করি। যা কিছু যুক্তি বা বিজ্ঞানের দাঁড়িপাল্লায় টিকে না, তাকে আমি গ্রহণ করি না।
তোমাদের প্রশ্ন- অরুণ মাজী তাহলে মহাকালে বিশ্বাস করে কেন?
আমার চোখে মহাকাল কি? মহাকাল হলো এমন এক শক্তি (Force)যা এই সৃষ্টিকে নিয়ন্ত্রণ রক্ষা আর পালন করছে। এই পালন আর রক্ষার জন্য এই মহাবিশ্বে প্রতিমুহূর্তে ভাঙা গড়া খেলা চলছে। নক্ষত্র ধ্বংস হচ্ছে। আবার সৃষ্টিও হচ্ছে।
বিজ্ঞানীরা একে "টাইম স্পেস গ্রাভিটি কোয়ান্টাম ফোর্স ইত্যাদি" দিয়ে জানবার আর বোঝার চেষ্টা করছে। আর যারা অলস, তারা এই শক্তির নাম দিয়েছে ঈশ্বর/আল্লাহ/দি ফাদার ইত্যাদি।
এই শক্তি যে আছে, তা আমি বিশ্বাস করি। এই শক্তির ব্যাপ্তি আর ক্ষমতা এতো বিশাল মানুষ কখনো তা বুঝতে পারবে না। হয়তো তার একটু আন্দাজ করতে পারবে।
মহামারী সুনামি অগ্ন্যুৎপাত ভূকম্প এমনকি এই পৃথিবীর লয়- সব কিছুই ঘটবে। কেন ঘটবে? এই সৃষ্টির নিয়ন্ত্রণ রক্ষা আর পালনের জন্য। কখন ঘটবে? কেউ জানে না। তবে তা ঘটবেই।
যা অবশ্যাম্ভাবী, তাকে নিয়ে মানুষের জ্ঞান আর সচেতনতা দরকার। তাতে তোমার লাভ হবে। কিন্তু তাকে নিয়ে ভয় বা উদ্বেগ করলে, লাভের চেয়ে ক্ষতি অনেক বেশি।
এজন্যই মানুষকে থামতে জানতে হবে। এজন্যই মানুষকে দেখতে হবে। ভাবতে হবে। মানুষ পাগলের মতো ছুটছে। পাগলের মতো অর্থ আর সম্পদ বাড়াচ্ছে। পাগলের মতো "চাই চাই" প্রতিযোগিতায় লড়াই করছে। কিন্তু মানুষ তা করছে কেন? সে কি স্থির হয়ে কখনো তা ভেবেছে? ভাবে নি।
করোনা এখন তোমাকে কি বলছে? তুমি বাড়ি গাড়ি সম্পদ গড়তে চাও তো গড়ো। কিন্তু আমি তোমার জীবনটাই কেড়ে নেবো। তো তুমি যে এতো ছুটোছুটি মারামারি চুরি ডাকাতি ঠগবাজি করলে, তা করলে কেন? কেন?
ভাবো, তুমি এই সুবজ সোনালী সুন্দর পৃথিবীতে জন্মেছো, কিন্তু তার রূপ রস গন্ধ স্পর্শ এখনো উপভোগ করো নি। কবে তুমি পূর্ণিমার চাঁদ দেখে গুনগুন করে গান গেয়েছিলে? শেষবার তোমার কৈশোর বেলায়। কবে তুমি ভোরের নতুন সূর্য বা গোধূলির সোনালী আভা দেখে আহাঃ আহাঃ করে নেচেছো? শেষ বার সেই কৈশোরবেলায়। এর অর্থ কি?
এর অর্থ, কৈশোরের পর তুমি জীবনের আনন্দই ভুলে গেছো। আর আজকের শিক্ষা আর সমাজব্যবস্থা তো, বাচ্চাদের সেই শৈশব আর কৈশোরও কেড়ে নিচ্ছে। ভাবতে পারো, মানুষ কতটা অন্ধ উন্মাদগ্রস্ত হয়ে উঠেছে?
স্কুল বন্ধ হওয়ার জন্য, কিছু বাবা মায়ের উদ্বেগ- "বাচ্চারা কিছু শিখবে না"! বাচ্চা কেবল স্কুলেই শেখে? বাড়িতে শেখে না? বাচ্চারা কেবল পুঁথিগত বিদ্যাই শিখবে? সেলাই করতে, ভাঙা সাইকেলে বা ভাঙা জলের কল সারাতে শিখবে না? ব্যাঙ্কের পাশ বইয়ের জমা খরচ চেক করতে শিখবে না? এগুলো তো সুস্থ জীবনের পক্ষে আরও বেশি অপরিহার্য। সেগুলো এরা শিখবে কবে? আমার মতো মূর্খ বাবা মাকে, হারামজাদা বা গাধা বলে গালি দিলেও তা কম হয়ে যায় না কি?
"করোনার লোক ডাউন" পিরিয়ড সেই সুযোগ। তোমরা থামো, ভাবো, দেখো। দেখো- আকাশের নক্ষত্র, প্রকৃতির রূপ, পরিত্যক্ত রাস্তার মর্মকথা। দেখো, ভাবো আর অনুভব করো। এই লোকডাউনে পিরিয়ডে আমার ফেসবুক পেজে নজর রাখো। তোমাদের সাথে আমিও থামবো, দেখবো, ভাববো আর অনুভব করবো। তোমাদের সুস্থতা প্রার্থনা করি আমি।
© অরুণ মাজী
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem