কাঁদো হে মানুষ কাঁদো
সুর করে কাঁদো। গলা ছেড়ে কাঁদো।
লুকিয়ে লুকিয়ে কাঁদো। ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদো।
কান্না হলো পবিত্র পূতসলিলা গঙ্গা।
দুঃখ ধুয়ে দেয়। গ্লানি মুছে দেয়।
যন্ত্রণা ক্ষোভ সব ভাসিয়ে দেয়।
কাঁদতে না চাইলেও কাঁদো।
কাঁদার কিছু না ঘটলেও কাঁদো।
হাসতে হাসতে কাঁদো। কাঁদতে কাঁদতে কাঁদো।
মালবিকার ঠাম্মার পান খাওয়া গালে
চুমু খেতে খেতে কাঁদো।
কিন্তু কাঁদো। বেশি না পারলেও
অন্তত একটু কাঁদো।
হাঁ করে না পারলে, মুখ বুজে কাঁদো।
দেখিয়ে দেখিয়ে না পারলে
আঁচল ঢেকে কাঁদো।
কিন্তু কাঁদো। প্রতিদিন না পারলে
প্রতি রাতে কাঁদো।
তুমিই বলো না নগেন মাস্টার
কাঁদতে গেলে কি ট্যাক্স লাগে?
কোনদিন
কোন হারামজাদা পন্ডিত কি বলেছে
কান্না স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর?
যদি বলে থাকে
তো এই মুখপোড়া উন্মাদ
অরুণ মাজীর কাছ থেকে শুনো-
কান্না যন্ত্রণার লাঘব করে
দেহ মনে পাথর হয়ে বসে থাকা বেদনার
নিশ্চিৎ উপশম করে।
কাঁদো। যতখুশি কাঁদো।
তেঁতুল ধনিয়া পাতার চাটনি খেতে খেতে কাঁদো।
ভাপা ইলিশ রাঁধতে রাঁধতে কাঁদো।
হুঁকোতে আগুন দিতে দিতে কাঁদো।
কিন্তু কাঁদো। কান্না না এলে
হারামজাদা অরুণ মাজীর
গুষ্ঠির ষষ্ঠী পূজা করতে করতে কাঁদো।
কিন্তু কাঁদো।
© অরুণ মাজী
Painting: Andrew Atroshenko
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem