"জীবন" নামের বেনারসি সাজে
সেজে আছে মৃত্যু।
জরি পারের সোনালী সুঁতো গুনতে
এতোটাই ব্যস্ত মানুষ
"কনে" দেখাতে মন নেই তার।
"কনে" আমাদের মাটির প্রতিমা।
সলজ্জ বিনয়ী ক্ষমাশীল
কিন্তু আপন কাজ কখনো সে ভুলে না।
একদিন শুক্লা একাদশী তিথিতে
ঘড়ির কাঁটা, তিনটে ঊনষাট মিনিট ছুঁলে;
আমাদের "কনে"
ঘোমটা খুলে নিজেকে উন্মোচন করে
পৃথিবীর সামনে সদম্ভে ঘোষণা করে-
"ফাজলামি বন্ধ করো হে মানুষ
ফাজলামি তোমাদের বন্ধ করো।
এ বিশ্ব সংসারের ভাঁড়ার ঘরের চাবিকাঠি
কেবল আমার আঁচলেই বাঁধা। "
একরত্তি "কনের"
এতখানি ক্ষমতা দেখে সেদিন চমকে উঠে মানুষ।
কিন্তু তখন তার কিছুই করার থাকে না।
আকাশের নক্ষত্র পথে হাঁটতে হাঁটতে
মাটির পৃথিবী পানে চেয়ে দেখে সে।
দেখে-
সাদা কাপড়ে ঢাকা এক শবদেহ ছুঁয়ে
মাথা কুড়ছে মালবিকা।
ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে পল্টু।
কতগুলো লোকের নির্লিপ্ত বাহু
নির্লিপ্ত শক্তিতে চিড়ছে ভিজে কাঠ।
আর কতগুলো মাতাল লোক
তাড়স্বরে নাচতে নাচতে গাইছে
"বলো হরি, হরি বোল। "
নক্ষত্র যাত্রী সেই মানুষটা
অসহায় ভাবে আর্তনাদ করে উঠে-
"মালবিকা! পল্টু! "
হায়রে মুখপোড়া মানুষ,
তুই কি জানিস না
মৃতের কান্না পৃথিবী কখনো শুনে না?
আকাশ মেঘে ঢাকে।
ব্যস্ত কতগুলো লোক চীৎকার করে উঠে-
"লাশ তুলো গো, তাড়াতাড়ি লাশ তুলো
এখুনি বুঝি বৃষ্টি আসবে! "
জ্বলে উঠে চিতা দাউদাউ করে।
আকাশ বাতাস ফাটিয়ে আর্তনাদ করে উঠে মালবিকা-
"অমল, আমার অমল! "
ফুঁপিয়ে উঠে ছোট্ট পল্টু।
মাতাল কণ্ঠে সজোরে ধ্বনিত হয়ে উঠে
"বলো হরি, হরি বোল।"
© অরুণ মাজী
Painting: John Toone
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem