গর্ভের সন্তান হারানো এক মায়ের কাহিনী
দর্পণ কিছুক্ষণ সিলিংয়ের দিকে চেয়ে ভাবলো। তারপর বললো-
'জানো? আমারও তোমার মত এক পুরুষ হতে ইচ্ছে হয়।'
তাই! কেন?
'তোমাকে দেখে শ্রদ্ধা হয় আমার। নিঃশব্দে অনেক কষ্ট সহ্য করো তুমি।'
হাসলাম আমি। বললাম-
কষ্ট সহ্য করার একটাই পথ দর্পণ। মানুষকে নীরব থাকতে হয়। নইলে যন্ত্রণা আরও বাড়ে।
দর্পণ এবার আমার বুকে মাথা রেখে ঘুমালো। তারপর হাসতে হাসতে ও জিজ্ঞেস করলো আমাকে-
'তুমি তো কম্পিউটারের ছাত্র। এত ফিলোসফি শিখলে কি করে? '
দুষ্টু হাসি হাসলাম আমি। ওর প্রশ্নের উত্তরে প্রতি- প্রশ্ন করলাম আমি-
তুমিও তো কম্পিউটারের ছাত্র। তুমি এত ভালোবাসা শিখলে কোথা থেকে? এত মমতা শিখলে কোথা থেকে?
দর্পণ আমার বুকে ঘুষি মেরে বললো-
'তুমি বড় অসভ্য! প্রশ্নের উত্তরে প্রশ্ন করো তুমি! '
ওর ঠোঁটে আলতো এক কামড় দিয়ে আমি বললাম-
'কিন্তু তুমি যে প্রশ্নের উত্তরে ঘুষি মারো!
দর্পণের বুক এখন আমার বুকের উপর। ওর বুকের নরম ঊষ্ণতা আমার বুক ছুঁয়ে রয়েছে। বেশ সুন্দর এক অনুভূতি হচ্ছে আমার। সেই অনুভূতিকে আরও ভালো করে গ্রহণ করতে, চোখ বন্ধ করলাম আমি।
আমাকে চোখ বন্ধ করতে দেখে, দর্পণ আমাকে জিজ্ঞেস করলো-
'একি! ঘুমাচ্ছো নাকি? '
চোখ বন্ধ অবস্থায় হাসলাম আমি। বললাম-
নাহঃ ঘুমাচ্ছি না। অনুভব করছি।
'কি অনুভব করছো? '
তোমার বুকের নরম উত্তাপ।
দর্পণ হাসলো। আমার বুক ছেড়ে সোজা হয়ে বসলো ও। তারপর ব্লাউজের হুকগুলো খুলে ফেললো ও। তারপর ওর নগ্ন বুক, আমার বুকের উপর রেখে শুয়ে পড়লো আবার।
ওর নগ্ন বুকের উত্তাপে, রক্তের স্রোত বয়ে গেলো আমার মধ্যে। চোখ বন্ধ করে গভীর শ্বাস নিলাম আমি। তারপর হাসতে হাসতে বললাম-
সত্যিই অভ্যাস খারাপ করে দিচ্ছো তুমি।
আমার বুকে আঁচড় কাটতে কাটতে দর্পণ বললো-
'বেশ করেছি দিচ্ছি। তুমি আমার। তোমাকে নিয়ে যা খুশি করতে পারি আমি।'
কথাটা বলেই, আমার কিস করলো ও। প্রথমে কপালে। তারপর গালে। তারপর ঠোঁটে। আমাকে কিস করার পর, আমার কটিদেশে হাত রাখলো ও। তারপর আমার মুখের সামনে মুখ এনে বেশ হতাশার সুরে ও বললো-
'সময় খুব দ্রুত চলে যাচ্ছে অমল।'
মানে?
'লাবণ্য আমার বয়সী। ওর দশ বছরের ছেলে আছে। অথচ আমি? সবে দু বছর হলো বিয়ে করেছি!
দর্পণের গলায় বেশ দুঃখের সুর। তাই চুপ রইলাম আমি। দর্পণ এবার বললো-
'জানো? দশ বছর পর হয়তো, আমাদের এই নেশা আর থাকবে না।'
হাসলাম আমি। ওকে জিজ্ঞেস করলাম-
কোন নেশার কথা বলছো?
'এই যে তুমি আমি পরস্পরকে ছুঁয়ে রয়েছি। এই নেশা কি আর চিরদিন থাকবে? '
দর্পণের কপাল থেকে চুলগুলো সরাতে সরাতে আমি বললাম-
এজন্যই তো তোমাকে বলি, পিছন দিকে আর তাকিও না।
দর্পণ হাসতে হাসতে আমার জামার বোতামগুলো খুলতে শুরু করলো। তারপর জামাটাকে খুলে, বিছানার এক কোণে ছুঁড়ে দিলো। তারপর ও ওর নিজের উর্দ্ধাঙ্গ উন্মুক্ত করলো।
ওর দিকে অপলকে চেয়ে রইলাম আমি। দর্পণ সুন্দর। কিন্তু নগ্ন দর্পণ আরও বেশি সুন্দর। অনাবৃত বক্ষের দর্পণ আরও বেশি মায়াবী। যেন ভাস্করের তৈরী এক নগ্ন দেবী মূর্তি। যেন অনাবৃত সদ্য স্নাত সুন্দর এক গোলাপ।
যা কিছু প্রকৃত সুন্দর, তা আবরণ বা আভরণ ছাড়াই বেশি সুন্দর। আবরণ বা আভরণ বরং সৌন্দর্যকে হত্যা করে। ফুলের কোন আবরণ বা আভরণ দরকার হয় না। গোধূলির কোন আবরণ বা আভরণ দরকার হয় না।
ওর নগ্ন দেহের দিকে চেয়ে নেশা লাগলো আমার। মনে হলো, আমার হৃৎপিন্ড রুদ্ধশ্বাসে ছুটছে। রক্ত উদ্ভ্রান্তের মত ফুটছে। শ্বাস ঝড়ের মত বইছে।
কোন কথা না বলে, নিঃশব্দে আমার বুকের উপর শুয়ে পড়লো দর্পণ। তারপর আমার কটিদেশে হাত রেখে, আঁচড় কাটতে শুরু করলো ও। ওর নখের স্পর্শে, সারা শরীর কেঁপে উঠলো আমার। শ্বাস গভীর থেকে গভীরতর হলো। কেমন যেন অধৈর্য অনুভব করলাম আমি।
এক ঝটকায় ওকে বুক থেকে নামিয়ে, ওর বুকের উপর চড়ে বসলাম আমি। তারপর সামনে ঝুঁকে কিস করলাম ওকে। প্রথমে ঠোঁটে। তারপর ওর গলায়। তারও পর ওর বুকে।
ওর বুকের পাহাড়ে গিয়ে থেমে গেলাম আমি। ওর বুকের পাহাড়, আমার প্রিয় আশ্রয়। আমার প্রিয় গন্তব্য। দর্পণ তা জানে। ও তাই ওর বুকটাকে আমার মুখের উপর চেপে ধরলো। সদ্যজাত এক শিশুর মত ওর বুকের মধু পান করতে শুরু করলাম আমি।
দর্পণ এবার কেঁপে উঠলো। কাঁপতে কাঁপতে এক ঝটকায় আমার প্যান্টের বোতাম খুলে ফেললো ও। তারপর আমার কটিদেশে চড়ে ও বললো-
'এসো।'
দর্পণের নন্দন কাননে প্রবেশের আহ্বান অগ্রাহ্য করবো, এমন ক্ষমতা আমার নেই। এক ঝটকায় ওকে বিছানার উপর শুইয়ে দিয়ে, ওর উপর ঝাঁপিয়ে পড়লাম আমি। যেমন ঝাঁপিয়ে পড়ে দুরন্ত বালক উদ্দাম স্রোতের মাঝে। যেমন ঝাঁপিয়ে পড়ে বজ্র আসন্ন প্রসবা ধরিত্রীর বুকে।
ওর উপর ঝাঁপিয়ে পড়তেই, দর্পণ আদুরে গলায় আমাকে বললো-
'তুমি এমন করছো, যদি প্রেগন্যান্ট হয়ে যাই! '
ঠোঁটের কোণে হাসলাম আমি। তারপর কোন কথা না বলে, ওর ঠোঁটে গভীর এক কিস করলাম। কিস শেষে, আবার ওর ঝর্ণায় ঝাঁপিয়ে পড়লাম । নারীর উদ্দাম স্রোতে ভাসতে ভাসতে কথার স্রোতে ভাসবো, এমন মূর্খ আহাম্মক নই আমি।
পুরুষরা পুরুষের মত। নারীরা নারীর মত। নারী দেহের স্পর্শ পেলে, তাল জ্ঞান হারিয়ে ফেলে পুরুষ।
© অরুণ মাজী
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem