Ernesto Cardernal (Prayer For Merylin Monroe Translated In Bengali) Poem by Malay Roychoudhury

Ernesto Cardernal (Prayer For Merylin Monroe Translated In Bengali)

আরনেস্তো কারদেনাল-এর কবিতা । অনুবাদ: মলয় রায়চৌধুরী
অনুবাদ: মলয় রায়চৌধুরী


মেরিলিন মনরোর জন্য প্রার্থনা
প্রভু:
পৃথিবীতে মারিলিন মনরো নামে পরিচিত এই বালিকাটিকে গ্রহণ করুন
যদিও তা ওর প্রকৃত নাম নয়
(কিন্তু আপনি মেয়েটির প্রকৃত নাম জানেন: অনাথ মেয়ে ৯ বছর বয়সে ধর্ষিত
দোকানের কর্মচারী মেয়ে যে ১৬ বছর বয়সে নিজের জীবন শেষ করে দিতে চেয়েছিল)
যে এখন আপনার সামনে নিজেকে তুলে ধরছে কোনো সাজগোজ না করে
কোনো কাগজের দালাল সঙ্গে নেই
কোনো ফোটোগ্রাফার নেই অটোগ্রাফ সইয়ের ব্যাপার নেই,
নভোচরের মতন একা রাত্রির মুখোমুখি যার নাম মহাকাশ ।
বালিকা হিসাবে, মেয়েটি গির্জায় নগ্ন থাকার স্বপ্ন দেখেছিল ( টাইম ম্যাগাজিন যেমন বলে)
সাষ্টাঙ্গ জনগণের সামনে, মেঝেতে মাথা পেতে,
আর ওকে পায়ের আঙুলে ভর দিয়ে হাঁটতে হচ্ছিল যাতে তাদের মাথায় না পা রাখতে হয়।
মনোবিদদের চেয়ে ভালো আপনি এই স্বপ্নগুলো সম্পর্কে ভালো জানেন ।
গির্জা, বাসা, গুহা হলো মায়ের বুকের মতন সুরক্ষিত
কিন্তু তার চেয়েও বেশি…
মাথাগুলো মেয়েটির ভক্ত, তা পরিষ্কার
(আলোর এক স্রোতের তলায় অন্ধকারে মাথার জমঘট) ।
কিন্তু মন্দিরটা তো টোয়ান্টিয়েথ সেঞ্চুরি-ফক্স স্টুডিও নয় ।
মন্দির -শ্বেতপাথর আর সোনায় -মেয়েটির দেহের মন্দির
যেখানে মানবপুত্র, চাবুক হাতে,
টোয়েন্টিয়েথ সেঞ্চুরি-ফক্স ব্যাবসাদারদের তাড়ায় ।
যারা আপনার প্রার্থনার বাড়িকে চোরেদের গুহায় বদলে দিয়েছে।

প্রভু:
এই জগত কি পাপ আর বিকিরণে দূষিত,
আপনি দোকানের কর্মচারী মেয়েটিকে কেবল দোষ দিতে পারেন না
যে, আর সমস্ত দোকানের কর্মচারী মেয়েদের মতন, তারকা হবার স্বপ্ন দেখেছিল।
আর ওর স্বপ্ন ছিল বাস্তব (কিন্তু যেমন টেকনিকালারও বাস্তব) ।
মেয়েটি কেবল আমাদের দেয়া স্ক্রিপ্ট অভিনয় করেছিল,
যা আমাদের নিজেদের জীবন, এক অদ্ভুত স্ক্রিপ্ট ।
মেয়েটিকে ক্ষমা করুন, প্রভু, আর আমাদের ক্ষমা করুন
আমাদের বিশ শতকের জন্য
বিশাল অতি-উৎপাদনের জন্য যাতে আমরা সবাই খেটেছি।
মেয়েটি ভালোবাসা পেতে চেয়েছিল আর আমরা দিয়েছি ঘুমের ওষুধ।
যে দুঃখের জন্য আমরা কেউই পবিত্র নই
মেয়েটিকে মনোবিদ দেখাবার পরামর্শ দেয়া হয়েছিল।
মনে করুন প্রভু ক্যামেরা সম্পর্কে মেয়েটির বৃদ্ধিপ্রাপ্ত আতঙ্ক
সাজগোজকে ঘৃণা, প্রতিটি দৃশ্যের জন্য তাকে নতুন করে তোলার জন্য দাবি
আর কেমন করে আতঙ্ক বেড়ে যেতে লাগলো
আর স্টুডিওতে অনেক দেরিতে পৌঁছোনো ।
দোকানের কর্মচারী মেয়েদেরর মতন
মেয়েটি তারকা হবার স্বপ্ন দেখেছিল ।
আর মেয়েতির জীবন ছিল অবাস্তব, স্বপ্ন যা মনোবিদ ব্যাখ্যা করে আর নথি করে রাখে।
মেয়েটির রোমান্স ছিল দুই চোখ বন্ধ করে চুমু খাওয়া
কিন্তু তারপর চোখ খুলে যায়
আর আবিষ্কার করে প্রচুর আলো ওর দিকে মুখ করা
তারপর আলোগুলো অন্ধকার হয়ে যায়!
আর লোকেরা ঘরের দুটো দেয়াল ভেঙে ফ্যালে (তা ছিল ফিল্মের সেট)
পরিচালক নিজের নোটবই নিয়ে চলে যান
কেননা দৃশ্যটা তোলা হয়ে গেছে ।
কিংবা প্রমোদভ্রমণের পোতে, সিঙ্গাপুরে একটা চুমু, রিওতে নাচ
উইন্ডসর প্রাসাদে ডিউক ও ডাচেসের অভ্যর্থনা
এক মর্মন্তুদ ফ্ল্যাটের ছোটো বৈঠকখানায় দেখা ।
শেষ চুমু ছাড়াই ফিল্মটি শেষ হয় ।
ওরা মেয়েটিকে তার বিচানায় মৃত পেলো, হাতে ফোন ।
আর গোয়েন্দারা জানতে পারেনি কাকে মেয়েটি ডাকছিল ।
তা ছিল
সেইরকম যে বন্ধু কন্ঠস্বরকে চেনে তাকে ফোন করতে চাইছিল
কেবল রেকর্ড করা কন্ঠস্বর শোনার জন্য যা বলবে: রং নাম্বার
কিংবা কারোর মতন, যে, ডাকাতদের দ্বারা ঘায়েল
তার ছেঁড়া ফোনের দিকে হাত বাড়ায় ।
প্রভু:
কাকে ডাকার চেষ্টা মেয়েটি করেছিল তাতে কিছুই আসে-যায় না
কিন্তু পারেনি (আর হবতো তা কেউ ছিল না
কিংবা কেউ যার নাম্বার লস অ্যাঞ্জেলেস ফোনের বইতে নেই ।

আপনিই ফোনের জবাব দিন!

Thursday, February 6, 2020
Topic(s) of this poem: beauty
COMMENTS OF THE POEM
READ THIS POEM IN OTHER LANGUAGES
Close
Error Success