কল্পনা কোন সৌভাগ্যের কারনে কুড়িয়ে পাওয়া দ্রব্য নয়। রাস্তায় হাঁটলে কল্পনা এমনি এমনি তোমার মনের দরজায় কড়া নাড়ে না। কল্পনা হলো সাহসী মনের দুরন্ত সংলাপ। কল্পনার জন্য বুকে কলিজা দরকার, শৃঙ্খলা দরকার, পর্যবেক্ষণ দরকার, অধ্যাবসায় দরকার, চিন্তা শক্তিতে শান দেওয়া দরকার।
আমি সৌভাগ্যে বিশ্বাস করি না। আমি ঘাম আর রক্তে বিশ্বাসী। আমি নিদ্রাহীনতায় বিশ্বাসী। আমি ত্যাগে বিশ্বাসী। যা কিছু কষ্ট অধ্যাবসায় অর্জিত নয়, তা কখনো মানবের উত্তরণ ঘটাতে পারে না। সূর্য তার গর্ভ যন্ত্রণা সহ্য করতে পারে বলেই, সে বিশ্বময় আলো ছড়াতে পারে। নদী- পাহাড় আর গিরিখাতের বুক চিরে বইতে পারে বলেই এ পৃথিবীকে সে শস্য শ্যমলা নয়নাভিরাম করতে পারে। একজন মহামানব যন্ত্রণাকে তাচ্ছিল্য করতে পারে বলেই এ বিশ্ব সংসারে সে আলো আনতে পারে।
ফাঁকি বাজিতে ক্ষণিকের হুজুগ তোলা যায়; মহাবিশ্বের মঙ্গল করা যায় না, কালের স্রোতকে খণ্ডন করা যায় না। মহাকালকে পরাস্ত করতে হলে তোমাকেও মহাকালের মতো সাহসী আর ক্ষমতাশালী হতে হবে।
বুকের সাহসে যেমন কল্পনার জন্ম। তেমনি কল্পনার গর্ভে সৃষ্টি করার ক্ষমতার জন্ম। আইনস্টাইন আলোর যাত্রাপথে নিজেকে কল্পনা করেছিলেন। আলোর গতিতে তিনি নিজে যদি দৌড় দেন- তো সময়কে কেমন দেখাবে? স্পেসকে কেমন দেখাবে? এই কল্পনা থেকে তিনি তার আপেক্ষিকতাবাদ সৃষ্টি করে ছিলেন। স্পেস আর সময়ের প্রকৃত স্বরূপ আঁকতে পেরেছিলেন। কি দুর্দমনীয় একাগ্রতা আর নিষ্ঠা থাকলে এই কল্পনার গাণিতিক পরিমাপ সম্ভব? কি অসম্ভব বুকের সাহস থাকলে এই আপাত অকল্পনীয় কল্পনা নিয়ে তার জীবন যৌবন সংসারকে বাজি রাখা সম্ভব?
সব কিছুর সৃষ্টি- আগে, মানুষের কল্পনায়। পরে, সেই কল্পনাকে মানুষ বাস্তবে রূপ দেয়। স্রষ্টা হতে চাও? কল্পনার বিকাশ ঘটাও আগে। কল্পনার বিকাশ ঘটাতে চাও? নিজের জীবন যৌবন আর সংসারকে বাজি রাখো আগে। তোমার আত্মীয় বন্ধু বান্ধব যদি পাগল বলে তোমাকে পরিত্যাগই না করলো, তাহলে স্রষ্টা হবে কি করে?
© অরুণ মাজী
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem