রাজনীতি আর ধর্মাচারকে তোমরা নর্দমায় ছুঁড়ে ফেলবে না কেন? (Essay On Science, Religion, Politics) Poem by Arun Maji

রাজনীতি আর ধর্মাচারকে তোমরা নর্দমায় ছুঁড়ে ফেলবে না কেন? (Essay On Science, Religion, Politics)

Rating: 5.0

সংগঠিত রাজনীতির বয়স খুব কম নয়। সেই রোমান যুগেও "সেনেট প্রথা" চালু ছিলো। এই সেনেট প্রথা রাজনীতির দাঁড়িপাল্লায় কিন্তু বেশ উন্নত চিন্তার প্রতিফলন। সংগঠিত সংঘবদ্ধ ধর্মাচারের বয়সও কম নয়। প্রাচীন ভারতবর্ষেও এর প্রমান মিলে।

রাজনীতি আর ধর্ম দুই-ই কিন্তু দুর্বল দরিদ্র্য সর্ব্বহারার মঙ্গলের কথা বলে। এমনকি যারা ক্যাপিটালিস্ট তারাও দরিদ্র্য সর্ব্বহারার মঙ্গলের কথা বলে। তবে তারা একটু ঘুড়িয়ে বলে। তারা বলে- দেশ যদি ধনসম্পত্তি না বানাতে পারে তো দরিদ্র্য সর্ব্বহারার মঙ্গল কি করে হবে? তেমনি সব ধর্মই দুর্বল দরিদ্র্য সর্ব্বহারার মঙ্গলের কথা বলে।

দেশ আর পৃথিবী নিয়ন্ত্রণ করে কে? রাজনীতি আর ধর্ম। কখনো কখনো আলাদা ভাবে। কখনো কখনো যৌথ ভাবে।

এখন প্রশ্ন হলো-হাজার হাজার বছর ধরে রাজনীতি আর ধর্ম দুই-ই যদি দুর্বল দরিদ্র্য সর্ব্বহারার মঙ্গলের কথা বলছে, তাহলে পৃথিবীতে এতো শীর্ণ জরাজীর্ণ শিশু কেন? দুর্বল অসহায় নারী কেন?

ব্যাপারটা খোলা মনে ভাবো- তুমি হাজার হাজার বছর ধরে ভালো কিছু একটা করতে চাইছো। অথচ সেটা ঘটছে না। তার অর্থ কি? তার অর্থ তোমার চিন্তা আর পথ দুই-ই ভীষণ রকমের ভুল।

তার অর্থ কি এই নয় যে, আমাদের রাজনীতি আর ধর্মাচার দুই-ই মানুষের মঙ্গল সাধনে ভালো রকমের ব্যর্থ। কিছু "মঙ্গল সাধন" নিশ্চয় ঘটেছে, কিন্তু তোমরা যদি হাজার বছরের চেষ্টাকে বিচারে ধরো, তবে এই মঙ্গল সাধন নিতান্ত নগন্য।

আজও- এমন কোন রাজনৈতিক দল কি আছে, যারা মুখে দুর্বল দরিদ্র্য সর্ব্বহারার মঙ্গলের কথা বলে না? প্রশ্ন হলো- তবুও এতো অনাহার অর্দ্ধাহার কেন? তবুও এতো ধনী-দরিদ্র্য, উঁচু জাতি- নীচু জাতি ইত্যাদি ভেদাভেদ কেন?

ব্যাপারটা এবার অন্যভাবে ভাবো- তোমার গাঁয়ের পেন্তীর মা, ফেসবুক মাধ্যমে আমেরিকা প্রবাসী তার নাতনির সাথে "চ্যাট" করে। তোমার গাঁয়ের দীপু, ফেসবুক মাধ্যমে আমেরিকার "লরেন্স" নামে একটি ছেলের সাথে বন্ধুত্ব গড়েছে। তোমার পাড়ার নগেন মাস্টার, ইউটিউব মাধ্যমে হাভার্ড প্রফেসরের মুখ থেকে দর্শন নিয়ে আলোচনা শুনে।

আমেরিকা খুবই বিত্তশালী আর জ্ঞান সম্পদে পরিপূর্ণ। কিন্তু তোমার গাঁয়ের সকলে দরিদ্র্য আর দুর্বল। তবুও বিজ্ঞান আর প্রযুক্তি- আমেরিকা আর তোমার গ্রামকে খুব কাছাকাছি এনেছে। বিজ্ঞানে ভর করে, আমেরিকা আর তোমার গ্রামের মধ্যে দূরত্ব (বিভেদ)বেশ কমেছে। বিজ্ঞানের মাধ্যমে এই বিভেদ আরও দ্রুত কমতে চলেছে। বিজ্ঞান আর প্রযুক্তি মানুষে মানুষে বিভেদ কমাচ্ছে। আর মানুষে মানুষে সংযোগ বাড়াচ্ছে।

রাজনীতি আর ধর্ম হাজার হাজার বছর ধরে যে "বৈষম্য" দূর করতে পারে নি, ইন্টারনেট টেকনোলজি ১০ বছরে তার হাজার গুন বেশি সাফল্য পেয়েছে। এবং ভবিষ্যতেও, বিজ্ঞান- মানুষে মানুষে বিভেদকে আরও বেশি মুছে দিতে চলেছে।

এখন তবে প্রশ্ন- রাজনীতি আর ধর্মাচারকে (ধর্মাচারের কথা বলছি ধর্মের দর্শনের কথা নয়)তোমরা নর্দমায় ছুঁড়ে ফেলবে না কেন? কেন তোমরা তোমাদের দৈনন্দিন জীবনের সিংহ ভাগ বিজ্ঞান চেতনার জাগরণে ব্যয় করবে না? কেন তোমরা- প্রামাণিত, ধ্বংসাত্মক রাজনীতি আর ধর্মাচারের জন্য তোমাদের সময় আর কর্ম্ম ব্যয় করবে?

© অরুণ মাজী

রাজনীতি আর ধর্মাচারকে তোমরা নর্দমায় ছুঁড়ে ফেলবে না কেন? (Essay On Science, Religion, Politics)
Thursday, January 4, 2018
Topic(s) of this poem: poverty,war
COMMENTS OF THE POEM
READ THIS POEM IN OTHER LANGUAGES
Close
Error Success