আগে বাড়তে চাও? প্রযুক্তির ব্যবহার ভালো করে শেখো।
আগেই বলেছি আমি- সহস্র বছরের রাজনীতি, ধর্ম, তত্ত্বকথার কচকচানি দরিদ্র্য দুর্বল মানুষকে যে ক্ষমতা দিতে পারে নি; ইন্টারনেট প্রযুক্তি শেষ দশ বছরে মানুষকে তার চেয়ে সহস্রগুণ বেশি ক্ষমতা দিয়েছে। ইন্টারনেট প্রযুক্তি ধনী দরিদ্র্য, শিক্ষিত মূর্খ, ক্ষমতাশালী দুর্বল- ইত্যাদি ভেদাভেদ খুব দ্রুত মুছে দিচ্ছে। তোমরা যত তাড়াতাড়ি, যত ভালো করে বিজ্ঞান আর প্রযুক্তি শিখবে; তত তাড়াতাড়ি এই পৃথিবীতে আরও বেশি সাম্য আসবে।
যারা ক্ষমতাশালী বুর্জোয়া ছিলো- তাই তাদের এখন বড় গা জ্বালা করছে। তাই ফেসবুকে, তোমরা- তোমাদের পেন্টিং, কবিতা, গানের নমুনা, শর্ট ফিল্ম ইত্যাদি শেয়ার করলে; বুর্জোয়া গোষ্ঠীর মানুষেরা তোমাদেরকে বিদ্রূপ করে। তাচ্ছিল্য করে। তোমরা কিন্তু ভেঙে পড়ো না।
সাহিত্য সঙ্গীত পেন্টিং ইত্যাদি আগে বিশেষ এক শ্রেণীর করায়ত্ত ছিলো। তাদের হাতে ছিলো মিডিয়া, পাবলিশিং হাউস, আর্ট গ্যালারি ইত্যাদি। রবীন্দনাথ নজরুলের পরবর্তী যুগে বাংলাতে সাহিত্য আর সংস্কৃতিতে এতো দুর্ভিক্ষ কেন? কারন- বুর্জোয়া মিডিয়া আর পাবলিশিং হাউস এক বিশেষ শ্রেণীকেই কেবল তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। যদিও সেই সব বিশেষ মানুষদের মধ্যে সাহিত্য বা সংস্কৃতির ছিবড়ে পর্য্যন্ত নেই। তবুও মিডিয়া আর পাবলিশিং হাউস তাদেরকেই কেবল প্রচার করে গেছে।
গাধাকে যতই পেটাও তুমি, সে কি কখনো বেগবান ঘোড়া হবে? কখনো হবে না। যেহেতু মিডিয়া, পাবলিশিং হাউস, আর্ট গ্যালারি নতুন কোন প্রতিভাকে সহজে সুযোগ দিতে চায় নি; তাই বাংলা সাহিত্য সংস্কৃতির জগতে এতো যুগ ধরে দুর্ভিক্ষ। কিছু মুষ্টিমেয় মানুষ কেবল তাদের নিজেদের স্বার্থের জন্য, দেশের সহস্র প্রতিভাকে গলা টিপে মেরেছে। তারা বাংলা সাহিত্য সংস্কৃতি বিজ্ঞান- সবকিছুকেই গলা টিপে মেরেছে। তাদের অনেকে বুর্জোয়া হয়েও, কমিউনিস্টদের লাল আঁচলে নিজেকে ঢেকে রেখেছে। এরা সাহিত্য আর কাগজে দরিদ্র্য দুর্বলের কথা লেখে। কিন্তু দরিদ্র্য দুর্বলের ক্ষমতায়ন এরা চায় না। এরা হলো দ্বিচারী শঠ প্রবঞ্চক শকুন।
এখনো এরা তাই করতে চায়। তাই তো এরা- তোমাদের কোন গান, পেন্টিং, লেখা, শর্ট ফিল্ম- ইত্যাদি কোন প্রকার সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখলে- তোমাদেরকে এরা বিদ্রূপ করে।
তোমরা আরো বেশি করে সোশ্যাল মিডিয়া আর সমস্ত প্রযুক্তির ব্যবহার শেখো। তোমাদের ছোট ছোট ভাই বোন, মা কাকিমা- তাদেরকেও বিজ্ঞান আর প্রযুক্তি ব্যবহারে পারদর্শী করো। মনে রেখো- তোমার শিশুর ভবিষ্যৎ, বিজ্ঞান আর প্রযুক্তি ভর করে গড়ে উঠবে। দুর্বল দরিদ্র্যের ক্ষমতায়ন, তাও বিজ্ঞান আর প্রযুক্তি ভর করে ঘটবে। নারীর জাতির প্রতি অভিশাপ ভঙ্গ, তাও বিজ্ঞান আর প্রযুক্তি ভর করে ঘটবে। তোমরা সাহিত্য পড়া, ছবি আঁকা শেখা, শর্ট ফিল্ম বানানো শেখা, ব্যবসা বা বিজ্ঞান শেখা- সব কিছুই তোমরা "অনলাইন" করতে পারো। গাঁটের টাকা খরচ করে মাস্টার রাখার দরকার নেই। বই কেনার দরকার নেই। নামী দামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার দরকার নেই। তোমরা অনলাইনে ট্রেনিং করে নিউটন, আইনস্টাইন, বিল গেটস হতে পারো।
এ পৃথিবীকে যদি তুমি সুন্দর করতে চাও- মানুষকে বিজ্ঞান আর প্রযুক্তি শিখতে প্রেরণা দাও। মনে রেখো- ধর্ম আর রাজনীতি দুই-ই সহস্র বছর ধরে দুর্বল দরিদ্র্য মানুষকে শোষণ আর শাসন করে এসেছে। লাল সবুজ গেরুয়া- সবাই যদি দরিদ্র্য দুর্বলকে সাহায্যের কথা বলে, আজও তবে দরিদ্র্য শিশুরা কুকুরের মুখ থেকে রুটি কেড়ে খাচ্ছে কেন? লাল সবুজ গেরুয়া- যেই আসুক না কেন, সকলেই দরিদ্র্য দুর্বলকে শোষণ আর শাসন করতে আসবে।
একমাত্র বিজ্ঞান আর প্রযুক্তি- দরিদ্র্য দুর্বল মানুষের প্রকৃত বন্ধু। বাকি সব শালা চোর ছ্যাঁচ্চোর বেইমান আর নেমকহারাম। বিজ্ঞান প্রযুক্তির ব্যবহার শেখো আর মানুষরূপী শকুনগুলোকে নরকে পাঠাও।
© অরুণ মাজী
Painting: Albert Anker
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem