দিন দিন কেমন যেন ক্যাবলা হয়ে যাচ্ছি আমি। অমলকে,মালবিকা ঠিক যেমন প্রকার ক্যাবলা বলে, ঠিক তেমন প্রকার ক্যাবলা। তফাৎ কেবল এক জায়গায়। অমলের ক্যাবলামিটা একটু ডাঁসা ডাঁসা। আমার ক্যাবলামিটা একটু ঠাসা ঠাসা। অমলের ক্যাবলামিটা একটু চটচটে। আমারটা একটু হড়হড়ে। অমলের ক্যাবলামিটা ফুচকা ফুচকা। আমারটা ঝালমুড়ি আর কাঁচা লঙ্কা।
আজকাল আমি যা কিছু দেখি, হাঁ করে তাকিয়ে থাকি। কয়েকদিন আগের ঘটনাই ধরো! পার্কের মধ্য দিয়ে হেঁটে হেঁটে কাজে যাচ্ছিলাম আমি। দেখি, একটা বাঁদর- গাছের ডালে বসে বাদাম খাচ্ছে। বাঁদরটাকে আমি হাঁ করে দেখছি, এমন সময় মুখপোড়া বাঁদরটা কি করলো জানো? আমার হাঁ করা মুখে, হতচ্ছাড়া বাদামের ছাল ছুঁড়ে দিলো!
ভেবো না, এ সব "সাজানো ঘটনা"! নগেন মাস্টারটা আসলে ওরকম। আমি যাই বলি, উনি বলে ষড়যন্ত্র! তোমাদেরকে কানে কানে বলছি- "নগেন মাস্টারটা একটা মাওবাদী"। খবরদার তোমরা নগেন মাস্টারের সাথে, কখনো একসাথে বসে চা খাবে না। ভাবো, দেশটা যদি মাওবাদী হয়ে যায়, তাহলে কি সাংঘাতিক সর্ব্বনাশ ঘটবে আমাদের!
তারচেয়ে তোমরা বরং, আমার "ডি লিট" বিজয়ী সেই কবিতাটা পড়ো। কোন কবিতাটা বুঝতে পেরেছো? পারো নি? এখনো পারো নি? সে কি গো? আমার মতো "ডি লিট" বিজয়ীর কবিতা তোমরা এখনো পড়ো নি? পাক্কা এটা বিরোধীদের ষড়যন্ত্র!
ভুলেই যখন গেছো, তো কয়েক লাইন মনে করিয়ে দিচ্ছি-
"খড়েরচালে কুমড়ো।
কুলো হাতে পেন্তীর মা হাসছে।
সূর্যের বুকটা ফঙ ফঙ!
মা মাটি মানুষের গলায়
বকলস বাঁধা ঢঙ ঢঙ।
রাত দুটো যখন বেজেছে,
এতক্ষনে কেষ্টা
দশটা লাশ ফেলে দিয়েছে।
ডেঙ্গু মহামারী হাসছে।
অথচ লন্ডন সাজে কলকাতা এখন
যক্ষ্মা রোগে কাশছে। "
মনে পড়েছে তোমাদের? পড়বে না মানে! আমার মতো"ডি লিট" বিজয়ীর কবিতা বলে কথা! মনে তো পড়তেই হবে। মনে না পড়ে উপায় আছে? মনে না পড়লে, তোমাদের শোয়ার ঘরে আমি, ইঁদুর ঢুকিয়ে তোমাদের মশারি কেটে দেবো। (ঠিক যেমন তোমাদের রাজার ভাই, তোমাদের মেয়ের শোবার ঘরে ছেলে ঢুকিয়ে দিয়ে, তোমাদেরকে মেয়েকে ধর্ষণ করার হুমকি দেয়! তোমরা কি জানো, এজন্যই তোমাদের রাজা আমাকে এতো বেশি ভালোবাসেন! উনি বা ওনার ভাইয়েরা যে পথে হাঁটেন, আমি ঠিক সেই পথেই হাঁটি। তোমাদের রাজা বলেছেন, উনি আমাকে, ওনার "ডি লিট" এর চেয়ে মাত্র এক ইঞ্চি খাটো, একটা "মিনি ডি লিট" দেবেন। আহাঃ কবে আসবে সেদিন? আনন্দে আমি আত্মহারা গো, আনন্দে আমি আত্মহারা।)
তোমরা সবাই একটা মাওবাদী /
কি যেন বলছিলাম আমি? ওঃ হ্যাঁ।দিন দিন কেমন যেন ক্যাবলা হয়ে যাচ্ছি আমি। অনামিকার ঠাম্মা অন্তত, আমাকে তাই বলে। অনামিকার ঠাম্মা আমাকে আর কি বলে জানো? ক্যাবলার মতো ভ্যাবলা হয়ে ভাবলে, আমাকে নাকি খুব "কিউট" লাগে। আমারও, অনামিকার ঠাম্মাকে খুব "কিউট" লাগে। অনামিকাটা বড় হিংসুটে। ওর ঠাম্মার পান খাওয়া গালে আমি যদি হড়হড়ে চমু দিই, অনামিকা তাতে বেজায় রেগে যায়! অনামিকা তখন চীৎকার করে আমাকে, অসভ্য ইতর ইত্যাদি বলে ডাকে।
আচ্ছা তোমরাই বলো,অনামিকার ঠাম্মার পান খাওয়া গালে হড়হড়ে চমু দেওয়াটা কি এতো বেশি অশ্লীলতা? আমি না হয় জনসমক্ষে, রাস্তায় উপর দাঁড়িয়ে, দিবালোকে, অনামিকার ঠাম্মাকে দুটো চুমু দিয়েছি। তাই বলে আমি অশ্লীল?
তোমাদের রাজা যখন "সারদা মা"কে পূজা করে, গরীব মানুষকে অনাহারের হাঁড়ি কাঠে চড়িয়ে, নরবলি করে, তখন তা অশ্লীলতা নয়? তোমাদের মেয়েরা ধর্ষিত হলে, তোমাদের রাজা যখনতাকে "সাজানো ঘটনা বলে" সাফাই দেয়, তখন তা অশ্লীলতা নয়? তোমাদের রাজার পারিষদরা যখন, তোমাদের মেয়ের শোবার ঘরে ছেলে ঢুকিয়ে দিয়ে, তোমাদেরকে মেয়েকে ধর্ষণ করার হুমকি দেয়, তখন তা অশ্লীলতা নয়? তোমাদের রাজা যখন, ক্ষমতা দখলের জন্য রিয়াজুল মোল্লা নামের দুধের শিশুকে খুন করে, তখন তা অশ্লীলতা নয়?
এ কেমন শ্লীলতা জ্ঞান গো তোমাদের? কৃষককে রাজা হত্যা করলে তা অশ্লীলতা নয়। দশ বছরের ছোট শিশুকে, হোটেলের মালিক মেরে অজ্ঞান করে দিলে তা অশ্লীলতা নয়। দুধের শিশুকে, রাজনীতি হত্যা করলে তা অশ্লীলতা নয়। স্কুলের শিশুকে, ধর্ম হত্যা করলে তা অশ্লীলতা নয়। অরুণ মাজী ন্যাংটো হয়ে পথ হাঁটলেই কেবল অশ্লীলতা? কেন? অরুণ মাজীর নংকু, কাউকে কি কখনো খুন করেছে? কাউকে কি কখনো পুড়িয়ে মেরেছে? কাউকে কি কখনো অনাহারে মেরেছে? কাউকে কি কখনো ধর্ষণ করেছে?
অশ্লীলতা কেবল আমার বেলায়? বুঝেছি গো বুঝেছি। তোমরা সবাই একটা "মাওবাদী"।
© অরুণ মাজী
Painting: Andrew Atroshenko
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem