তারপর স্বপ্নগুলো আমাদের
অকালে
নিঃশব্দে ঝরে পড়ে।
হেমন্তের রাতে
একাকী সেই শিশির বিন্দুর মতো।
ভালোবাসা না পেয়ে
অকালে ঝরে পড়া সেই সবুজ পাতার মতো।
ক্ষমা করো হে ঈশ্বর
ক্ষমা করো তুমি।
"স্বপ্ন" নামের
আমাদের গর্ভজাত সন্তানকে আমরা
খাইয়ে পরিয়ে একটু বড় করতে পারি না।
ভয় ভয় আর ভয়।
ভয়ের সন্ত্রাসে আচ্ছন্ন আমরা।
পঙ্গু আমরা। অসুস্থ আমরা।
মরণাপন্ন আমরা।
স্বপ্নের আকাশে যেই না আমরা রামধনু দেখি,
অমনি জেগে উঠে ভয়ের কালো মেঘ।
মুহূর্তেই সে গ্রাস করে
রামধনুর সাত রঙের বাহার।
মেঘের ভয়ে এমনই ভীত সন্ত্রস্ত আমরা
রামধনুর অস্তিত্বকে অস্বীকার করি আমরা।
অথচ এই মহাবিশ্বে
মেঘ আছে। রামধনুও আছে।
ব্যর্থতা আছে। সাফল্যও আছে।
দুঃখ আছে। আনন্দও আছে।
ভয়ের কারাগারে চিরবন্দী আমরা
তখন কি করি? আমরা দেখি-
"স্বপ্ন" নামের
আমাদের আপন গর্ভজাত সন্তান
অবহেলা অপুষ্টি আর অনাদরে
ধীরে ধীরে মৃত্যুর বুকে ঢলে পড়ে।
হে ঈশ্বর
কি অক্ষম আমরা! কি পাষন্ড আমরা!
আমরা আপন সন্তানের মৃত্যু
আপন চোখে প্রত্যক্ষ করি।
তারপর সন্তানের শ্মশানে বসে
আমরা ধূপকাঠি জ্বালাই
ফুলের রঙিন মালা চড়াই
আত্মীয় পরিজনকে ডাকি
আর নাকী কান্নার স্রোত বইয়ে দিই।
"স্বপ্ন" নামের সন্তানের মৃত্যু যন্ত্রণা
আমরা সইতে পারি।
কিন্তু তাকে খাইয়ে পরিয়ে বড় করার যন্ত্রণা
আমরা সইতে পারি না।
কি ভীরু কাপুরুষ নপুংসক আমরা!
ক্ষমা করো হে ঈশ্বর
ক্ষমা করো তুমি।
© অরুণ মাজী
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem