রহি একযোগে মাতৃ অঙ্গে
অসীম হরসে মায়ের সঙ্গে
নয়মাস গতে হেরে শিশু যেশী
মাতার স্নিগ্ধ হাসি
হেরিসে অসীম করুনা আধার
প্রেমমুরতি জননী তাহার
প্রেমে অভিভূত হয়ে সমাহিত
আরামে মুদিলো আঁখি
রহি স্থিরচিতে মাতৃবক্ষে
লীন হয়ে সদা অসীম সখ্যে
দিন কাটে তার সদা আনন্দে
দেহমন হৃদগগনে
এমন সময় কহে কবিরাজ
গভীর ব্যারাম দেখি বুঝি আজ
মনে হয় যেশী ভুগে হৃদরোগে
আসিছে বিপদ সঘনে
শুনি কহে মাতা সাংবাদিক ভনে
বাঁচাও আমার হৃদয় রতনে
কুসুম তুল্য কোমল ও শিশু
কেন হানিবে শাস্তি তারে
ফুটিবার আগে কেন ফুলে ডাকো
ওর বিকাশে প্রকাশে কত দেরী দেখো
এমনি করে কি বিচারিবে তুমি
শিশু যেশী আর মোরে
বিধাতার কোন অজানা বিধানে
এলো শিশু যেশী বালক সদনে
বহিয়া একাকী শুন্য হৃদয়
মাতা রয় গৃহ মাঝে
কবিরাজ কহে বিপদ বড়ই
না লভিলে যেশী নুতন হৃদয়
বাঁচিবেনা শিশু খুব বেশিদিন
একমাস জোড়সাজে
এ বিষম বাণী শুনি বৈদ্যের
করে হাহাকার হৃদয় মায়ের
কহে কবিরাজে করজোর মাগি
'বাঁচাও হৃদয় ধনে'
'এক পথ আছে' কবিরাজ কয়
যদি আর কোনো শিশুর হৃদয়
বসাইতে পারি জেশীর শরীরে
বুঝি বাঁচে যেশী এই ক্ষণে'
কাঁদি কহে মাতা সাংবাদিক ভনে
'বাঁচাও আমার হৃদয় রতনে
শীঘ্র প্রচারো জরুরী বারতা
যদি ভাঙ্গা ভাল জোড়া লাগে
যদি কোনো মার আদরের ধন
মরণের বুকে করে বিচরণ
যেশী যদি পায় তাহার হৃদয়
তবে, বাঁচিবার আশাজাগে'
ধাইলো বার্তা দেশে চারিধার
নয়নে পশিলো আর এক মা'র
তার কচি শিশু কর্কট রোগে
মৃত মস্তকে সদা
ওই শিশুর মাতার নেই কোনো আশা
বৈদ্য বলেছে বৃথা প্রত্যাশা
বলে পরিজনে করো মায়া ত্যাগ
বৃথা শিশু লাগি কাঁন্দা
ভাবে সেই মাতা ওগো দয়াময়
বুঝেছি লীলা আজি হয়েছো সদয়
লভিবে পরান মোর শিশু পুন
হয়ে যেশী দেহযুক্ত
ডাকিলেন তিনি যেশীর মাতারে
চুমি নিজ শিশু স্মপিলেন তাঁরে
দুইটি মায়ের দুইটি পরান
এক প্রেমে হলো সিক্ত
লভিয়া নুতন হৃদয় যন্ত্র
যেশীর শরীরে নুতন মন্ত্র
প্রবেশিল প্রতি শিরায় শিরায়
বহিয়া নুতন প্রাণ
দুই শিশু মেলি এক যেশী হলো
নিখিল মায়ের পরান জুড়ালো
হৃদয় তন্ত্রে প্রেমের মন্ত্রে
বাজিলো বিশ্বতান
- - - - - - - - - - - - - - -
কবিতাটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে লিখিত
জুন ১১, ১৯৮৬, মধ্যরাত্রি
ক্যাপিটল হিলটন (রূম ৭৩৫) , ওয়াসিংটন ডি সি
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem