"পা চালিয়ে চল ভাই
পা চালিয়ে চল।"
গোধূলি রঙে রাঙা অস্তমিত সূর্যের দিকে চেয়ে
নিজে নিজেকে বলি।
বেলা হয়ে যাচ্ছে।
একটু একটু করে জীবনে সন্ধ্যা নেমে আসছে।
কপালের চামড়ায় ভাঁজ পড়তে শুরু করেছে
অথচ এখনো কত কাজ বাকি!
স্বপ্নের মাটিতে যে চাঁপা গাছটা পুঁতেছি
এখনো সে চারা গাছ।
ইঁদুর ছুঁচো পতঙ্গ তাড়াতেই সময় চলে যাচ্ছে।
হৃদয়ে এতো খরা মাঝে মাঝে
জল দেবো তো ঘটি ডুবে না।
পেন্তীর মা গল্প করে গেলো
আমার চেয়ে দুবছরের বড় বাঁড়ুজ্জে বাড়ির সুভাষদা
ক্যান্সার রোগে মারা গেছে।
এদিকে আমার ক্লাসমেট বীরু
তারও নাকি মস্তিষ্কে টিউমার!
সূর্য উদয় আর অস্তের মধ্যে
ক্ষণিকের একটু আলো;
তাকেই মানুষ জীবন নামে ডাকে।
কে জানে সেই ক্ষণিকের আলোও
দপ দপ করে জ্বলতে জ্বলতে
কবে অকালে নিভে যাবে!
সূর্যমুখী ফুলটা হাসতে হাসতে
কি যেন কি বলতে চায়!
ওর পাশে ফুটে উঠা আরেকটা সূর্যমুখী ফুল
গতকাল ঝরে গেছে।
"ওহে মুখপুড়ী সূর্যমুখী
হাসছো যে?
বোন তোমার মরে গেলো
দুঃখ হয় না তোমার? "
ফুলটা দুলে উঠলো।
যন্ত্রণায় যেন একটু আর্তনাদ করে উঠলো।
পরক্ষণে
আবার সে ধীর স্থির অচঞ্চল
আর মুখে হাসি।
বেদনা বুকে নিয়ে
হাসতে পারাই হয়তো জীবন।
বুকে আঁধারের হাতছানি নিয়ে
আলো উপভোগ করাই হয়তো জীবন।
চোখের সামনে "ফ্রেডরিক নিচা" খোলা।
"নিচা" ঈশ্বর বিশ্বাস করে না-
"মানুষ তার আপন ক্ষমতায়
নিজের আর পৃথিবীর ভাগ্য গড়ে।"
ওহে "নিচা"
মরণশীল ক্ষণজন্মা ভঙ্গুর মানুষ
কতটুকুই বা পারে?
ঠিক এই মুহূর্তেই আমার জীবনে কি ঘটবে
তাই আমি জানি না।
অদৃষ্টকে শ্রদ্ধা করা ছাড়া
মানুষের আর কি করার থাকতে পারে?
সত্য অথবা শান্তি
মানুষ কোন পথে হাঁটবে?
সত্যের পথ বড় কণ্টকাকীর্ণ।
অথচ পৃথিবীর বেশির ভাগ মানুষ
দুর্বল দরিদ্র্য অশিক্ষিত।
অদৃশ্য শক্তিকে, ঈশ্বর মেনে নেওয়া ছাড়া
মানুষের আর উপায় কি?
ইচ্ছে হয় তোমার সাথে গলা মিলিয়ে
আমিও চীৎকার করে উঠি
"GOD IS DEAD! "
কিন্তু পারি না। কেন জানো?
দুর্বল মানুষ যদি ঈশ্বর বিশ্বাসে
জীবনে একটু শান্তি পেতে চায়;
তো আমি তাদেরকে বাধা দেবো কেন?
মালবিকা রান্না ঘর থেকে বকুনি দেয় আমাকে-
"এক কেজি মাছে চলে যায়
তো দেড় কেজি মাছ কেন? "
মালবিকা তুমি কি জানো
কাল সকালে
আমি আদৌ ঘুম থেকে উঠবো কিনা?
© অরুণ মাজী
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem