একটা প্রশ্ন আমাকে প্রায়ই তাড়িয়ে বেড়ায়। মানুষের সুখ কোথায়? অর্থে? খ্যাতিতে? সম্পদে? বেশির ভাগ মানুষই তাই ভাবে। অন্তত তাদের কর্মে এই ধারণার প্রতিফলন ঘটে।
কিন্তু আম গাছে চালতার খোঁজ করলে তুমি চালতা কখনো পাবে কি? অর্থ সম্পদে যদি সুখ থাকতো তো ধনী-বিত্তশালীরা সবচেয়ে বেশি সুখী হতো। খ্যাতিতে যদি সুখ থাকতো তো খ্যাতিমানরা সবচেয়ে সুখী হতো। কিন্তু তা ঘটে কি? তাহলে মাইকেল জ্যাকসন বা শ্রীদেবীর মতো ব্যক্তিরা অকালে চলে যেতেন কি?
অরুণ মাজী উন্মাদ বলে, সে উন্মাদের মতো ভাবে। সেটা কি রকম?
ধরো, তোমার অনেক টাকা। তুমি চুটকি মেরে দশ কেজি পালং শাক কিনে ফেললে। তাতে তুমি কতটা আনন্দ পেলে? খুব বেশি নয়।
এখন ধরো, তোমার ছোট্ট বাগানে, টবের মধ্যে তুমি দশটা পালং শাকের বীজ পুঁতলে। সেই বীজগুলো ছোট্ট ছোট্ট গাছ হলো। তুমি দিনের অক্লান্ত পরিশ্রম শেষে সটান তোমার বাগানে চলে যাও। সেই ছোট্ট গাছগুলোতে তুমি জল দাও। জল দেওয়ার সময় তোমার অজান্তেই তোমার মুখ আর চোখের মধ্যে হাসির ঝিলিক জন্ম নেয়।
কেন? দশ কেজি পালং শাক তোমার মধ্যে এই অনির্বচ্চনীয় সুখ আনতে পারে নি। কিন্তু গুটিকয় ছোট্ট পালং শাক তোমাকে এই অনির্বচ্চনীয় সুখ দিলো। কেন?
কারন- ছোট্ট পালং গাছগুলো তোমার হৃদয়, তোমার কল্পনা, তোমার পরিশ্রম তোমার আত্মার রক্ত দিয়ে সৃষ্টি। এই মহা আনন্দ কিসের মহা আনন্দ? সৃষ্টির মহা আনন্দ।
এইখানেই রয়েছে গোলক ধাঁধার উত্তর। মানুষের সুখ কেবল তার নিজস্ব সৃষ্টি করার ক্ষমতার মধ্যে। মানুষ যখন নিজে নিজে সৃষ্টি করতে পারে, সে সুখী। সে যখন তা পারে না, সে তখন চরম অসুখী।
মানুষ যেরূপ কল্পনা শক্তি দিয়ে সৃষ্টি করতে পারে, অন্যান্য প্রাণীরা তা পারে না। মানুষ এই দুর্লভ গুণের অধিকারী.কিন্তু মানুষ তার সেই সৃষ্টি ক্ষমতার বিকাশ ঘটায় না। মানুষ তার সৃষ্টি ক্ষমতা কাজে লাগায় না। সৃষ্টি না করলে তুমি সুখী হবে কি করে?
© অরুণ মাজী
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem