দেখেছো?
যে কুমারী নারী
আপন সন্তানকে হত্যা করে
হেসে হেসে বাড়ি ফেরে;
আতস কাঁচে
তার হাসির রঙ দেখেছো ?
উপরে রামধনুর বাহার।
অথচ ভেতরে
ঘৃণার কালো অন্ধকার।
ঘৃণা আর কাউকে নয়
ঘৃণা কেবল তার নিজেকে।
মা হয়েও, নিজ হাতে
হত্যা করে সন্তানকে।
হেসে হেসে সে ঘোষণা করে-
দেখো পৃথিবী দেখো-
আমি তিন্নি।
তোমাদের প্রিয়
হাসি খুশি ছোট্ট তিন্নি।
দুঃখের চেয়েও,
দুঃখকে স্বীকার করার অক্ষমতা
আরও বেশি দুঃখময়।
মানুষের দুঃখের আকাশে
বড় হৈ হুল্লোড়, কলরব আজ।
তবুও মানুষ-
হাসি দিয়ে ঢেকে আছে কান্না
ফুল দিয়ে ঢেকে আছে কাঁটা।
মঙ্গল গ্রহে নোঙ্গর গেড়েছে মানুষ
অথচ পৃথিবী বিষে বিষাক্ত আজ।
বুকে ঝুলছে হীরের নেকলেস
অথচ হৃদয়ে বইছে দুঃখের নদী।
আলো সাজে সেজে আছে শহর
অথচ বুকে মৃত্যুর নৃশংস নিঃশ্বাস।
ছুটছে মানুষ আকাশ ধরতে
অথচ পড়ছে মানুষ নরক গর্তে।
সবাই-ই কাঁদতে চায়
অথচ কেউই কাঁদতে পারে না।
গর্ব ঔদ্ধত্য আর লজ্জা
ছিনিয়ে নিয়েছে আজ
মানুষের কান্নার অধিকার।
ক্রন্দন-উন্মুখ আর্ত মানুষ
কাঁদতে চেয়েও কাঁদতে একটু পারে না।
মানুষের দুঃখের আকাশে
ভিড় জমেছে আজ।
মাতাল গর্ব, দু হাত তুলে নাচে।
উলঙ্গ ঔদ্ধত্য, বিবস্ত্র হয়ে ফষ্টিনষ্টি করে।
ঘোমটার আড়ালে নির্লজ্জ্য লজ্জা
ঘন ঘন কাঁপে আর শীৎকার ফুঁকে।
হায়রে মুখপোড়া মানব!
হাসি দিয়ে ঢেকে আছিস কান্না
তবুও কাঁদতে তুই পারিস না!
জীবনের সাজে ঢেকে আছিস মরণ
তবুও মরতে তুই পারিস না!
© অরুণ মাজী
Painting: Chen Yan Ning
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem