কিছুই দিও না আমায়
কেবল হাসি দাও তোমার।
হেমন্তের ভোরে
রাঙা সূর্যের মতো হাসি।
পূর্ণিমা রাতে
প্রস্ফুটিত জ্যোৎস্নার মতো হাসি।
মায়ের কোলে
পরিতৃপ্ত শিশুর মতো হাসি।
হেসে দাও সখী হেসে দাও
উঁচু বুকে তরঙ্গ তুলে অনেক অনেক হেসে দাও।
টোল ফেলা গালে তোমার
ঝিলিক ঝিলিক হেসে দাও।
রাঙা রাঙা ঠোঁটে তোমার
জবা হাসি হেসে দাও।
দুধ সাদা দাঁতে তোমার
টগর হাসি হেসে দাও।
ছুঁয়ে দেখো
বুকে কেবল নীল নীল ব্যথা।
চেয়ে দেখো
হৃদয়ে কেবল ছেঁড়া ছেঁড়া কথা।
ব্যথাকে ব্যথা লাগে না সখী
যদি হেসে দাও তুমি।
মরণকে মরণ লাগে না সখী
হেসে হেসে যদি ছুঁয়ে দাও তুমি।
হেসে দাও সখী হেসে দাও।
বুকটা তোমার উঁচু করে
ঢেউ খেলিয়ে হেসে দাও।
আড়চোখে ঝিলিক তুলে
জ্যোৎস্না জ্যোৎস্না হেসে দাও।
দাঁত দিয়ে ঠোঁট কেটে
বুকে, গোপন স্বপ্ন এঁকে দাও।
গাঢ় করে না পারো
আলতো করে হেসে দাও।
ভালোবেসে না পারো
ঘৃণা বুকে হেসে দাও।
ছুঁয়ে ছুঁয়ে না পারো
চেয়ে চেয়ে হেসে দাও।
চোখে তোমার, খিদে নিয়ে হেসে দাও
বুকে তোমার, উচ্ছৃঙ্খলতা ভরে হেসে দাও
নিতম্বে তোমার, জলোচ্ছ্বাস তুলে হেসে দাও।
হেসে দাও সখী হেসে দাও।
মুমূর্ষু জীবনে আমার
সঞ্জীবনী মন্ত্র লিখে দাও।
হতভাগ্য প্রাণে আমার
নতুন স্বপ্ন এঁকে দাও।
© অরুণ মাজী
Painting: Emile Eisman Semenovsky
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem