পাহাড়ি মেয়ে খণ্ড ২০ (Himel) Poem by Arun Maji

পাহাড়ি মেয়ে খণ্ড ২০ (Himel)

Rating: 5.0

পাহাড়ি মেয়ে খণ্ড ২০ অরুণ মাজীর রোমান্টিক উপন্যাস

দরজা খুলতে না খুলতেই দিদির প্রশ্ন
"দর্পণ কোথায়? "

আধখোলা দরজার মধ্য দিয়ে রীতিমত "ডজ" করার ভঙ্গীতে ঘরের ভেতরে ঢুকে, পিকুর কান ফাটানো চীৎকার
"দর্পণ মাসি......."

দিদি, দর্পণকে বুকে জড়িয়ে ধরে বললো-
"দর্পণ! তুই এসে গেছিস। জানিস? আজ আমরা দুজন আড্ডা দেবো। বিদু আর ভাই রান্না করবে! "

পিকু বললো
"জানো মাসি, তোমার সাথে বাগানে ক্রিকেট খেলবো বলে অপেক্ষা করছি।"

দিদি বললো
"নাহঃ পিকু, বাগান নষ্ট হবে।'

পিকু
"এ তো প্লাস্টিকের বল, মা। বাগানের কিচ্ছু হবে না।"

আর কোন কথা না বলে, কোন সময় নষ্ট না করে; পিকু- ড্রয়ার থেকে ব্যাট আর বল বের করে, দর্পণের হাত ধরে টানতে টানতে দরজার বাইরে বেরিয়ে গেলো। বেচারা দর্পণ! ভালোবাসার কত ঝক্কি! বড়দের ভালোবাসাকে কথার ফাঁদে এড়িয়ে যাওয়া যায়, কিন্তু ছোটদের ভলোবাসাকে নয়।

আসলে ছোটদের ভালোবাসা এতো কোমল নির্মল আর সুন্দর, যে সে ভালোবাসাকে খুনী ডাকাতরাও আঘাত করতে ভয় পায়। ছোটদের ভালোবাসা এতো কোমল মোলায়েম, বড়দের ভালোবাসা নয় কেন? কারন- বড়দের ভালোবাসার মধ্যে কিছু না কিছু ভেজাল থাকে। সদ্য প্রস্ফুটিত ফুলকে আঘাত করা, পরিণত বয়সের ফুলকে আঘাত করার চেয়েও কঠিন। আমি অমল বোস, এই সত্য আমার নিজের বাগানে পরীক্ষা করে দেখেছি।

দিদি আমার দিকে তাকিয়ে বললো
"কিরে আমরা তোদের, তালভঙ্গ করি নি তো? "

আমি হাসলাম। বললাম-
আমি জানি, গান আমি শুরু করি নি। দর্পণকে জিজ্ঞেস কর, সে শুরু করেছিলো কি না!

দিদি-
You are still in denial.

বিদুদা-
আহাঃ বেচারার সাথে লাগছো কেন? তরী নদীতে যখন ভিড়েছে, ঢেউ তখন এমনিই খেলবে।

আমি জিজ্ঞেস করলাম-
মানে?

বিদুদা আমাকে বললো-
মানে জেনে কাজ নেই আর। রান্না করার ভার আজ আমাদের উপর। কিন্তু ব্যাপার কি জানো অমল? রান্না ব্যাপারটা, আমার ঠিক আসে না। রান্নাটা তুমিই করো, আমি বরং তোমার হেল্পার রইলাম।

দিদি একে একে, ব্যাগ থেকে জিনিসপত্র বের করে, কিচেন টপের উপর রাখতে শুরু করলো। চিকেন। পটল। মুগ ডাল। টোম্যাটো। চালতা। ধনিয়া পাতা। দই। বেগুন। আদা। রসুন। পেঁয়াজ। আলু। বিদুদা আর আমি সেগুলো পরখ করে দেখলাম। পরে আমি বললাম-
তাহলে আলু পটলের দম, চিকেন কষা, চালতার চাটনি, বেগুন ভাজা আর মুগের ডাল? তুমি কি বলো বিদুদা?

বিদুদা কিছু বলার আগেই দিদি জিজ্ঞেস করলো-
"পারবি তো? "

আমি
চেষ্টা করতে ক্ষতি কি? তুই তো রইলি।

দিদি-
"কিছু লাগলে আমাকে ডাকিস। "

একটু থেমে দিদি যোগ করলো-
"নাহঃ, আমাকে নয়; দর্পণকে। আমি আজ বিশুদ্ধ রেস্ট করবো। "

কতকগুলো আইসক্রিম পট, প্লেটে করে সাজিয়ে, দিদি প্রায় লাফিয়ে লাফিয়ে বাগানে চলে গেলো। যাওয়ার সময় দিদি বলে গেলো-
"তোদের আইসক্রিম গুলো ফ্রিজে রেখে গেলাম। যখন চাইবি খেয়ে নিস।"

চিকেনটা ম্যারিনেট করতে দিয়ে, আলু পটল ভাজতে শুরু করলাম আমি। বিদুদা আমার সাথে। আমাকে সাহায্য করছে। কিছুক্ষণ পর বিদুদা আমাকে বললো
"রান্না ব্যাপারটা তত কঠিন নয়, তাই না? "

আদৌ না। রান্না বেশ মজার জিনিস। রান্নাও একপ্রকার শিল্প।

"হুঁ, ক্রিয়েটিভ হওয়ার অনেক সুযোগ। অনেক এক্সপেরিমেন্ট করা যায়। চিকেনটা আমি বানাই?

ভেরি গুড আইডিয়া। এতো হাড় মাংস জোড়া লাগাও তুমি, আর চিকেন কষা বানাতে পারবে না?

"ঠিকই বলেছো, চাইলেই পারি। তাই না? কোন বিশেষ কাজ আমরা পারি না, তার কারন আমরা  মন দিয়ে সেই কাজটা করতে চেষ্টা করি না। "

একদম ঠিক কথা। নতুন কিছু শেখার ঝক্কি কেউ বইতে চায় না। যদিও, গতানুগতিক অভ্যাস মানুষকে অবসাদগ্রস্ত করে। ধ্বংস করে। মানুষ যদি নিত্য নতুন জিনিস নিয়ে ব্যস্ত থাকে, তো তার জীবনে অবসাদ আর আসবে না।

"হুঁ, একদম ঠিক।"

ঊহঃ।.. হটাৎই বাইরে থেকে একপ্রকার আর্তনাদ ভেসে এলো। আমি আর বিদুদা রান্না ফেলে তখুনি পড়ি মরি করে ছুটে গেলাম। দেখি.....  

© অরুণ মাজী

পাহাড়ি মেয়ে খণ্ড ২০ (Himel)
Wednesday, May 6, 2020
Topic(s) of this poem: love,passion,romance
COMMENTS OF THE POEM
READ THIS POEM IN OTHER LANGUAGES
Close
Error Success