অরুণ মাজীর রোমান্টিক উপন্যাস
উপরে উঠে দেখলাম দপর্ণের দরজা বন্ধ। দরজায় নক করতেই, দর্পণ দরজা মেলে ধরলো।
"সরি"
কথাটা বলেই দ্রুত বাইরে বেরিয়ে এলাম আমি। দর্পণের পরণে কেবল শায়া আর ব্লাউজ। মনে হলো, স্নানের জন্য তৈরী হচ্ছিলো। হয়তো দিদি এসেছে ভেবে, দরজা খুলেছিলো ও।
কয়েক সেকেন্ড পর, ব্লাউজের উপর আলতো করে শাড়ি জড়িয়ে বাইরে বেরোলো দর্পণ। আমার দিকে তাকিয়ে বললো-
"ভেতরে এসো।"
এরপর ওর বিছানার দিকে ইঙ্গিত করে আমাকে বললো-
"বসো ওখানে।"
সম্মোহিত হরিণ শিশুর মতো দর্পণের আদেশ পালন করলাম আমি। আমি বিছানায় বসতেই, আমার মুখের কাছে এসে, ও বললো-
"আমি বোধহয় আর যুবতী নই, তাই না অমল? লাবণ্যের বয়সে বিয়ে হলে, পিকুর মতো আমারও একটা ছেলে থাকতো! "
কি বলবো বুঝতে না পেরে, চুপ করে রইলাম আমি। যদিও মাঝে মাঝে লাবণ্যের মুখের দিকে তাকিয়ে, বেশ কিছু সময় ধরে নির্লজ্জ্য ভাবে ওকে চেয়ে চেয়ে দেখলাম।
আলতো করে জড়ানো শাড়ির আবরণ ভেদ করে উঁকি মারছে, ওর সোনালী বাগান আর সবুজ উপত্যকা। আমি নিশ্চিৎ, এমন সুন্দর বাগান আর উপত্যকার জন্য, যে কোন পুরুষ রাতে তার নিদ্রা হারাবে। নিদ্রায় স্বপ্ন দেখবে। পুণ্যের পথে যাত্রা করে, হাসি মুখে নরক বেছে নেবে।
দর্পণ সুন্দরী। ভয়ঙ্কর সুন্দরী। হয়তো বা দিদির চেয়েও বেশি সুন্দরী। কিন্তু একি হলো আমার? এমন করে দর্পণকে আগে তো দেখিনি। কি জানি কেন, এমন করে ওকে দেখতে, নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছে। তবুও কিন্তু বারবার দেখছি। বারবার উঁকি মেরে দেখতে গিয়ে, একবার অনেকক্ষণ চোখাচোখি হলো ওর সাথে। লজ্জা পেলাম। লজ্জা কাটাতে, খাটের উপর রাখা ওর ব্যাগের হাতলটা নিয়ে খুনসুটি শুরু করলাম আমি। দর্পণ বললো-
"নিজের বাগানে ঢুকে, এমন অদ্ভুত চোর চোর ভাব কেন তোমার? "
মানে?
এক ঝটকায় ওর শাড়ির আবরণ বিছানার উপর ছুঁড়ে ফেলে, দর্পণ আমার কাছে দাঁড়িয়ে বললো-
এ বাগান, এ উপত্যকা সবই তোমার। তোমাকে এসব আমি, বারো বছর আগেই দিয়েছি।
অর্দ্ধনগ্ন এক নারী এক্কেবারে আমার নাকের সামনে দাঁড়িয়ে। ওর শ্বাস আমার মুখের উপর পড়ছে। মাথাটা ঝিমঝিম করতে শুরু করলো। বুকের মধ্যে হৃৎপিন্ড দুম দুম করে বাজতে শুরু করলো। শরীরের মধ্যে অদ্ভুত এক শিহরণ জাগলো। ওকে ছুঁতে ইচ্ছে হলো। কিন্তু পারলাম না। কেবল ওর অর্দ্ধ নগ্ন নন্দন কাননের দিকে চেয়ে রইলাম আমি। এ এক বিস্ময়। দর্পণকে আগে আমি লক্ষ লক্ষ বার দেখলেও, এমন করে কখনো দেখিনি। ওর নন্দন কাননের সৌরভ পৃথিবীময় সৌরভ ছড়ালেও, আমি কখনো তার ঘ্রাণ নিইনি। নেওয়ার চেষ্টাও করি নি।
দর্পণ, ওর বাঁ হাতটা আমার ঘাড়ে রেখে, আমার চোখে চোখ রেখে, ডান হাতের আঙুল দিয়ে ও আমার গাল ছুঁয়ে কি যেন কি আঁকলো। তারপর ডান হাতের তর্জনী দিয়ে আমার ঠোঁট ছুঁয়ে, আলতো করে একটা চিমটি কাটলো। এরপর অস্ফুট স্বরে, ঠোঁট দুটো মৃদু নাড়িয়ে, অব্যক্ত এক ব্যথার সুরে জিজ্ঞেস করলো-
"আর কত অপেক্ষা করবো অমল? আর কত অপেক্ষা? "
এরপর দর্পণ আমাকে, ওর বুকে চেপে ধরলো। আমার চিবুক ওর দুই পাহাড়ের মাঝে ঢালু উপত্যকায়। দুই গাল, দুই পাহাড় ছুঁয়ে। আমার শ্বাস প্রশ্বাস আরও ঘন আর গভীর হলো। এক ঝটকায় ওকে কাছে টেনে নিলাম আমি। আমার মুখ ঠোঁট আর দাঁত দিয়ে, ওর লজ্জার আবরণ ঢাকা দুই পাহাড় পরখ করতে শুরু করলাম আমি।
দর্পণের সোনালী গাল রক্তবর্ণ হয়ে উঠলো। ও আমাকে আরও জোরে, ওর বুকে চেপে ধরলো। ওর কণ্ঠে একপ্রকার পরিতৃপ্তির আর্তনাদ। দর্পণ আমার চুলের মুঠি ধরে, আমার মুখ ওর বুক থেকে সরিয়ে, ওর মুখের উপর সজোরে চেপে ধরলো। প্রস্ফুটিত ফুলের পাপড়ির মতো কোমল ওর ঠোঁট। কিন্তু এখানে এতো আগুন কেন?
এ ঠোঁট? অথবা আগ্নেয়গিরি? এ নারী দেহের সৌন্দর্য্য? অথবা যুবা পুরুষের মৃত্যুকুন্ড? এ দর্পণের আমার জন্য অপেক্ষা? অথবা নারী পুরুষের কামনার আগুনে মরার জন্য অপেক্ষা? এই আগুনে কে মরতে চায়? দর্পণ? অথবা আমি? অথবা আমরা দুজনেই?
আমার মধ্যে পুরুষ সুলভ হিংস্র পাশবিকতা জেগে উঠলো। আমার শিরা উপশিরায় এখন এক নেশা। জীবনের প্রথমবার, অর্দ্ধনগ্ন নারী দেহের সবুজ সোনালী বাগানকে লন্ড ভন্ড করার নেশা। এক টানে আমি ওর ব্লাউজ ছিঁড়ে, ওকে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে, ওর অর্ধনগ্ন দেহের মধ্যদেশে হাঁটু গেড়ে চড়ে বসলাম আমি। তারপর বেশ একটু ঝুঁকে, ওর ডান দিকের পাহাড়ের চূড়া, দাঁত দিয়ে কেটে বললাম-
তবে আজই কি শেষ করবে তোমার অপেক্ষা?
দর্পণ কিছু বলার জন্য মুখ খুলতেই, নীচ থেকে দিদির গলা ভেসে এলো-
"ভাই, নীচে আয় তোরা।"
© অরুণ মাজী
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem