অরুণ মাজীর রোমান্টিক উপন্যাস
উপরে উঠে, এবারও দর্পণ, ওর নিজের ঘরে না গিয়ে আমার ঘরে ঢুকলো। তারপর সোজা খাটের কাছে গিয়ে, নিজেকে বিছানার উপর ছুঁড়ে দিলো। বিছানার উপর পাশ বালিশ আঁকড়ে, আমার দিকে চেয়ে দুষ্টু হাসি হাসলো। এবার আদুরে গলায় বললো-
"লাইটটা বন্ধ করো তো।"
ওর এই হুকুম শুনে, হাসলাম আমি। জানালার কাছে গিয়ে, জানালাটা আলতো করে খুলে দিলাম। যাতে মৃদু আলো, ঘরে ঢুকতে পারে। তারপর লাইট বন্ধ করে, বিছানায় উঠে এলাম আমি। ওর দিকে চেয়ে জিজ্ঞাসা করলাম-
হটাৎ এতো সাহসী হয়ে উঠলে!
দর্পণ
"হবো না কেন? কতদিন আর ভীরু দুর্বল থেকে, ব্যথা বুকে মরবো? এবার তাই ভেবেছি, যা চাই, তা আমি ছিনিয়ে নেবো।"
আমি বললাম
মানে?
"দর্পণ আমাকে কাছে টেনে, একপ্রকার জোর করে ওর বাঁ পাশে শুইয়ে দিলো। তারপর আমার দিকে মুখ করে শুয়ে, ওর ডান হাত দিয়ে আমার গলা জড়িয়ে ধরলো। আমার দিকে চেয়ে, দুষ্ট হাসি হেসে ও বললো-
"মানে, তুমি আমার।"
আমিও একটু দুষ্টু হাসি হেসে বললাম-
এর অর্থ কি?
দর্পণ কিছু বললো না। আমার দিকে দুষ্টু চোখে চেয়ে, ওর ডান হাতের নখ দিয়ে আঁচড় দিতে শুরু করলো। প্রথমে বুকে, তারপর নাভিতে, তারপর তারও নীচে। হ্যাঁ আরও আরও নীচে।
ওহঃ গড! দর্পণ করছেটা কি? আমি ক্লান্ত। ভীষণই ক্লান্ত। কিন্তু ওর এই আঁচড় ক্রমশঃ জাগিয়ে তুলছে আমাকে। একটু একটু করে শিহরণ অনুভব করছি আমি। এবার ও, আমার আরও কাছে সরে এলো। আমার বুকে কিস করে, ও জিজ্ঞেস করলো আমাকে-
"এর মধ্যে যা কিছু আছে, সব আমার।"
হাসলাম আমি। কিন্তু কিছু বললাম না। নিজের মধ্যে জাগতে থাকা শিহরণকে কেবল অনুভব করতে থাকলাম। এবার ও, আমার গলাতে হাত রেখে, আমার ঠোঁটে, ওর ঠোঁট চেপে ধরলো।
আগুন। কি ভয়ঙ্কর আগুন ওর ঠোঁটে। ওর ঠোঁটের আগুন, আমার সারা শরীর জ্বালিয়ে দিলো। প্রতিটা রোমকূপে এক অধৈর্য্য জেগে উঠলো। এক অদম্য ইচ্ছে জেগে উঠলো। এক পাশবিক নেশা জেগে উঠলো। ধৈর্য্যচ্যুতি ঘটলো আমার। সংযমচ্যুতি ঘটলো আমার। দর্পণকে আমার বুকের উপর চেপে, ওর কামিজের হুক গুলো খুলে দিলাম আমি। হুকগুলো খুলতেই, ওর বুকের পাহাড় দুটো সদম্ভে জেগে উঠলো আমার চোখের সামনে।
পাহাড়! নারীদেহের দুর্মূল্য পাহাড়। পুরুষ স্বপ্নের বহু আকাঙ্খিত পাহাড়। পুরুষ কল্পনায় হাতছানি দিতে থাকা অগম্য পাহাড়। কি করি? হে ঈশ্বর, কি করি আমি? নারী বক্ষের দুর্মূল্য পাহাড় আমার সামনে। কি করি আমি? ক্ষুধার্ত পশুর মতো, ওর বুকের উপর ঝাঁপিয়ে, ওর পাহাড়-চূড়াতে আমার মুখ চেপে ধরলাম আমি।
দর্পণ কিছু বললো না। নাহঃ একটা কথাও না। ওর শ্বাস এখন উষ্ণ আর গভীর। ওর মুখের দিকে চেয়ে দেখলাম- ওর গাল লাল, চোখ ক্ষুধার্ত, কণ্ঠ রুদ্ধ। ওর বুকের উপর দিয়ে ক্রস করে, এবার ওর ডান দিকে এলাম আমি। অর্দ্ধশায়িত অবস্থায়, ওকে কাছ টেনে, ওর ঠোঁটে আমার ঠোঁট চেপে ধরলাম। একবার। দুবার। তিনবার। তেরোবার। তেত্রিশবার। নাহঃ থামতে আমি চাই না। থামলে আমার চলবে না।
এরপর ডান হাত দিয়ে ওর কামিজ উঠিয়ে, ওর নাভিতে আঁচড় কাটলাম আমি। ধীরে। কিন্তু গভীর করে। অনুভূতির গাঢ়ত্বে আবিষ্ট দর্পণ, চোখ বুজলো এবার। ডানহাতটা ওর সালোয়ারের নীচে নিয়ে যেতেই, ও আমার হাত চেপে ধরলো। আমিও ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নই। দাঁত দিয়ে ওর ঠোঁট কামড়ে ধরে, আবার আমি হাতটা ওর সালোয়ারের নীচে নিয়ে যেতে চেষ্টা করলাম। এবারও দর্পণ হাতটা চেপে ধরলো আমার। এবার একটু অধৈর্য্য হয়ে, আমার ঠোঁট থেকে ওর ঠোঁট দুটো ছাড়িয়ে নিয়ে, ও আদুরে গলায় বললো আমাকে-
"কি হচ্ছে অমল? প্লিজ, আজ নয়।"
কিছুটা অধৈর্য আর কিছুটা হতাশ হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম?
কেন? আজ নয় তো কবে?
"কাল তুমি 'পিল' কিনে এনো, আর তারও কয়েকদিন পর।"
কিছুটা হতাশ হলাম আমি। ডান হাতটা ওর নাভি থেকে সরিয়ে নিলাম। কিন্তু এবার ওর বুকের পাহাড় ছুঁয়ে, শিশু সুলভ খেলা শুরু করলাম। ও আমার দিকে চেয়ে দেখলো। তারপর অব্যক্ত এক ভিক্ষার সুরে বললো-
"জোরে চেপে ধরো অমল। আমাকে আরও, আরও জোরে চেপে ধরো।"
এবার আমি ওর বুকের উপর চড়ে, ওর দিকে ঝুঁকে গাঢ় করে চুমু খেলাম। তারপর বাঁ হাত দিয়ে ওকে জড়িয়ে, ওর ঠোঁট দুটো আমার ঠোঁটের মধ্যে রেখে, ওর বুকের উপর ঘুমিয়ে পড়লাম।
আহঃ কি স্বর্গীয় এক অনুভূতি। মনে হলো- মানুষ কি সাংঘাতিক মূর্খ! মানুষ আকাশে স্বর্গ খুঁজে। অদৃশ্য মায়ালোকে স্বর্গ খুঁজে। অথচ সে জানে না, স্বর্গ এই মর্ত্যেই। স্বর্গ, নারী বক্ষের গুহায় লুক্কায়িত। তার নাভির উপত্যকায় লুক্কায়িত। তার ঝর্ণার উত্তাল স্রোতে লুক্কায়িত। আহাঃ কি আনন্দ আমার! সেই স্বর্গের উপর শায়িত আমি। ধন্য আমি হে ঈশ্বর। ধন্য আমি।
হটাৎ মনে হলো, আমার শরীরের সমস্ত ভারটা দর্পণের বুকের উপর রেখেছি আমি। বেচারার বোধহয় বেশ কষ্ট হচ্ছে। আমি ওর ঠোঁটে একটা চুমু খেয়ে জিজ্ঞেস করলাম-
এভাবে শুয়ে আছি, তোমার কষ্ট হচ্ছে না?
দর্পণ আমার দিকে চেয়ে হাসলো। বললো-
কষ্ট হচ্ছে, কিন্তু খুব ভালোও লাগছে।
আমি
নেমে পড়ি তাহলে?
দর্পণ-
নাহঃ এভাবেই তুমি চেপে থাকো আমাকে।
© অরুণ মাজী
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem