পাহাড়ি মেয়ে খন্ড ১৮(Himel) Poem by Arun Maji

পাহাড়ি মেয়ে খন্ড ১৮(Himel)

Rating: 4.5

পাহাড়ি মেয়ে খন্ড ১৮অরুণ মাজীর রোমান্টিক উপন্যাস

ইডিয়েট হতে আপত্তি নেই আমার। কিন্তু মানুষকে আঘাত করতে আপত্তি আমার। দর্পণ আমার দিদির বন্ধু, আমার বন্ধু, আমাদের পরিবারের বন্ধু। দর্পণকে আঘাত করা খুব নিষ্ঠুরতা হবে।

দর্পণকে দেখে ভালো লাগে। দর্পণের সঙ্গে কথা বলতে ভালো লাগে। দর্পণের সঙ্গে সময় কাটাতে ভালো লাগে।  কিন্তু দর্পণের প্রেমে পড়েছি আমি, এমন কখনো মনে হয় নি আমার।

প্রেম কি? প্রেম কেন হয়? কখন হয়? কিভাবে হয়? তার উপসর্গ কি?

কে জানে! এ পৃথিবীর কতজন মানুষ তা বোঝার চেষ্টা করে? আমিও কি করি?

কত লক্ষ লক্ষ মানুষ, প্রেমে পড়ে কাছে আসে।  তারপর বেশ দ্রূত তারা, পরস্পরের থেকে অনেক অনেক দূরে চলে যায়। কিছুদিন আগের প্রেমের সম্পর্ক, চরম ঘৃণার সম্পর্কে রূপান্তরিত হয়।

এটা কি প্রেম? যাকে তুমি ভালোবাসো, তাকে কি তুমি এতো চরম ঘৃণা করতে পারো? দুই মানুষের প্রেমের সম্পর্কে, ক্ষণিকের ক্রোধ বা ঘৃণাকে মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু দীর্ঘ লড়াই, রক্তারক্তি, মুখ দেখাদেখি বন্ধ, এগুলোকে কি প্রেম বলে মেনে নেওয়া যায়? যাকে তুমি ভালোবাসো, তাকে তুমি না দেখে থাকবে কি করে? তার সঙ্গে দুটো কথা না বলে, তুমি থাকবে কি করে?

কত মানুষ- কামনার উলঙ্গপনাকে প্রেমের আঁচলে ঢাকে। লোভ স্বার্থ আর সম্পদ পিপাসাকে প্রেমের আঁচলে ঢাকে। কেন?

প্রেমের আঁচল বড় সুন্দর আর পবিত্র। এমনকি পাপীও, প্রেমের আঁচলে সুন্দর সাজে সেজে থাকে। সেই সাজে কোন দুঃখ নেই আমার। কিন্তু প্রেমের আঁচলে আশ্রয় নিয়ে, তারা যখন অন্য মানুষের ভয়ানক ক্ষতি করে, তা খুবই দুঃখ জনক।

দর্পণের প্রতি আমার নিরাসক্ত ভালোবাসা, প্রেম? অথবা হিমেলের প্রতি আমার রোমাঞ্চ অনুভব, প্রেম? কোনটা? অথবা কোনোটাই নয়? কাকে ভালোবাসি আমি?

ভালো তো দুজনকেই বাসি। কিন্তু কার সঙ্গে আমার হৃদয়ের প্রেম? ধুস! এতো ভাবছি কেন? হিমেল তো এখনো ভালো করে কথাই বলে নি। ও বরং, বিরক্তি দেখিয়ে, শেষবার কাছে পর্যন্ত্য আসে নি।  

কিন্তু প্রেম কি, দুপক্ষ থেকেই ঘটতে হবে? এক পক্ষ থেকে ঘটলে হয় না? হিমেল আমার প্রেমে নাও পড়তে পারে। কিন্তু আমি কি ওর প্রেমে পড়তে পারি না?
কিন্তু আমি কি ওর প্রেমে সত্যিই পড়েছি? অথবা ওকে কেবল ভালো লাগে আমার?

ক্রিং ক্রিং ক্রিং। ফোনটা বেজে উঠলোআমার। বললাম-
বিনয় তুই?

"কি গুরু, খুব ঘন ঘন দার্জিলিং-এর হাওয়া খাচ্ছিস, ব্যাপার কি? পাহাড়ি কোন ফুল দেখেছিস নাকি? "

হ্যাঁ, শুধু দেখি নি, প্রেমেও পড়েছি ।

"মানে? তো দর্পণ? " বিনয় প্রায় আঁতকে উঠলো।

দর্পণের প্রেমে কখনো পড়ি নি আমি।

"কিন্তু সে তো, পড়েছে। বেচারা আর কতকাল অপেক্ষা করবে? "

দর্পণও এখানে আসছে।

"দর্পণও আসছে? ব্যাপার কি রে? ব্যাপার খুব জটিল মনে হচ্ছে।"

হ্যাঁ। জটিলই বটে।

"আমিও আসবো নাকি? "

আয়। এখুনি চলে আয়।  

"বিয়ে কর। আসছি।"

বিয়ে কি আর হাতের মোয়া? আগে প্রেমে পড়ি। হাবুডুবু খাই। তারপর।

"তুই বরং  দর্পণকেই বিয়ে কর। তোর প্রেমে পাগল বেচারা।"

দর্পণকে? দিদির বন্ধু সে।

"তো কি? তোর শালা ভাগ্য ভালো, তোকে এতো ভালোবাসে সে।"

সেটাই তো এখন সমস্যা। পাহাড়ি ফুল দেখতে দার্জিলিং এলাম। এখন দেখছি বাগানের ফুলও কাছে আসতে চাইছে।

"তো, দুই ফুলেরই গন্ধ নে।"

তুই এক হারামজাদা। পাপ হবে না?

পাপ হবে কেন? একটা বুকে রাখবি। অন্যটা দূর থেকে শুঁকবি।

মানে?

"বাগানের ফুল ঘরে রাখ। বুনো ফুল জঙ্গলে রাখ।"

তা দ্বিচারিতা। ব্যাভিচার। তুই শালা চরিত্রহীন।

"চরিত্রহীন আমি? অথবা তুই? "

আমি কেন?

"কোন ফুলের গন্ধ শুঁকে ভালো লাগলে, তাকে তুই ভুলে যেতে পারবি? এই সত্যকে অস্বীকার করাই তো চরিত্রহীনতা।"

চরিত্রহীন হবো না বলেই তো দর্পণকে এড়িয়ে চলি।

"যে ভালোবাসা দর্পণকে তোকে দিয়েছে, তা অস্বীকার করা পাপ নয়? "

অস্বীকার আমি করি না।

কিন্তু তাকে মূল্য তো তুই দিস না!

তুইও দিদির সুরে কথা বলছিস। তোরা সবাই আমার শত্রু।

"বন্ধু বলেই শত্রু। শোন, আমি এখন এয়ারপোর্টে। প্লেনে উঠবো। আজ রাখি।"

তোকে এখানে মিস করছি। চলে আয়।

"তুই শালা বিয়ে কর। আসবো"  

© অরুণ মাজী

Friday, May 1, 2020
Topic(s) of this poem: love,passion
COMMENTS OF THE POEM
READ THIS POEM IN OTHER LANGUAGES
Close
Error Success