এ মহাবিশ্বে, সব কিছুর সাথে মানুষের নাড়ীর যোগ। নদী আকাশ পর্বত। গ্রহ নক্ষত্র সূর্য। পশু পাখি প্রাণী। দুঃখ যন্ত্রণা রোগ মৃত্যু।
দুঃখ যন্ত্রণা রোগ মৃত্যু বললাম, তো অবাক হলে; তাই না? নাড়ীর যোগ না থাকলে, মানুষের জীবনে এরা বারবার আসে কেন? মানুষের কাছে এরা হয়তো অপ্রিয়, কিন্তু এদের সাথে নাড়ীর যোগ তুমি অস্বীকার করবে কি করে?
তোমাদের পরিবারে, হয়তো কোন ভাই বা বোনকে তুমি পছন্দ করো না। কিন্তু তার সাথে তোমার নাড়ীর যোগ তো রয়েছে। অপ্রিয় বলে কি নাড়ীর যোগ থাকতে পারে না?
যে তোমার অপ্রিয়, তাকে যদি তুমি ঘৃণা করো, তো তাতে তোমার দুঃখ কষ্ট আরও বাড়বে। দুঃখ যন্ত্রণাকে, মানুষ যত বেশি ঘৃণা করবে, দুঃখ যন্ত্রণার আঘাতে, মানুষ তত বেশি রক্তাক্ত হবে। দুঃখ যন্ত্রণাকে, মানুষ যত বেশি হাসি মুখে গ্রহণ করবে, সে তত বেশি দুঃখ যন্ত্রণার আঘাত মুক্ত হবে।
যে মানুষের যত কম সহ্য ক্ষমতা, তার জীবন তত বেশি দুঃখময়। সহনশীলতা, মানুষের দুঃখ যন্ত্রণা কম করে। কিন্তু এই সহনশীলতা গুণ তুমি গড়বে কি করে?
এই সহনশীলতা গড়তে গেলে, আগে তোমাকে, মহাবিশ্বের মহাজ্ঞানকে (Absolute Wisdom)উপলব্ধি করতে হবে। কি সেই মহাজ্ঞান? পৃথিবীর সব কিছুর অস্তিত্ব জোড়ায় জোড়ায়। একে আমি বলি- DUALITY OF EXISTENCE/সৃষ্টির দ্বৈত সত্তা। দুঃখ আনন্দ। জোয়ার ভাঁটা। আলো আঁধার। উত্থান পতন। জন্ম মৃত্যু। এরা সবাই কিন্তু জোড়ায় জোড়ায়। এদের কেউই কিন্তু একা একা বাঁচতে পারবে না।
অন্ধকার না থাকলে তুমি আলোর অস্তিত্ব বুঝতে পারবে না। আবার আলোর অস্তিত্ব না থাকলে তুমি অন্ধকারের অস্তিত্ব বুঝতে পারবে না। মানুষের জীবনে ভালো খারাপ- এই দুইয়েরই ভূমিকা অতি আবশ্যক। মানুষের জীবনে দুঃখ যন্ত্রণা রোগের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা রয়েছে। এদের অস্তিত্বকে অস্বীকার করার অর্থ, তোমার নিজের অস্তিত্বকে অস্বীকার করা। পৃথিবী বা সূর্যের অস্তিত্বকে অস্বীকার করা।
যা ঘটে না, তাকে যদি তুমি ঘটাতে চাও; তো, তা কি কখনো ঘটবে? নাহঃ। কখনো ঘটবে না। তাতে তোমার আশাভঙ্গের যন্ত্রণা আরও অনেক গুণ বাড়বে।
দুঃখ যন্ত্রণা রোগ মৃত্যু বিশ্রী মন্দ ইত্যাদি, মানুষের অস্তিত্বের জন্য ভীষণই অপরিহার্য। মানুষের জীবনে, এদের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা রয়েছে। এই সত্য যেদিন তুমি হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করতে পারবে, সেদিন তুমি এদের প্রতি সহনশীল হবে। পৃথিবীর সবার প্রতি সহনশীল হবে। মহাবিশ্বের সবার প্রতি সহনশীল হবে। সেদিন তুমি অনেক বেশি প্রশান্ত আর গভীর হবে। সেদিন কোন দুঃখ যন্ত্রণা তোমাকে আর আঘাত করতে পারবে না। ভালো থেকো তোমরা। ডাঃ অরুণ মাজী /সিডনি
© অরুণ মাজী
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem