ঘুরছে পৃথিবী বনবন করে
হাঁটছে সময় হনহন করে।
এদিকে টাল খেতে খেতে উড়ছে আকাশে-
স্বর্ণখচিত শিরস্ত্রাণযুক্ত
দোর্দন্ড প্রতাপ সম্রাটের "দাড়ির"-
আধ ইঞ্চি চুল।
তাও সত্যিকারের চুল নয়।
দুষ্টু উইপোকা দ্বারা অত্যাচারিত
ইতিহাসের ছেঁড়া পাতায়
ইতিহাসহীন
এক উঠতি শিল্পীর আঁকা- চুল।
তার দাড়ির আধ ইঞ্চি চুল
ভবিষ্যতে একদিন খোলা আকাশে উড়বে;
কেবল এই আশায়
মানুষ বিখ্যাত হতে চায়! মহৎ হতে চায়!
মানুষের নাকের ডগায়
পা তুলে, তাকে দেখিয়ে দেখিয়ে শুঁশুঁ করে ফেতি কুত্তা।
ঝিঁঝিঁ করে
তাকে তাচ্ছিল্যের আওয়াজ দিয়ে যায় ঝিঁঝিঁপোকা।
টিক টিক করে
তাকে টিটকিরি করে যায় দেওয়ালের টিকটিকি।
বাড়া ভাতে ছাই দিয়ে
গালে তার ঠাস করে থাপ্পড় কষিয়ে যায় দুর্ভাগ্য।
মানুষ আকৃতির হুঁশহীন জীবগুলো
তবুও কত নির্বিকার! কত নির্লজ্জ্য!
তবুও তার চৈতন্য জাগে না।
তবুও মানুষ
ফেতি কুত্তার সাথে চরিত্র ভাগ করে
যেন তেন প্রকারেণ রাজা হতে চাই।
নেকড়ের সাথে নর মাংস ভাগ করে
ক্ষমতাশালী সম্পদশালী হতে চায়।
ধূর্ত শেয়ালের সাথে আন্ডারপ্যান্ট ভাগ করে
ঘোমটা ঢাকা মহৎ সাজতে চায়।
দিগ্বিজয়ী রাজা দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের "অস্থি"-র
এক কণা কি অক্ষত আছে?
নূরজাহানের সুউচ্চ বক্ষদেশের রত্নখচিত আভরণের
এক বিন্দু কি অক্ষত আছে?
হামুরাবীর ঝুলন্ত বাগানের পোকাযুক্ত বেগুন গাছের
একটা শিকড়ও কি বেঁচে আছে?
এসব ফালতু প্রশ্ন
মানুষ নিজেকে করে না।
তার প্রতিবেশীর উদ্ভিন্ন যৌবনা স্ত্রীর
শোয়ার ঘরে উঁকি মারতে ব্যস্ত মানুষ;
এসব ফালতু প্রশ্ন নিজেকে করে না।
কে করে? তবে কে করে?
অরুণ মাজীর মতো আর কটা উন্মাদ আছে
যে, এসব ফালতু প্রশ্ন নিজেকে করে?
© অরুণ মাজী
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem