পেন্তীর মা অনাহারে ধুঁকছে।
নগেন মাস্টার
বৃদ্ধাশ্রমের জানালায় চোখ রেখে দেখে
একটা উড়োজাহাজ হুশ করে চলে গেলো।
চোখদুটো তার জলে ভরে এলো।
দূরে, অনেক দূরে সাগর পারে তার ছেলে।
বড় চাকরী। মোটা টাকা মাইনে পাই।
অথচ নগেন মাস্টারের ওষুধ কেনার পয়সা নাই।
দুধের শিশু আয়ান
বন্ধুদের সাথে
খেলছে সিরিয়ার এক রাস্তায়।
হটাৎ বিকট আওয়জে কান ফেটে যায়!
ধোঁয়া। আগুন। পোড়া মাংসের গন্ধ।
পরক্ষণেই দেখি
ছোট্ট শিশুদের ঝলসানোঅঙ্গ।
সকালে চোখ মেললেই ভেসে আসে-
নারীর আর্তনাদ। শিশুর কান্না।
বৃদ্ধা মায়ের অভিমান মিশ্রিত বেদনা।
"হায় ঈশ্বর!
কেমন মানুষ আমরা? কেমন সৃষ্টি তোমার? "
চোখে জল আসে আমার।
আকাশ পানে চেয়ে দেখি
সূর্য হাসছে।
রাগ হয় আমার। চীৎকার করে বলি-
"কেমন সূর্য তুমি?
নক্ষত্রের হৃদয় তোমার। এতো নিষ্ঠুর কেন তুমি? "
আবার হাসে সূর্য।
প্রশান্তি ভরে বলে আমায়-
"বাছা, এ মহাবিশ্বে
দুঃখ আছে। আনন্দও আছে।
আর্তনাদ আছে। হাসিও আছে।
ভাঙা গড়া, সৃষ্টি লয়,
আলো আঁধার, জোয়ার ভাঁটা, জন্ম মৃত্যু
সবই এক সঙ্গে খেলছে।
তুইও হারিয়ে যাবি একদিন।
আমিও হারিয়ে যাবো একদিন।
তারপরও সৃষ্টি থাকবে।
তারও আবার লয় থাকবে।
কাঁদবি দুঃখ পেতে নয়।
কাদঁবি এ সৃষ্টিকে সুন্দর করতে।
আমি জ্বলছি। ছাই হচ্ছি। কাঁদছি।
আমি কেবল আলো দিতে পারি।
আমি তাই সেই কাজটাই করছি।
তুই বাছা তোর আপন কাজ কর।
তুই তোর মতো করে
আলো দে। হাসি দে। সুগন্ধ দে।"
শিষ্য করো হে সূর্য
শিষ্য করো আমায়।
© অরুণ মাজী
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem