জেগে আছো কৃষ্ণচূড়া?
রাত বারোটা
অথচ করবীর মেয়েটা
এখনো ঘরে ফেরে নি।
জেগে আছো?
তুমি জেগে আছো কৃষ্ণচূড়া?
মাধবীলতা বলছিলো-
আজকাল
মানুষ নামে এক রাক্ষস
ফুল কুঁড়ির রক্ত চুঁষে খায়!
জুঁইয়ের হারিয়ে যাওয়া মেয়েটাও
ভেসে উঠেছিলো
গঙ্গায় প্রিন্সেপ ঘাটের কাছে।
যোনিতে তার
মানুষ দাঁতের হিংস্র চিহ্ন ছিলো।
বুকে তার
মানুষ নখের তীক্ষ্ণ আঘাত ছিলো।
ভয় হয় কৃষ্ণচূড়া!
করবীর ফুটফুটে মেয়েটা...
ঊহঃ ভাবতেও পারি না!
জেগে আছো? জেগে আছো তুমি?
খোঁজ নিয়ে দেখো না গো-
কোথায় আছে পোড়ামুখী মেয়েটা!
মানুষের কাছাকাছিও যেও না।
হাসনুহানা বলছিলো
মানুষের নিঃশ্বাসেও বিষ আছে!
ও পাড়ার লবঙ্গলতাকে
একবার এক মানুষ ছুঁয়েছিলো।
সেই থেকে বেচারা লবঙ্গলতা
শুকিয়ে কেমন কাঠ হয়ে গেলো।
আজ বৃক্ষ লতা মরছে।
কুঁড়ি ফুল
ধর্ষিত হয়ে আত্মহত্যা করেছে।
আজ কি আমাদের
ঘুমানোর সময় কৃষ্ণচূড়া?
জেগে আছো? জেগে আছো তুমি?
জ্যোৎস্নাকে সঙ্গে নিয়ে
একবার একটু দেখো না গো।
ভয় হয়। বুক বড় ভয় হয় কৃষ্ণচূড়া!
পৃথিবীতে কত সুখ ছিলো আগে।
অথচ মানুষ জন্মের সাথে সাথে
সব কিছু শেষ হয়ে যাচ্ছে।
জেগে আছো?
তুমি জেগে আছো কৃষ্ণচূড়া?
© অরুণ মাজী
Painting: Jia Liu
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem