চোখ থাকলেই কি সব দেখা যায়? কান থাকলেই কি সব শোনা যায়? নাহঃ যায় না। আমরা ততটাই দেখি, যতটা দেখলে আমাদের আত্মগরিমা বৃদ্ধি হয়। ততটাই শুনি যতটা শুনলে আমাদের দম্ভ সন্তুষ্ট হয়।
যা কিছু আমাদের দম্ভে (EGO)আঘাত করে, আমরা তা এড়িয়ে যাই। আমরা যেন- দেখেও দেখি না, শুনেও শুনি না। মানুষ সত্যের সম্মুখীন হতে চায় না। কারন- সত্য বড় বেহায়া আর উলঙ্গ, আমাদেরকে কেবল টিটকিরি করে!
এতদিন ধরে তুমি যা খেয়েছো, চিন্তা করেছো, আর কর্ম্ম করেছো- এই তিনের সমষ্টি দিয়ে তৈরী "আজকের তুমি"। তুমি যদি স্বাস্থ্যবান আর সুখী হও- তার কারন তোমার খাদ্য অভ্যাস, চিন্তার অভ্যাস, কর্ম্মের অভ্যাস। তুমি যদি দুর্বল আর অসুখী হও- তারও কারন তোমার নিজের খাদ্য অভ্যাস, চিন্তার অভ্যাস, কর্ম্মের অভ্যাস।
নগেন মাস্টার সুখী, কিন্তু আমি নই কেন?নিশ্চয়ই নগেন মাস্টার ভালো কিছু করেছে, তাই সে সুখী।
নিজের দুর্বলতা আর বদচিন্তা স্বীকার করতে, দম্ভে লাগে আমার। তাই ব্যাপারটা আমি কি ভাবে ভাবি? নগেন মাস্টার ধনী লোকের ছেলে, তার অগাধ সম্পত্তি। তাই সে সুখী।
পৃথিবীতে তো কোটি কোটি ধনী লোকের ছেলে। তারা সবাই কি সুখী? তারা সবাই তো সুখী নয়। ব্যাপারটা আমি কিন্তু এভাবে ভাবি না। কারন- এই বাস্তব সত্যটা ভাবলে; নিজেকে আমার ছোট লাগে, হেয় লাগে। তাই মনগড়া মিথ্যে তত্ত্ব দিয়ে- আমি নিজেকে সান্ত্বনা দিই, নিজের দম্ভকে খুশি রাখি। এইভাবে সারাজীবন আমি আমার দম্ভের দাসত্ব করি। ফলে প্রকৃত সুখের পথ, আমার কাছে অজানাই রয়ে যায়।
নিজের দম্ভকে বাঁচাতে গিয়ে, বাস্তব সত্যকে আমি বারবার অস্বীকার করি। এড়িয়ে যাই। ফল? যা কিছু মিথ্যে, তাই দিয়ে আমি সুখের বাসর ঘর গড়ে তুলি। মিথ্যে দিয়ে জীবন গড়লে- জীবনের যা কিছু, তাও তো মিথ্যে হবে। তাই না?
এই কারনেই- আমার ভালোবাসা মিথ্যা, জীবন মিথ্যা, কর্ম্ম মিথ্যা, খ্যাতি মিথ্যা, সুখ আর আনন্দও মিথ্যা। এ জন্যই আমি দুঃখী আর যন্ত্রণাকাতর। আমার এই নরক যন্ত্রণার মূল কারন কি? আমার দম্ভ। আমার দম্ভ পৃথিবীকে পৃথিবী দেখতে দেয় না। সূর্যকে সূর্য দেখতে দেয় না। মানুষকে মানুষ দেখতে দেয় না। দম্ভ এমন একটা দেওয়াল, যা আমাদেরকে কখনো সুখী আনন্দময় হতে দেয় না।
এই দম্ভের কারনেই- আমি যা কিছু আমার বলে মনে করি, সে সবের সমালোচনা আমি সহ্য করতে পারি না। আমি যেহেতু অমুক পার্টির ভক্ত, সেহেতু অমুক পার্টির সমালোচনা কেউ করলে, আমি তাকে খিস্তি করি। আমি যেহেতু মোহনবাগানের সমর্থক, মোহন বাগানকে কেউ সমালোচনা করলে, আমি তার ঠ্যাং ভেঙে দিই।
অরুণ মাজী এ সব করে কেন? সত্য- অরুণ মাজীর বিশ্বাসে (দম্ভে)আঘাত করতে চায় বলে, সত্যকে সে বারবার এড়িয়ে যায়। দাম্ভিক অরুণ মাজী ভাবে- সে যা বিশ্বাস করে, তাই একমাত্র সত্য। এইভাবে, অরুণ মাজী তার বিশ্বাসকে অন্ধবিশ্বাসে রূপান্তরিত করে। জীবনে সে জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়ে যায়, তবুও সে তার দম্ভ পরিত্যাগ করতে পারে না।
তার অসুখী যন্ত্রণা কাতর জীবনের জন্য, তবুও সে অন্যকে দোষারোপ করে। কিন্তু কখনোই সে ভাবে না- তার অসুখ, তারই কৃত কর্ম্মের ফল!
© অরুণ মাজী
Painting: J W Godward
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem