মূসা'দ্দাদ (রহঃ)আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)মদিনায় পৌঁছে প্রথমে মদিনার উচ্চ এলাকায় অবস্থিত বানূ‘আমর ইবনু আউফ' নামক গোত্রে উপনীত হন।তাদের সঙ্গে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)চৌদ্দ দিন (অপর বর্ণনায় চব্বিশ দিন)অবস্থান করেন। তারপর তিনি বানূ নাজ্জারকে ডেকে পাঠালেন। তারা কাঁধে তলোয়ার ঝুলিয়ে উপস্থিত হল। আমি যেন এখনো সে দৃশ্য দেখতে পাচ্ছি যে, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)ছিলেন তার বাহনের উপর, আবূ বকর (রাঃ)সে বাহনেই তাঁর পেছনে আর বানূ নাজ্জারের দল তাঁর আশেপাশে। অবশেষে তিনি আবূ আইয়্যুব আনসারী (রাঃ)এর ঘরে সামনে অবতরণ করলেন। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)যেখানেই সালাত (নামায) -এর ওয়াক্ত হয় সেখানেই সালাত (নামায)আদায় করতে পছন্দ করতেন এবং তিনি ছাগল-ভেড়ার খোয়াড়েও সালাত (নামায)আদায় করতেন। এখন তিনি মসজিদ তৈরী করার নির্দেশ দেন। তিনি বানূ নাজ্জারকে ডেকে বললেনঃ হে বানূ নাজ্জার! তোমরা আমার কাছ থেকে তোমাদের এই বাগিচার মূল্য নির্ধারণ কর। তারা বললোঃ আল্লাহর কসম, আমরা এর দাম নেব না। এর দাম আমরা একমাত্র আল্লাহর কাছেই আশা করি। আনাস (রাঃ)বলেন: আমি তোমাদের বলছি, এখানে মুশরিকদের কবর এবং ভগ্নাবশেষ ছিল। আর ছিল খেজুরের গাছ। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর নির্দেশে মুশরিকদের কবর খুড়ে ফেলা হল। তারপর ভগ্নাবশেষ সমতল করে দেয়া হল, খেজুরের গাছ গুলো কেটে ফেলা হল এবং এর দুই পাশে পাথর বসানো হল। সাহাবীগণ পাথর তুলতে তুলতে ছন্দোবদ্ধ কবিতা আবৃত্তি করছিলেন। আর নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-ও তাঁদের সাথে ছিলেন। তিনি তখন বলছিলেন: "ইয়া আল্লাহ! আখিরাতের কল্যাণ ছাড়া (প্রকৃতপক্ষে)আর কোন কল্যাণ নেই। আপনি আনসার ও মুহাজিরগণকে ক্ষমা করে দিন।
ইসলামিক ফউন্ডেশন বুখারী হাদিস নং ১৩০৮ আর তৌহিদ ফউন্ডেশন হাদিস নং ১৩৯০> "হযরত সুফিয়ান তাম্মার (রা)থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন তিনি নবী করীম (সা)এর রওযা উটের কুজের ন্যায় উঁচু দেখেছেন।" হযরত আলীর (রা)হাদিস যদি কাফের-মুশরিক-মুসলমান সবার উঁচু কবর মাটির সাথে মিশিয়ে দেবার কথা বলা হতো তাহলে নবীজি (সা)এর কবর উঁচু হতো না। মক্কা বিজয়ের পর নবীজি (সঃ)কাবা থেকে সব মুর্তি ভেঙ্গে কাবাকে পবিত্র করেছিলেন। মুর্তি ভাঙা আর মাজার ভাঙা এক জিনিস নয়। আরও কিছু সহীহ হাদিস থেকে আমরা দেখি কবর পাকা করা না জায়েজ কিনা। উক্ত কিতাবদ্বয়ের পরবর্তী হাদিস> "হযরত উরওয়া (রা)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ওয়ালিদ ইবনে আব্দুল মালিকের শাসনামলে (৮৬ হিজরীতে)একবার রাসুলুল্লাহ (সা)এর রওযা মুবারকের এক দিকের দেয়াল ধসে গেলে সাহাবায়ে কেরাম তা মেরামত শুরু করেন। মেরামতের সময় হঠাত এক খানা পা দৃষ্টি গোচর হল। উপস্থিত লোকজন মনে করলেন হয়তোবা রাসুলুল্লাহ (সঃ)এর পা মুবারক হতে পারে। কিন্তু তথায় উপস্থিত হযরত উরওয়া রা (হযরত আয়েশা রা এর ভাগিনা)সমবেত লোকদের উদ্দেশ্যে বললেন, না আল্লাহর কসম, এটা নবী করীম (সা)এর পা মুবারক নয়। এটা তো হযরত উমর (রা)এর পা।" সাহাবা কেরামই সর্ব প্রথম নবী করীম (সা) , হযরত আবু বক্কর (রা)ও হযরত ঊমর (রা)এর রওযা পাকা করেছিলেন।
উল্লেখ্য যে, হযরত উমর (রা)উম্মুল মুমেনিন হযরত জয়নাব বিনতে জাহাশ (রা)এর মাজারের উপর গম্বুজ নির্মাণ করেছিলেন। উম্মুল মুমেনিন হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা)মক্কায়্য অবস্থিত তাঁর ভাই হযরত আব্দুর রাহমান (রা)এর কবরের উপর গম্বুজ নির্মাণ করেন। তায়েফে অবস্থিত হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা)এর কবরের উপর বিশিষ্ট তাবীঈ মুহাম্মাদ বিন হানফিয়া (র)গম্বুজ নির্মাণ করেছিলেন। (দেখুন মুন্তাকা সরহে মুয়াত্তা ও বাদায়ে সানায়ে) ।
কবরকে নামাজের স্থান বানাতে নিষেধ করা হয়েছে কিন্তু কবর জিয়ারত বা কবর ধ্বংস করতে বলা হয়নি। বরং কবর জিয়ারত করলে মৃত্যুর কথা স্মরণ হবে সে কথাও হাদিসে এসেছে। কবর বা মাজার ভাঙা এসব ওহাবী আকিদা আর তারাই সন্ত্রাসির মাধ্যমে ইসলামকে কলুসিত করে যাচ্ছে। আল্লাহ আমাদেরকে তাদের কুমন্ত্রনা থেকে রক্ষা করুণ।
ব্যাপারটা পানির মতো পরিষ্কার। হযরত আলী (রা)কে যদি রাসুল (সা)সব উঁচু কবর ভেঙ্গে সমান করে ফেলতে বলতেন তাহলে ওহাবীদের ভাঙার জন্য কোন কবর আজ থাকতো না। ওই হাদিস খানা মদিনাতে মুশরিকদের কবর ভাঙার ব্যাপারে যা সহিহ বুখারিতে এসেছে। হযরত আলী থেকে হযরত আইয়াজের বর্ননা অনেক পরের ঘটনা তা তো হাদিসটি পড়লেই বুঝা যায়। রাবি পুরো ঘটনাটি বর্ননা করেন নি। ঐরূপ হলে নবীজি (সা)এর পর থেকে আর কোন কবরই উচু হতো না। অথচ সহিহ হাদিস আর বাস্তব থেকে জানা যায় যে নবী এবং তাঁর সাহাবাদের কবর পাকা ও উঁচু ছিল। অনেক মুর্খ বলে বেড়ায় সউদিতে কোন কবর নাই। থাকবে কি করে ওহাবীরা ক্ষমতায় আসার পর তারা সব কবর ভেঙ্গে ফেলেছে। কিন্তু সৌদি আরবের বাইরে সমগ্র মুসলিম বিশ্বে কবর গুলো এখনো বিদ্যমান। ওগুলো ভাংতে পারলে তাদের মিশন সফল হতো। মুসলমানগণ মাথা উঁচু করে তাঁদের কোন ইতিহাস আর ঐতিহ্যের কথা বলতে পারবে না।
হাদিসটির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছেছে। এবং হাদিসটি সহীহ, তাতে কোন সন্দেহ নেই। এখন প্রশ্ন হলো, রাসূল দঃ নিজে বর্তমান থাকা অবস্থায় কোন সাহাবা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম)ইন্তিকাল করলে তিনি নিজে উপস্থিত থেকে কবর দিতেন, দুয়া করতেন। তিনি নিজে উপস্থিত না থাকলেও খবর নিতেন। "উঁচু কবর দেখলেই তা ভেঙে মাটির সাথে সমান" করে দেবার কথা যদি সব কবরের ক্ষেত্রে হতো, তাহলে ধরে নিতে হবে, এরূপ করা নিষেধ হবার পরও সাহাবাগণ তেমনটি করেছেন। মানে তারা রাসুল দঃ এর আদেশ অমান্য করেছেন। নাউজুবিল্লাহ! আর না হলে তিনি এমন আদেশ দিবেন কেন? এমন কি রাসুল দঃ নিজেও সাহাবাগনের কবর উঁচু করেছেন, কবরে পাথর রেখে চিহ্ন দিয়েছেন (সহীহ হাদিস) । তা কীভাবে সম্ভব?
লক্ষ্য করুন, হাদিসে প্রথমে চিত্রের কথা এসেছে এবং এর সাথে উঁচু কবরের কথা এসেছে। অর্থাৎ এই হাদিসটি ছিল মুশরিকদের কবর ভাঙার ব্যাপারে। কারণ তারা তাদের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের কবরের উপর চিত্র রাখতো। কোন মুসলমান কবরের উপর চিত্র রাখে না।
এই হাদিস দ্বারা কাফের-মুশরিকদের কবরকে বোঝানো হয়েছে। কোনও মুসলমানের কবর নয়। পূর্ণাংগ হাদিসটি বুখারি শরীফে এসেছে। সে সময় কোনও মুসলমান ইন্তিকাল করলে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে উপস্থিত থেকে কবর দিতেন। ফলে কবর উঁচু করা এবং তা ভেঙ্গে ফেলার আদেশ দেবার প্রশ্ন অবান্তর। এই ব্যাখ্যা আমার নয়, ইমাম ইবনে হাজার আসকালানি রহঃ এবং আহমাদ বিন হাম্বল রহঃ এর।
তাছাড়া এই হাদিসে উঁচু কবরের সাথে চিত্রের কথাও এসেছে। যা কেবল মুশরিক এবং বিধর্মীদের কবরেই থাকে। এই আদেশ আম ভাবে সব কবরের জন্য হলে এই আদেশ দেবার পর মুসলমানদের কবর ভাঙ্গার প্রমাণ হাদিসে এবং ইতিহাসে থাকতো। কিন্তু তা নেই। বরং সমগ্র বিশ্বেই সাহাবা রাঃ, ইমাম, মুফাসসীর, মুহাদ্দিস এবং আল্লাহর অলিগণের কবর পাকা, উঁচু এবং উপরে গম্বুজ বিশিষ্ট। কেবলমাত্র সৌদি সরকার ১৯২৫ সালে ক্ষমতায় এসে সব কবর ভেঙ্গে দেয়, কিন্তু সমগ্র মুসলিম বিশ্বে আজো অন্যান্য কবর বিদ্যমান। মিশর এর উত্তম উদাহরণ। সেখানে এক জায়গাতেই প্রায় ৬ হাজার সাহাবার পাকা ও উঁচু কবর রয়েছে। কাজেই নিজে জানুন এবং মানুষকে ভুল বলে বিভ্রান্ত করা থেকে বিরত থাকুন। জাজাকাল্লাহ!
(সৌজন্যেঃ সঠিক আক্বিদা ও ঈমান)
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem
একেই বলে কবর পূজারী ভ্রান্ত হুজুর।