চাঁড়ালকে মোড়ল বললে, চাঁড়াল তখন মাথায় উঠে। হারামজাদা জীবনও তাই।
হারামজাদাকে মাথায় চড়িয়েছো, তো হারামজাদা- তোমার মাথার উপর পদ্মাসনে বসে, তোমার "পাকা চুল" বাছবে। জীবনকে নিয়ে তাই খেলতে হয়।
জীবনকে ফড়িং বানিয়ে তার লেজে দূর্বা ঘাস গুঁজে দিয়ে, "ফকরামির লাটাই" দিয়ে ঘুড়ি উড়াও। জীবনকে তালপাতার বাঁশি বানিয়ে, কল্পনার ফুঁ দিয়ে, বিন্দী বুড়ীর গানের তালের সাথে বাঁশি বাজাও। জীবনকে তেঁতুল জল বানিয়ে, গপ গপ করে ফুচকা খাও। জীবনকে, মালবিকার ঠাম্মার পান খাওয়া গাল বানিয়ে, তাতে এলোপাথাড়ি চুমু খাও। জীবনের নাকের মধ্যে ছাড়পোকা ছেড়ে, হিহিহি করে দাঁত বের করে হাসো, আর "গুটের গুটের, চড়ি গয়া উপরি রে " গানের সাথে কোমর দুলাও।
উন্মাদ অরুণ মাজী তাহলে কি বলতে চাই? হারামজাদা জীবন, চিরকাল হারামজাদাই থাকবে। হারামজাদা দিনরাত তোমাকে কষ্ট দেওয়ার চেষ্টা করবে। তুমি ভালো কাজ করলেও দেবে। খারাপ কাজ করলেও দেবে। তুমি পাপ করলেও দেবে। তুমি পুণ্য করলেও দেবে।
ভাবছো, চাকরী পেলে তুমি আনন্দ পাবে? যেই না তুমি চাকরী পেলে, তখন তুমি ভাবলে- "তার চেয়ে বরং বিয়ের জন্য একটু টাকা জমাই। আর বিয়ে করলে আমি পাক্কা আনন্দ পাবো"। তারপর যেই না বিয়ে করলে, তখন তুমি ভাবলে- "বাচ্চা হলে আমি নিশ্চয় আনন্দ পাবো"। এই ভাবে তোমার চুল পেকে শন দড়ি হয়ে গেলো; গাল আর কপালের চামড়া ঝুলে, ছেঁড়া চটের বস্তা হয়ে গেলো, তবুও তোমার জীবনে, শ্রীমান আনন্দের দেখা নেই। তখন তুমি ভাববে- "হায় ভগবান মরলেই কেবল শান্তি"।
ব্যাপারটা কি ঘটলো তাহলে? চাইছিলে তুমি বাঁচতে। অথচ মনের কোণে এখন, মরণকে আহ্বান করছো। উন্মাদ অরুণ মাজীর উন্মত্ত সেই প্রলাপ মনে আছে?
"জীবিকার কাছে মানুষ
জীবন বন্ধক দেয়।
নগ্ন বুকের স্পর্শের কাছে পুরুষ
প্রেমের প্রতিজ্ঞা বন্ধক দেয়।
হীরের নেকলেসের কাছে নারী
প্রেমের পুস্পমাল্য বন্ধক দেয়।
সংস্কারের কাছে মানুষ
প্রেমের পাখনা বন্ধক দেয়।"
ঘটি বাটি সবই যদি বন্ধক দেবে, তো রাজা হবে কবে? রাজা হওয়ার জন্যই না তোমার এতো পরিশ্রম? অর্থ আছে তোমার, তবুও তুমি রাজা নও। তবুও তুমি কাঙাল। তবুও তুমি তোমার ঘটি বাটি সবই বন্ধক দিয়ে যাচ্ছো। জীবনে যদি কাঙালপনাই করবে, তো রাজা হবে কখন?
জীবনে ভদ্দর সাজতে যেও না। কৃমি হয়ে যাবে।
জীবনে ধার্মিক সাজতে যেও না, নরকের তেলের কড়াইয়ে ফুলুরি ভাজা হবে।
জীবনে কেবল একটা ফুল হওয়ার চেষ্টা করো। কেবল গন্ধ দাও। অন্যের থেকে ধার করা আতরের গন্ধ নয়। তোমার আপন বুকের গন্ধ। তুমি তোমার মতো হও। তোমাকে অমিতাভ বচ্চনের মতো ম্যাচো হওয়ার দরকার নেই। আর মাধুরী দীক্ষিতের মতো "এক্সট্রা হট"হওয়ারও দরকার নেই।
ক্যাবলা অরুণ মাজী, ক্যাবলাই থাক। নগেন মাস্টার, নগেন মাস্টারের মতো থাক। গফুর মিঞা, গফুর মিঞার মতো থাক। অনামিকার ঠাম্মা, অনামিকার ঠাম্মাই থাক। তুমিও তোমার মতো থাকো। তোমাকে বিজেপি হওয়ার দরকার নেই। তৃণমূল হওয়ার দরকার নেই। বেহেস্ত উন্মুখ ধর্মগুরু হওয়ার দরকার নেই। স্বর্গ প্রত্যাশী সাধক হওয়ারও দরকার নেই। তুমি কেবল কেবল সুন্দর একটা ফুল হও। সুগন্ধ যুক্ত সুন্দর একটা ফুল।
জীবনে "গন্তব্য" বলে কিছু নেই। কাল তুমি তোমার আকাঙ্খিত গন্তব্যে পৌঁছে দেখবে, আবার তুমি একটা নতুন গন্তব্যে পৌঁছতে চাইছো। উপরে আমি অনেক উদাহরণ দিয়েছি, তাই না?
জীবনটা পুরোটাই একটা যাত্রা। এজন্যই তো যুগযুগ ধরে, সত্যিকারের মহান মানুষরা বলে আসছে- "LIFE IS A JOURNEY"। জীবনটা যদি পুরোটাই যাত্রা, আর সারাক্ষণই যদি তুমি দৌড়তে থাকবে, তো হাসবে কখন? গাইবে কখন? হুল্লোড় করবে কখন? মালবিকার ঠাম্মার পান খাওয়া গালে, চুমু দেবে কখন? এঁড়ে গরু সেজে, মালবিকার সবুজ বাগান তছনছ করবে কখন?
পন্ডিত আর ভদ্দরলোকের কথা, জীবনে তোমরা অনেক শুনেছো, এবার তোমরা "উন্মাদ অরুণ মাজীর" কথা শুনো- "ফুল হও হে মানুষ, ফুল হও।"
© অরুণ মাজী
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem
অসাধারণ লেখা। বাঁধন সরকারের প্রণাম নিন। অরুণ মাজি, বন্ধু আমার্