আগে আকাশ ছুঁতে চাইতাম আমি।
ভাবতাম, আকাশই বুঝি
সুখ আর আনন্দের ঠিকানা।!
আকাশ ছুঁতে গিয়ে
কতবার হোঁচট খেয়ে
খানা খন্দ আবর্জনায়
মুখ গুঁজে উল্টে পড়েছি আমি।
আজ বড় ক্লান্ত অবসন্ন আমি।
বিকেলের বারান্দায় বসে
বাইরে চোখ রেখে দেখি-
আকাশ বড় নীরব, সূর্য বড় অচঞ্চল,
সাগর বড় প্রশান্ত, বৃক্ষ বড় সহনশীল।
ভাবি, কেন এরা আমার মতো
ক্লান্ত অবসন্ন হতোদ্যম নয়?
রাত ঘনিয়ে আসে।
চাঁদ উঠে।
সদা হাস্যময়ী চাঁদকে জিজ্ঞেস করি আমি-
যুগ যুগান্ত ধরে
কেন এতো হাসি খুশি তুমি?
কাকে দেখে এতো হাসি হাসো তুমি?
চোখ টিপে চাঁদ হাসে।
বলে-
বাছা, কাকে আর দেখবো আমি?
নিজেই নিজেকে দেখি আমি।
আপন রুক্ষ-সূক্ষ্মতায়
আপন শ্রী-কদর্যতায়
আপন দুঃখ যন্ত্রণায়
আপন বৃদ্ধি ক্ষয়িষ্ণুতায়
স্তম্ভিত হয়ে
হেসে হেসে লুটোপুটি খাই আমি।
নিজেকে জানতে এতো মগ্ন যদি
কোথায় আর সময় পাই আমি?
ভাবছি,
আমিও এবার নিজেকে জানবো।
একদিন আমিও হয়তো
চাঁদের মতো সদা হাস্যময়
নয়নাভিরাম স্নিগ্ধ প্রশান্তি হবো!
© অরুণ মাজী
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem