কতদিন দেখিনি তোমায়।
কেমন আছো?
কোথায় আছো?
ভালো আছো?
ভালো আছো তুমি?
আমার বিনিদ্র রাতের স্বপ্নে
ঢুলু ঢুলু চোখে
চেয়ে আছো তুমি।
আমার কল্পনার সরণীতে বসে
খোলা চুল মেলে
কি যেন কি বলে যাচ্ছো তুমি।
কি বলছো গো?
কি বলছো?
জানো, এখন মধ্য রাত্তির।
বাইরে জ্যোৎস্না
বাতাসের শোঁশোঁ আওয়াজ
মাঝে মাঝে
খোলা জানালার ক্যাঁচকোঁচ আওয়াজ।
জানালাটা দুম করে খুললেই
ছুটে যাই আমি।
হয়তো অপেক্ষা করছো তুমি
জানালার ওপাশে।
যেমন আমি করতাম
পাঁচ বছর আগে।
তোমাদের বাগান ডিঙিয়ে
তোমার মা বাবার আড়ালে
যেতাম তোমার কাছে।
জানালা দিয়ে উঁকি মেরে
ফিসফিস করে বলতাম তোমায়
"মালবিকা, শুনতে পাচ্ছো?
আমি অমল, শুনতে পাচ্ছো তুমি? "
চকিতে পিছন ঘুড়ে
চীৎকার করে বলতে তুমি-
"কে? কে ওখানে? "
মুখের মধ্যে তর্জনী উঁচিয়ে
বলতাম আমি-
"চুপ...। আমি।"
কপট বিরক্তির সুরে বলতে তুমি-
"কি সাংঘাতিক এক পাগল তুমি।
আচ্ছা, এভাবে কাউকে ভয় দেখায়! "
আমি বলতাম
"কি করবো বলো
তুমি তো আসতেই চাও না।
কতবার ডেকেছি তোমায়-
নদীর ধারে
স্কুলের মোড়ে
পুকুর পারে।
কোন না কোন অজুহাতে
কখনো আসো নি তুমি।"
এলে না
কখনোই তুমি এলে না।
আমার শূন্য ঘর শূন্য রয়ে গেলো
আমার ব্যথিত বুক ব্যথিত রয়ে গেলো।
কিন্তু তুমি ছাড়া
কতদিন আর এ ভাবে বাঁচবো মালবিকা?
বাঁচার তো একটা কারন থাকা চাই
তাই না?
© অরুণ মাজী
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem