ফালতু কথা বলো না হে ভাগ্য
ফালতু কথা বলো না।
চল্লিশটা বসন্ত
চুয়াল্লিশবার
দাঁত কেলিয়ে ভেংচি কেটে গেলো আমায়;
আর আমাকে বলছো
রাগছি কেন?
রাগ করবো না তো
পূজা করবো তোমাকে?
দেখো দেখো।
আমার হাঁটুর বয়সী ছেলেরা
আমাকে দেখিয়ে দেখিয়ে
গার্লফ্রেন্ড নিয়ে
ঠেসে ঠেসে ঘেঁষে ঘেঁষে
কেমন পথ হেঁটে যাচ্ছে।
আমার ঠাকুরদা
আমায় দেখিয়ে দেখিয়ে
ঠাম্মার পান খাওয়া গালে চুমু খাচ্ছে।
অথচ আমি?
পোড়া কপাল আমার!
চল্লিশটা বসন্ত
অন্তত চুয়াল্লিশবার
গাঁজাতে ফুঁ দিয়ে
ফিক ফিক করে হেসে
ফকরামি করে চলে গেলো।
যৌবন যে কত বড় জালিয়াত
তা তুমি নাই বা শুনলে।
হতচ্ছাড়া নচ্ছার
স্বপ্নে সুড়সুড়ি দিয়ে
আমায় যন্ত্রণার যমালয়ে ফেলে গেলো।
আর তুমি?
তুমি শালা অপেক্ষা করছো
আমাকে কিমা বানিয়ে
কবে চড়ুইভাতি করবে।
বলি, রাগ করবো না তো
পূজা করবো তোমাকে?
আজ
আমিও শুনিয়ে রাখছি তোমাকে।
আমিও শালা
নগেন মাস্টারের টোলে পড়া
টুকলি করে পাশ করা ছেলে।
মালবিকার মায়ের ভাঁড়ার ঘরে
ছুঁচোর ছিঁচকে বাচ্চা যদি না ছাড়ি
তো আমি অমল বোস নই ।
কালো বলে
আমি কি হ্যাংলা নাকি?
বেঁটে বলে
আমি কি খাটো নাকি?
কেন? ইচ্ছে করলে
আমি কি পারি না
মালবিকার ঠাম্মা সহ
মালবিকাকে ফুঁসলে নিতে?
আলবৎ পারি। হাজারবার পারি।
মালবিকার মায়ের সর্ষে ক্ষেতে বসে
হুঁকো খেতে খেতে পারি।
নেহাতই
মাকে কথা দিয়েছি আমি-
দুষ্টু আমি হবো না।
নইলে.......
ফালতু কথা বলো না হে ভাগ্য
ফালতু কথা তুমি বলো না।
© অরুণ মাজী
Painting: Aaron Westerberg
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem