দেখো। চেয়ে চেয়েই দেখো।
কিন্তু বেশি বেশি দেখো না।
জানো না?
কাজল চোখে নিশ্চিৎ মৃত্যু আমার।
বসো। ঘেঁষে ঘেঁষেই বসো।
কিন্তু বেশি ঘেঁষে বসো না।
জানো না?
বুকে, অগ্নির স্ফুলিঙ্গ তোমার।
বুকের মধ্যে সূর্য হয়ে
কত দহন আর করবে হে নারী
কত দহন আর করবে?
কতদিন
তোমার কালো চোখের ধূসর তারায়
মৃত্যুর
অনন্ত মুহূর্ত গুনবো?
তোমার উপত্যকায় কি
একটুও হামাগুড়ি দেবো না?
তোমার ঝর্ণায় কি
একবারও ডুব সাঁতার দেবো না?
দূর থেকে চেয়ে চেয়ে
কত আর হা পিত্যেশ করবো?
কতদিন আর
পরম পূজণীয় ঈশ্বরকে
অনিচ্ছাকৃত গালির দায়ে
নরকের বিশুদ্ধ পাপ কুড়াবো?
ওহে নারী
পাপী বলে কি
ঈশ্বরপ্রিয় নই আমি?
কপালে চন্দন মেখে
হরিনাম কি আমি করি নি?
বিদ্যাদেবীর আরাধনায়
উপোস কি আমি করি নি?
তুমিই বলো
একটা শাঁকালু খাওয়ার দায়ে কি
একবেলার উপোস
অশুদ্ধ হতে পারে?
ঈশ্বরপ্রিয় নই আমি
এমন ভয়াবহ দুর্নাম
ধর্মের দালালরা পর্যন্ত দেয় না আমায়।
অথচ তুমি?
তিল তিল করে
তিল তিল করে
পাপে
মগ্ন করছো আমায়।
তুমিই বলো
গাছের ডালে চড়ে
তোমার ঘরে উঁকি কি
বিশুদ্ধ পাপ নয়?
স্বপ্নে তোমাকে দেখে
সবুজ সোনালী ভাবনা কি
পূর্ণ পাপ নয়?
ঠেলো। জোরে জোরেই ঠেলো।
কিন্তু বেশি বেশি ঠেলো না।
একবার নরকে পতিত হলে
তোমাকে ছাড়া
বিশুদ্ধ আমি হবো না।
© অরুণ মাজী
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem