আজ তিন বছর হলো
কখনো খোঁজও নাও নি তুমি।
কেমন করে নেবে?
তোমার কি আর সময় আছে?
বড় বাড়ি, বড় সংসার
সব বড় বড় ব্যাপার তোমার।
সত্যিই তো
তোমার কি আর সময় আছে?
জানো, বারবার তবু মনে হয়-
খোঁজ একটু
নিতে চাইলেই নিতে পারো।
চিঠি, বা কারও মারফৎ না পারো;
অন্তত
মনে মনে তো নিতে পারো।
মনে মনে একটু
ভাবতেও তো পারো-
কোথায় আছি? কেমন আছি?
আমি, আদৌ আছি কিনা?
আছি গো আছি।
বেশ আছি।
নষ্ট কষ্টের জীবন নিয়ে
আমি বেশ আছি।
তোমার সোনালী হাসির যন্ত্রণা বুকে
বেশ আছি।
তোমার দেওয়া প্রেমের
মৃত কঙ্কাল বুকে
বেশ আছি।
তা বলে ভেবো না
তোমায় আমার সুখ ভাবতে বলছি।
না গো না, তোমায় আমার
সুখ ভাবতে হবে না।
এমনি এমনি, একটু ভাবলেই হবে।
অন্তত কোনদিন
কোন এক অসাবধানে
ডালে ফোড়ন দিতে দিতে
ঝাপসা চোখে
একটু ভাবলেই হবে।
কিসের তরে আর বেঁচে থাকা মালবিকা?
মানুষের জীবন তো
এমনিতেই বড় যন্ত্রণা।
তারপর এই তুমিহীন জীবন,
তুমিহীন পৃথিবী, তুমিহীন রাত,
তুমিহীন চূর্ণী নদীর ঘাট-
সে তো নির্মম এক নরক যন্ত্রণা।
তবুও ভাবি
হয়তো মালবিকার
হৃৎপিণ্ডের এক কোণে
নিশ্চয় একটু জায়গা দখল করে রেখেছি।
এতো নির্জনতা, এতো নিঃস্তব্ধতা,
এতো যন্ত্রণা সত্বেও;
বুকে সেই আনন্দ নিয়েই
বেঁচে আছি।
মরণ যে বাতাসে ভাসছে মালবিকা।
তাই তোমার প্রত্যাখ্যানকেও
তোমার ভালোবাসার
গভীর এক রূপ ভেবে
আজও বেঁচে আছি।
আসলে কি জানো?
হৃৎপিণ্ডে,
তোমার স্নিগ্ধ হাসি
এতো গভীর করে আঁকা
স্বপ্নেও আমি চাই না, সে হৃৎপিণ্ডের মৃত্যু হোক।
আমি চাই না
কোনদিন কোন কারনে
তোমার হাসির মৃত্যু হোক।
এই তিন বছরে
এই নিয়ে সাতশো একুশটা চিঠি হলো।
ভাবছো, পাও নি কেন?
পাবে কি করে?
চিঠিগুলো
পোস্টই তো করি নি।
জিজ্ঞেস করছো
তবে কেন চিঠি লেখা?
আহা... তুমি বুঝি জানো না?
ক্যাবলা অমলের
এও, আর এক ক্যাবলামি।
না গো না
এ আমি মিথ্যে বলছি তোমায়।
আসলে কি জানো মালবিকা?
চিঠির অক্ষরগুলোর ছায়ায়
তোমার
মুখ দেখি, হাসি দেখি, চোখ দেখি,
অমলের জন্য স্পন্দিত
তোমার হৃৎপিণ্ড দেখি।
হয়তো, অমলের জন্য
গোপনে গোপনে ফেলা
তোমার চোখের অশ্রুও দেখি।
তা যদি না-ই দেখবো
তবে আর
কেন বেঁচে আছি মালবিকা?
© অরুণ মাজী
Painting: CATF
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem