হাত তো আমি বাড়িয়েই আছি অমল।
কিন্তু কেই বা আর আছে?
যে নির্ভয়ে
সেই বাড়ানো হাত ছুঁতে আসে?
পুরুষ যদি পুরুষের মতো হতো
আজ কি নারীর এতো দুঃখ থাকতো?
অপলকে রাস্তার দিকে চেয়ে
দিনরাত কত তো প্রতীক্ষা করি;
কই, কখনো তো আসো না?
তোমার নাকি লজ্জা হয়!
লজ্জা অথবা ভয়?
ভয় তোমার কিসের অমল?
মান হারানোর?
কি অদ্ভুত তোমাদের এই মান সন্মান!
তাই না?
কুমারী নারীকে চিঠি লিখতে মান যায় না
স্বপ্নে তাকে আকাঙ্খা করতে মান যায় না
অপলকে তাকে তাকিয়ে দেখতে মান যায় না।
অথচ সেই আকাঙ্খিত নারীর
হাত ধরে পথ হাঁটলে
মান সন্মান তোমাদের ধূলায় লুটিয়ে যায়!
এতো যদি ভয় তো
"ভালোবাসি ভালোবাসি" বলে
এতো গান গাও কেন?
যন্ত্রণা পাবে
তবু সংস্কারের শিকল ছিঁড়তে চাইবে না।
রগড়ে রগড়ে মরবে
তবু নিরাময়কে ছুঁতে চাইবে না।
যে পুরুষ যন্ত্রণাদায়ক প্রথার দাসত্ব করে
সেই কাপুরুষকে
আমি প্রেমিক ভাববো কেন?
বয়েই গেছে তোমাকে ভালোবাসতে অমল
বয়েই গেছে তোমাকে ভালোবাসতে।
কি পোড়া কপাল আমার!
একদিন তোমার চোখে আমার স্বপ্ন দেখে
হারিয়ে গেছিলাম।
আজ অনুতাপ হয়।
নিজেকে জিজ্ঞেস করি
অপাত্রে প্রেম বিলোচ্ছি না তো?
মরণ হোক মালবিকার অমল
মরণ হোক মালবিকার।
তোমাকে ভুলতে চেয়েও
ভুলতে আমি পারি নি।
ঠেলে দিতে চাইলে,
বুকে আরও চেপে বসো তুমি।
তোমাকে একাকেই বা দোষ দিই কেন?
আমিও কি আর কম দুর্বল?
আমি কি আর পারি না
তোমার বাড়ি গিয়ে, তোমার মায়ের সামনে
তোমার বুকের উপর ঝাঁপিয়ে পড়তে?
যদি পারি তো করি না কেন?
আসলে কি জানো?
আমিও আসলে ভীরু আর দুর্বল।
আমিও আসলে
সংস্কারের নাগপাশে চির আবদ্ধ।
নিজে দুর্বল বলেই হয়তো
তোমার দুর্বলতাকে ক্ষমা করে দেওয়ার
এতো অভিনয় করতে পারি।
নিজে অক্ষম বলেই হয়তো
তোমাকে অন্তর থেকে বিদেয় করতে পারি না।
কি সাংঘাতিক আমাদের যন্ত্রণা
তাই না?
আজন্ম সংস্কারের দাসত্ব করতে করতে
কবেই আমরা
সত্যিকারের ক্রীতদাস হয়ে গেছি।
যে সংস্কার মানুষকে এতো রগড়ে রগড়ে মারে
আজও মানুষ তাকে
নত মস্তকে পূজা করে।
এ পাপ থেকে কবে মুক্তি পাবো অমল?
কবে আমরা
নারী পুরুষ নির্বিশেষে
সত্যিকারের এক মানুষ হয়ে বাঁচতে পারবো?
মুক্ত এক জীবন হয়ে বাঁচতো পারবো?
© অরুণ মাজী
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem
বিষয়টার উপর আপনাদের মতামত ব্যক্ত করুন প্লিজ