ক্ষয়জাত পর্বতের মতো ক্ষয়ে ক্ষয়ে
আজ আমি আকার আকৃতিহীন
সমভূমি হয়ে গেছি।
বুকে খুঁড়ে দেখি ঔদ্ধত্য নেই।
চোখে ডুব দিয়ে দেখি
স্বপ্ন নেই।
নাভিতে সুড়সুড়ি দিয়ে দেখি
উদ্দাম সেই যৌবনও নেই।
অথচ তুমি? আমার স্বপ্নে তুমি?
আগ্নেয়গিরির মতো অগ্ন্যুৎপাত করতে করতে
আগ্নেয় এক পর্বত হয়েছো তুমি।
সমতল হয়ে উঁচু পর্বতকে কিছু বলতে
সাহস কখনো হয় না।
তবুও, এতো ক্ষয় বুকে
কিসের জন্য বেঁচে থাকা মালবিকা?
কার কাঁকনের ধ্বনি শুনে
কৃমি কেঁচো আরশোলার অপমান সহ্য করেও
এখনো বেঁচে থাকা?
হয়তো বা এ জনমে আর হলো না।
ত্রিশটা বছর আরাধনা করেও
হতভাগ্য আঙুলগুলো
তোমাকে ছুঁতে কখনো পারলো না।
তোমার অর্দ্ধ নগ্ন বুকে তারা
ছোট্ট একটা রামধনু আঁকতে পারলো না।
সোনালী শস্য ক্ষেতে তারা
ছুটোছুটি করে ঘুড়ি উড়াতে পারলো না।
তাবলে কখনো কি তারা পারবে না হে নারী
কখনো কি তারা পারবে না?
গা ছুঁয়ে বলছি তোমার
আগামী জন্মে বৃষ্টি আমি হবোই।
তোমার লজ্জার আবরণ ভেদ করে
তোমার গোপন ঝর্ণাতে
উলঙ্গ আভরণে সাঁতার আমি দেবোই।
তোমার লুক্কায়িত ফুল ফলের বাগান
লন্ডভন্ড তছনছ আমি করবোই।
ভালোবাসা কি কেবল এক জীবনের হে নারী
ভালোবাসা কি কেবল এক জীবনের?
নখের কোণে লুকিয়ে রেখেছি
তোমার কাজল চোখের হাসি।
এমনি আমি মরবো না
সেই হাসি মাখা নখ বুকে মরবো।
নাহঃ আমি কখনো মরবো না।
আমি পুণর্জন্ম নেবো।
কোন এক রাতে, নীল আলোর জ্যোৎস্না ফুটলে
উন্মাদ এক বৃষ্টি হয়ে ঝরে
তোমার গুপ্তস্থানে প্রবেশ করে......
উদ্দাম প্রেমিকের গোপন বিষ
এখনো পরখ করো নি হে নারী
এখনো তুমি পরখ করো নি।
© অরুণ মাজী
Painting: John William Godward
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem