ওহে মৃত্যু, জেগে আছো?
ক্লান্ত বুঝি? ঘুমাও তাহলে।
ততক্ষণে আমি বরং
পানকৌড়ি সেজে
মালবিকার পঞ্চ পুকুরে পাঁচটা ডুব দিয়ে আসি।
কাকের মতো "কা কা" করে
মাথার উপর
ভেংচি কেটে উড়ে যায় দুর্ভাগ্য।
গর্ভবতী এঁটুলির মতো
ধূসর বর্ণের মুমূর্ষ জীবন থেকে
রোজ রক্ত পান করে দুঃখ।
রুগ্ন দুর্বল বিধবার
হাতের পাথর বাটির মতো
খসে পড়ে যৌবনের গোপন স্বপ্ন।
কোন স্বপ্নটা যেন?
মনে আছে তোমার মালবিকা?
তোমার পায়জামাতে একদিন গিঁট এঁটে গেলে
দর দর করে ঘামতে ঘামতে
খুলে দিয়েছি আমি।
স্বপ্নটা হলো-
একদিন অন্তত তুমি জিজ্ঞেস করবে
"ছোট্ট একটা গিঁট খুলতে গিয়ে
দর দর করে
কেন এতো ঘেমেছিলে তুমি? "
প্রি ফ্রন্টাল কর্টেক্সের
দশ নম্বর ভাঁজে লিখে রেখেছি আমি-
আগামী তেইশে ফাল্গুন
তা তিন বছর তিনমাস হবে।
অথচ দেখো, কি ফাটা কপাল আমার!
আবশ্যক সেই প্রশ্নটা
এখনো তুমি করলে না।
গ্রীষ্মের ক্ষুধার্ত সাহারার যন্ত্রণার মতো
দগ্ধ করে রমণীর হাসি মিশ্রিত অবহেলা।
নারীর নগ্ন বুকের অদৃশ্য উত্তাপের মতো
রসিয়ে রসিয়ে যন্ত্রণা দেয় অতৃপ্ত যৌবন।
তবুও কেন জানি
মৃত্যুর নাকে
বারবার সুড়সুড়ি দিয়ে জিজ্ঞেস করি আমি-
ওহে মৃত্যু, জেগে আছো?
ক্লান্ত বুঝি? ঘুমাও তাহলে।
ততক্ষণে আমি বরং
মালবিকার ঘরের
খড়ের চালের ফুটো দিয়ে
তার যা কিছু গোপন আর স্বর্গীয়
তা চুরি করে দেখে আসি।
ওহে মৃত্যু, ক্ষমা করো তুমি।
মালবিকার বক্ষদেশের অনন্ত সেই অমৃত
দাঁতের খাঁজে না নিয়ে
আমি জনমে কখনো মরবো না।
© অরুণ মাজী
Painting: Andrew Atroshenko
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem