এক পৃথিবী পুরুষকে
শূণ্যতায় ভাসিয়ে
শুয়ে আছো তুমি। একান্তে। অমনোযোগে।
বাইরে বৃষ্টি নামলো কেন?
আমার নিষিদ্ধ ইচ্ছেগুলোকে
একটু সঙ্গ দেবে বলে?
সঙ্গ তারা চাই না।
এ নদী, এ উপত্যকা, এ সবুজ সতেজ বাগান-
আমার। কেবলই আমার।
এ বাগানে আমি
ঈশ্বরের প্রবেশ বরদাস্ত করবো না।
উপুড় হয়ে শুয়ে আছো তুমি
নৈঃশব্দকে সঙ্গী করে।
পিঠের উপর তোমার
চুল? অথবা গড়িয়ে পড়া কোন ঝর্ণা?
নিতম্বে তোমার পাহাড়?
অথবা ভরা গাঙের উন্মাদনা?
পাহাড় আমি চড়ি নি
চড়ার ইচ্ছেও কখনো করে নি।
সবুজ নারীর সুডোল শৃঙ্গ থাকতে
মৃত পাহাড় আমি চড়বো কেন?
চিবুকে হাত দিয়ে
উপুড় হয়ে শুয়ে আছো তুমি।
কি ভাবছো? কাকে ভাবছো?
কোন পুরুষকে?
তুমি হয়তো জানো না-
এ পৃথিবীর সব পুরুষ মানুষ
মাতাল লম্পট চরিত্রহীন।
কারুরই উপর ভরসা করতে পারবে না।
বলতে লজ্জা হলেও বলছি
আমি অবশ্য একটু অন্যরকম।
যে চোখ তোমাকে স্বপ্নে দেখে
সে চোখ কি উচ্ছৃঙ্খলের মতো
অন্য নারীকে দেখতে পারে?
অভাবনীয় ভাগ্যের বালিশকে
তোমার স্তনদেশের স্পর্শে
স্পর্শ ধন্য করে
উপুড় হয়ে শুয়ে আছো তুমি।
দেখো দেখো, ভাগ্যের কি পরিহাস!
যে যৌবন উন্মত্ত যুবক
তোমাকে একটু ছোঁয়ার জন্য
তিন হাজার তেত্রিশ দিন ধরে
মা কালীর মন্দিরে পূজা দিচ্ছে,
তার ভাগ্যে শিকে ছিঁড়লো না;
অথচ বালিশ?
সামান্য একটা বালিশ?
এক পৃথিবী পুরুষ বুকে
ব্যর্থতার হাহাকার তুলে
বুকের আঁচল খুলে শুয়ে আছো তুমি।
অথচ আমি?
প্রতি মুহূর্তে দগ্ধে দগ্ধে মরি
নিভৃতে। নিঃশব্দে।
কবে তোমাকে ছুঁবো
হে মালবিকা?
© অরুণ মাজী
Painting: Xie Chuyu
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem