কিগো, কেমন আছো নতুন গোঁসাই?
মনে পরে তোমার, সেই বোষ্টমী কমল-লতাকে?
-
জানো গোঁসাই
আমার মধ্যে সেই বোষ্টমী-টা
সেটা মারা গেছে।
বেশ হয়েছে।
মরুক-গে, সে বোষ্টমী
কমল-লতা তো বেঁচে গেছে।
-
কে-ই বা আর
বোষ্টমী হতে চাই, গোঁসাই?
আমার পোড়া-কপাল!
যা চাই
তা তো কখনো পাই না।
সেই চাওয়া
কেবলই একরাশ যন্ত্রণা দিয়ে যায়।
বৈরাগ্যে কি
যন্ত্রণার মুক্তি, গোঁসাই ?
মুক্তি কিনা
আমি বলতে পারি না।
তবে অন্তত
ক্ষনিকের তরে ভুলে যাওয়া।
তাই বা কি কম বলো?
-
সাধনা তো আর, আমায় ডাকে নি।
আমি-ই সাধনাকে হন্যে হয়ে খুঁজেছি।
তাও আবার কাদায় পড়ে।
হয়তো
সেই পাঁক, আজ আর নেই ।
তাই আজকাল-
বৃন্দাবনের বিগ্রহে
আমার আর মন নেই।
কেমন করে থাকবে বলো?
মনটা তো তোমার, হাসির সাগরে-
কবে-ই ভাসি-য়ে দিয়েছি।
এখন অপেক্ষায়
যদি তোমার চোখ দুটো
সেটা কখনো দেখতে পায়।
-
তোমার নামটা
আমার মুখে আনতে নেই;
হিন্দু সংস্কার কিনা!
কিন্তু, আমার স্বপ্নে
তোমাকে জড়িয়ে ধরতে তো- কোন দোষ নেই।
আজকাল বিগ্রহে আর ভগবান কে দেখি না।
বিগ্রহে শুধু তোমায় দেখি!
-
জানো, এরা বলে
আমি নাকি, আজকাল
আরও বেশী ভালো কীর্তন গাই।
হতেও পারে।
যাকে জীব-দেহে দেখেছি
যার চোখে, আমার অশ্রু দেখেছি
তাকে হৃদয়ে নিয়ে গাইলে
হৃদয় তো সঙ্গীত-ময় হবেই।
তাই না গোঁসাই?
-
তবে কি জানো?
ভেবেছিলাম-
আমার অশ্রু বুঝি এবার থামবে।
কিন্তু থামলো কই?
এখন তো তোমার স্মরণে-ও
চোখে নদী বয়ে যায়।
-
এখন কি করছো, গোঁসাই?
তোমার তো আবার বিবাগী মন।
কমল-নদীতে
তোমার তরী কি আজও বাঁধা?
না সে তরী
আবার অন্য কোথাও ভেসে গেছে?
তোমাকে বিবাগী ভেবে
আগে খুব গর্ব হতো।
কিন্তু আজকাল
যন্ত্রণা হয়।
ভাবি, তোমার বিবাগী মন-ই
আমার কাল-নাগিনী সতীন।
-
ইশ:
তুমি যদি একটু গৃহী হতে
তো
তোমার সাথে ঘর বাঁধতাম।
চুলোয় যাক
এ বোষ্টমী-গিরি।
আজকাল
এই সাদা শাড়ি
আর তিলক-ই আমার যন্ত্রণা।
-
আজ মনে হয়
এ বৃন্দাবনে
আর বৃন্দাবন নেই।
ওটাকে তুমি বুঝি
তোমার বর্মা-মুলুকেই নিয়ে গেছো।
-
বর্মা-মুলুক কতো দূরে গোঁসাই?
এই গঙ্গায়
নিজেকে- ভাসিয়ে দিলে
ওখানে কি পৌঁছে যাওয়া যায়?
যদি যায়
তো আজ-ই নিজেকে ভাসিয়ে দিই।
ভাসিয়ে দিই তাহলে?
-
আমি এখানে কেবল
আমার দেহ নিয়েই এসেছি।
হৃদয়টা তো
তোমার কাছেই ফেলে এসেছি।
জানো
তুমি যখন আমায়
ট্রেনে তুলে দিয়ে, চেয়ে রইলে;
ভাবলাম ট্রেন-টা থামিয়ে
এখুনি নেমে-ই যাই।
কিন্তু পারলাম না।
আমার বৈরাগ্যের অহঙ্কার
আমাকে তা করতে দেয় নি।
এখন বৈরাগ্য-কে
অভিশাপ দিতে ইচ্ছে হয়, গোঁসাই।
-
আচ্ছা বলো তো
বৈরাগ্যেই কি শুধু মুক্তি?
হৃদয়ের বন্ধনে মুক্তি নয়?
তাই যদি না হবে
রাধা-কৃষ্ণের প্রেম কেন
সাধনার দ্যোতক?
আমরা ছাপোষা মানুষ কি
রাধা-কৃষ্ণ হতে পারি না?
দেবতার প্রেম-ই কি শুধু প্রেম?
আমাদের প্রেম কি
কোন প্রেম নয়, গোঁসাই?
-
তোমাকে দেখার আগে
শুধু দেবতাকে-ই
আমার দেবতা মনে হতো।
কিন্তু আজকাল -
ওই পদ্ম ছুঁড়িটা যখন অজয়ের কোলে
মাথা দিয়ে চাঁদ দেখে;
তখন ওদেরও দেবতা মনে হয়।
এই গঙ্গা যখন
ভেসে যাওয়া হাঁসগুলোর সাথে
উচ্ছ্বাস করে
তখন ওদেরও দেবতা মনে হয়।
দেব চোখে-ই তো
দেবতা দেখা যায়, গোঁসাই।
এই বৈরাগ্যে অনীহা কি তবে
আমার আর এক উত্তরণ?
তাই বা, না হবে কেন?
পদ্ম বলে
আমি নাকি এখন
আরও সুন্দরী, আর দয়াময়ী।
আমি ওকে ঠাট্টা করে বলি -
"ওরে মুখপুড়ী
সুন্দর যে আমার হৃদয়ে
তো- আমি সুন্দরী হবো না? "
-
যাক গে
কি যে সব
বাজে বকছি আমি!
গোঁসাই
এসো না গো ফিরে।
কি হবে ওখানে পড়ে থেকে?
নদীতে ভেসে যাওয়া বৈরাগ্য তো
অনেক হলো।
এবার নৌকা একটা
ঘাটে বেঁধে-ই, না হয় সাধনা করা যাক।
© Arun Maji অরুণ মাজী
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem