একদিন তুমি আমি খেলেছিলাম
এই চূর্ণী নদীর তীরে।
মাথার উপর তরু বীথিকা
একাকী স্নিগ্ধ চাঁদ
বুকে শীতল সমীরণ স্পর্শ
পদতলে প্রবাহমান চূর্ণী।
চূর্ণী সেদিন কি বলেছিলো মালবিকা?
কুলুকুলু রবে
কোন গান শুনিয়েছিলো তোমায়?
"ভালোবেসো।
অমলকে একটু ভালোবেসো।"
যে তুমি বাসো নি ভালো
সে তুমি
আমার একাকীত্বের সহচর
নিরাশ্রয়ে আশ্রয়
অবসাদে অশ্রু
স্বপ্ন মাঝে ভাঙা ভাঙা অবসাদ।
সে তুমি?
অথবা তোমার অতীত?
ভেদ আমি করি না।
যা কিছু মালবিকার মতো
দেখতে
শুনতে
বা ছুঁতে
তাই মালবিকা।
এই অবসাদ
এই একাকীত্ব
এই নির্জন সন্ধ্যে
এই পরিত্যক্ত চূর্ণী নদীর তীর
এই অনাঘ্রাত চন্দ্রালোকিত বালুতট
এ সবই মালবিকা।
এদের স্পর্শে
তোমার আবির্ভাব ঘটে।
খোঁপায় বেল ফুল
চোখে হাসি
উড়তে থাকা আঁচল
জবা রাঙা ঠোঁট
সদ্য বিকশিত বক্ষদেশযুক্ত
এক তরুণী রোজ প্রশ্ন করে আমায়
"কখন এসেছো অমল?
সরি, দেরি করে ফেললাম।"
আজ তোমার স্পর্শ নেই
কিন্তু তুমি আছো।
আজ তোমার কণ্ঠে ডাক নেই
কিন্তু তোমার কাঁকন ধ্বনি আছে।
সেও কি আর কম কিছু মালবিকা?
মানুষের জন্ম মৃত্যু হয়
তার স্বপ্নের জন্ম মৃত্যু হয়
কিন্তু ভালোবাসা চির অমর।
লুকিয়ে যায়
হারিয়ে যায় না।
রূপান্তর ঘটে
মৃত্যু ঘটে না।
ভালোবাসা
কখনো সঙ্গযুক্ত
কখনো সঙ্গহীন।
কখনো আনন্দ
কখনো অবসাদ।
কখনো ক্রোধ
কখনো চুম্বন।
কিন্তু এসবই তো ভালোবাসা।
চোখের বালির মতো জেগে আছো তুমি।
আমার বুকে
আমার স্বপ্নে
আমার কল্পনায়
আমার সর্ব্ব অস্তিত্বে।
চোখের বালি তুমি
হে মালবিকা।
© অরুণ মাজী
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem