তোমার খিলখিল হাসি যেখানে
আমার সুখ সেখানে।
সত্যটা কি জানো?
আজকাল
আমার সুখ অনুপস্থিত
আমার আপন ঘরে।
অথচ কদিন আগেও
আমার সুখ আমারই ছিলো।
আমার পড়ার টেবিলে রাখা
পৃথিবীর মানচিত্রে ছিলো,
অদৃশ্য বারমুডা ট্র্যাঙ্গেলের
গোলকধাঁধার মধ্যে ছিলো,
শরৎচন্দ্রের কমললতার
কামনাসিক্ত বৈরাগ্যের মধ্যে ছিলো।
আমার সুখ তখন
আমারই ছিলো, আমার ঘরেই ছিলো।
বাথরুমে গান গাইতে গাইতে
স্নানের মধ্যে ছিলো।
আমগাছের উঁচু ডালে চড়ে
নদীতে ঝাঁপানোর মধ্যে ছিলো।
ফড়িঙ লেজে দূর্বা বেঁধে
ঘুড়ি উড়ানোর মধ্যে ছিলো।
অথচ আজ নেই।
কেন নেই? চুরি গেছে!
অথচ হাতুড়ি শাবল দিয়ে
আমার ঘরের
দ্বার তো তুমি ভাঙো নি!
কোদাল গাঁইতি দিয়ে
সিঁধ তো তুমি কাটো নি!
ভাবো, চুরি না করেও
কি ভয়ানক চোর ডাকাত তুমি!
সিঁধ না কেটেও
কতসহজে আমার সুখ স্বপ্ন স্মৃতি
কেড়ে নাও তুমি!
উনিশটা বসন্ত আগলে আগলে রেখেও
তাদের কাউকে আমি
বেঁধে রাখতে পারি নি।
আড়চোখের এক ঝিলিকে
কত অনায়াসে
তাদের কেড়ে নাও তুমি!
অথচ রমণী হাসিকে আমি
তপস্যার মৃত্যু মানি।
বৈরাগ্যের সাধনা করবো বলে
ধ্যান তপস্যা সূর্য প্রণাম
কতকিছু শিখেছি আমি।
নরকের শয়তানও
কখনো ধ্যানভঙ্গ করতে পারে নি।
অথচ, তোমার কাল চোখ ?
তোমার টোল ফেলা গালের হাসি?
তোমার ভিজের ঠোঁটের আমন্ত্রণ?
এদের কাউকে তো আমি
প্রতিহত করতে পারি নি!
শ্যামলা গাঁয়ের
এক রত্তি কাজলা মেয়ে তুমি।
অথচ কিভাবে এতো সহজে
আমার সব কিছু কেড়ে নাও তুমি?
© অরুণ মাজী
Painting: Emile Vernet Lecomte
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem